হাইকোর্টকেই হাইকোর্ট দেখানো হচ্ছে!

ঢাকা ওয়াসার কোন কোন এলাকার পানি সবচেয়ে অনিরাপদ তা পরীক্ষা করতে কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে তা এখনো চূড়ান্ত করতে না পারায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে আদালত বলেছে, ওয়াসার ১১টি জোনের ২২টি স্পটের পানি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিজোন থেকে দুই বোতল করে পানি নিয়েই তো পরীক্ষা করা যায়। কিন্তু ওই পরীক্ষায় কত টাকা ব্যয় হবে তা নির্ধারণের জন্য মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত সংশ্লিষ্ট কমিটি আদালতে সময় চেয়েছে। হাইকোর্টকেই যেন হাইকোর্ট দেখানো হচ্ছে!

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বুধবারের মধ্যে পানি পরীক্ষায় অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি আদালতকে প্রতিবেদন আকারে অবহিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কমিটির পক্ষে এক সপ্তাহ সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত।

গত ৮ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয় আদালতে। এতে পানি পরীক্ষায় কমিটি গঠন ও কমিটির কার্যপরিধি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অর্থ বরাদ্দ হলে ৪ মাসের মধ্যে পানি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তখন হাইকোর্ট ঢাকা ওয়াসার কোন কোন এলাকার পানি সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ তা জানতে চায়। কিন্তু গতকাল আদালতে সময় চেয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, পানি পরীক্ষার জন্য অর্থের প্রয়োজন। সেই অর্থের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য এক সপ্তাহ সময় দরকার। এ সময় আদালত বলে, বুধবারের মধ্যে অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা না হলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিবকে তলব করা হবে।

রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ ওয়াসার ১৬টি এলাকার পানি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তিনি এই তালিকা দেন। এতে বলা হয়, এসব এলাকার পানিতে ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। এলাকাগুলো হচ্ছে: জুরাইন, দনিয়া, শ্যামপুর, উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর, লালবাগ, রাজার দেউরি, মালিবাগ, মাদারটেক, বনশ্রী, গোড়ান, রায়সাহেব বাজার, বসিলা, পল্লবী, কাজীপাড়া ও সদরঘাট।