বিসিবির গঠনতন্ত্রের সংশোধনী নিয়ে আপিলের শুনানি আজ
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০১৩, ২২:০৫
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গঠনতন্ত্রের সংশোধনী নিয়ে দায়েরকৃত একটি মামলা সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এডহক কমিটি নতুন করে নির্বাচন করতে পারছে না। এদিকে গঠনতন্ত্রের সংশোধনী নিয়ে করা মামলাটি আজ বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের দৈনন্দিন কার্যতালিকার ১৭ নম্বরে রয়েছে। ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বনাম ইউসুফ জামিল বাবু’ শিরোনামের এই মামলাটি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
২০১২ সালে বিসিবি গঠনতন্ত্রের যে সংশোধনী অনুমোদনের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে পাঠায়, তাতে আরও কিছু সংযোজনসহ অনুমোদন দেয় তারা। আর এই অনুমোদিত সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে মামলা করেন বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের (ফোরাম) সভাপতি ইউসুফ জামিল বাবু এবং বিসিবির সাবেক পরিচালক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। সে মামলায় সংশোধনী অবৈধ বলে রায় দেন হাইকোর্ট। এরপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিসিবি আবার রায়ের বিপক্ষে আপিল করে। আজ থেকে শুরু হবে সেই আপিলের শুনানি। আর এই মামলার নিষ্পত্তি হলেই নির্বাচনে যাবে বিসিবির এডহক কমিটি।
এদিকে আপিল বিভাগে শুনানি শুরু হওয়ার এই সময়েই ভেতরে ভেতরে নির্বাচনমুখী হয়ে উঠেছে ক্রিকেট অঙ্গন। আইসিসির নির্দেশনা অনুযায়ী সভাপতি পদে নির্বাচন করতে হবে। তাই নির্বাচনের আকর্ষণ এবার মূলত সভাপতিকে কেন্দ্র করেই। একদিকে জনশ্রুতি যে, সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন এবং ফোরামের সমর্থন তিনি পাচ্ছেন বলেও আলোচনা আছে। আবার এডহক কমিটির সভাপতি হিসাবে বর্তমানে কাজ চালানো নাজমুল হাসান পাপন এমপি ক্লাব সংগঠকদের পাশে নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বিসিবির লড়াইটা সাবের বনাম পাপন হলেও হতে পারে।
এরই মধ্যে গত পরশু, মঙ্গলবার নিজেদের কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের সঙ্গে দেখা করেছেন ফোরাম নামে পরিচিত জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের কয়েকজন নেতা। যতদূর জানা গেছে, ইউসুফ জামিল বাবুর নেতৃত্বে এই নেতাদের মধ্যে সংগঠনের মহাসচিব ও নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু, ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন আকসির, জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ রেদওয়ান, খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শামীম আহসান, গাইবান্ধা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মিলন ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ছিলেন।
তারা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে নিজেদের কিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছেন। এসব দাবির মধ্যে ছিল সরকারের বা জেলা প্রশাসকের পছন্দমতো বিসিবি কাউন্সিলর নয়, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া পরিষদের সদস্যদের ভেতর থেকেই কাউন্সিলর মনোনয়ন দিতে হবে। তারা আরও দাবি করেছেন, পরিচালকদের ভোটে নয়, কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতে হবে সভাপতিকে।
এসব দাবির ব্যাপারে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। জানা গেছে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে কথা দিয়েছেন।