ঈদ বাজার
কেনাকাটা জমজমাট গাউছিয়া চাঁদনী চক ও নিউমার্কেটে
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০১৩, ২২:৫১
রমজানের শুরু থেকেই জমে উঠেছে চাঁদনীচক, গাউসিয়া ও নিউমাকের্টে ঈদের কেনাকাটা। প্রধানত নারী-শিশুদের পোশাকের জন্য বিখ্যাত হলেও অন্যান্য পোশাকও মেলে এই মার্কেটগুলোতে। সে কারণে বছর জুড়ে থাকে লক্ষণীয় ভিড়। ঈদ পুজো-পার্বণ এলেতো কথাই নেই। এই মার্কেটগুলোর অন্য একটি বিষয় হলো—খুব কাছাকাছি এগুলোর অবস্থান। কেউ একজন হয়তো একটি মার্কেটকে উদ্দেশ্য করে বাড়ি থেকে বের হলেন, তিনি সহজেই অন্য মার্কেটগুলো দেখে নিতে পারেন। যানজটের ঢাকায় অন্যত্র এটি অকল্পনীয়। যারা একটু ঘুরে ঘুরে কিনতে পছন্দ করেন তাদের কাছে এটি অনেক বড় ব্যাপার।
এখানে শাড়ি, থ্রিপিস, শার্ট-পাঞ্জাবি, জুতা-স্যান্ডেল, কসমেটিক্স, অর্নামেন্টস, দর্জিবাড়ি সবকিছুই আছে। মেলে ৪৫০ থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা দামের শাড়ি, ২৫০ থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা দামের থ্রিপিস, ১০০ থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকা দামের শার্ট, ২০০ থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবি, ১৫০ থেকে শুরু করে আট হাজার টাকা দামের জুতা, ১০০ থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকা দামের স্যান্ডেল। স্বল্প থেকে অধিক মূল্যে পণ্য সামগ্রীর বিপুল সমারোহের কারণেই মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত সবার কাছেই এই মার্কেটগুলো জনপ্রিয়। তাছাড়া ঢাকার বাইরের বিভিন্ন শহর থেকে যারা ঈদের কেনাকাটা করতে ঢাকায় আসেন তাদের কাছেও এই মার্কেটগুলো সমান জনপ্রিয়।
গুলশান-২ থেকে শপিং করতে এসেছেন দুইবোন পূরবী ও সুরভী। কথা হয় পূরবীর সঙ্গে। বললেন, আজ কিনতে এসেছি আত্মীয়-স্বজনদের জন্য শাড়ি, পাঞ্জাবি। এখানে এলে সবার জন্য সবকিছু কেনাকাটা একসঙ্গে করা যায়। তাই ঘুরে ফিরে এখানেই আসি। আমরা ছোটবেলা থেকে এই মাকের্টেই কেনাকাটা করি। এখন করছি শ্বশুরবাড়ির শপিং।
গতকাল বুধবার চাঁদনীচক, নিউমার্কেট ও গাউসিয়া মার্কেট ঘুরে দেখা যায় মানুষের উপচেপড়া ভিড়। তবে এসব মানুষের মধ্যে তরুণী ও গৃহবধূদের উপস্থিতি ছিল বেশি। দেশি-বিদেশি সবধরনের থান কাপড় ও তৈরি পোশাক পাওয়া যাচ্ছে গাউসিয়া মার্কেটে। স্টার প্লাস-এর সিরিয়ালের নামে ও হিন্দি সিনেমার নামে এসব পোশাক চলছে ভালই। নূরে আজম, রেশম কা জরি, শের খান, এক ফুল দুই মালি, বাবুল কি কলি, মন মানে না, ও মাই গড, মেনে পেয়ার কিয়া, আয়শা টাকিয়া, বিপুল, বিশাল, সোনিয়া, গঙ্গা এমনসব বাহারি নামের সেলাই ছাড়া থ্রিপিসে ছেয়ে গেছে গাউসিয়া মাকের্টের প্রায় প্রতিটি দোকান।
বিক্রেতারা বলেন, বরাবরের মতোই ভারতীয় এবং পাকিস্তানি কাপড় বিক্রির শীর্ষে রয়েছে। নকশা ভেদে এসব কাপড়ের দাম গজপ্রতি ১৩শ থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। বিক্রেতারা জানালেন, শবে বরাতের পর থেকেই তাদের বেচাকেনা শুরু হয়ে গেছে।
দোলন ফেব্রিক্স-এর বিক্রয় কর্মী আবু হাসান জানান, এবার ঈদের কাপড়ের মূল আকর্ষণ হলো স্টার প্লাসের সোয়াতিসহ বিভিন্ন সিরিয়াল এবং ভারতীয় নায়িকাদের নামে লেইস লাগানো কাপড়। এছাড়া বিভিন্ন কারুকাজ করা সুতি, সিনথেটিক, ভারতীয় জরিসহ লিলেনের মাঝে পাড় লাগানো কাপড় বেশি পছন্দ করছেন ক্রেতারা। এছাড়া আছে এমব্র্রয়ডারি করা কাপড়। পিওর জর্জেট, চিনন জর্জেট, সুইট হার্ট ও মসলিনের মাঝে ছোট চুমকির কাজ করা ভারতীয় কাপড়গুলো বেশ পছন্দ করছেন ক্রেতারা। আবার আছে ছোট ও বড় ফুলেল প্রিন্টের চায়না ডিজিটাল লিলেন কাপড়। এসবের দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা।
মোহাম্মদপুর থেকে ঈদ শপিং করতে এসেছেন সুরাইয়া ও মারুফা হায়দার। তারা বললেন, এখানে এসেছি গজ কাপড় কিনতে। দামে একটু বেশি হলেও এখানে দরদাম করে কেনা যায় এবং অনেক ধরনের কাপড় থাকে এখানে। তাছাড়া থ্রিপিসের জন্য চাঁদনীচকের তুলনা হয় না। সব ধরনের থ্রিপিচ চাঁদনীচক থেকে কিনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
বিক্রেতারা জানান, এ বছরও বেক্সিভয়েলের দাম গজপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বাড়ানো হলেও গরমের কারণে বিদেশি কাপড়ের পাশাপাশি এসব দেশি ভয়েলের কাপড়ও ক্রেতারা আগ্রহ করেই কিনছেন। বাজার ঘুরে দেখা যায় সুতি কাপড় নকশা ভেদে কেনা যাচ্ছে গজপ্রতি ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায়, জর্জেট ৫০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায়, শিফন ও মসলিন ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়। ওড়নার দোকানেও বেশ ভিড়। ক্রেতারা সেলাই ছাড়া কাপড়ের পাশাপাশি ম্যাচিং করে ওড়না কিনছেন।