উখিয়ায় লক্ষ্যমাত্রানুযায়ী আমন উত্পাদন না হওয়ার আশংকা

জেলার উখিয়া উপজেলায় পানির অভাবের কারণে কৃষকরা জমিতে লাঙ্গল চালাতে পারছেন না। বীজতলা শুকিয়ে যাওয়ার কারণে করা যাচ্ছে না চারা উত্তোলন ও রোপণ। কিছু কিছু জমি চাষ করতে সেচ পাম্পের সাহায্যে কৃষকরা জমিতে করছেন পানি নিষ্কাশন। ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা এবার লক্ষ্যমাত্রানুযায়ী আমন উত্পাদন না হওয়ার আশংকা করছেন। সরেজমিনে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের খয়রাতি, হরিণমারা, সিকদার বিল ও হারাশিয়া এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার তারা পানির অভাবের কারণে অনেকেই লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করতে পারেনি। এছাড়া পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় প্রচুর জমি অনাবাদী পড়ে রয়েছে। প্রান্তিক ও বর্গা চাষিরা আগাম টাকায় বর্গা নিয়ে জমি চাষ করতে না পারায় তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। হারাশিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ (৪৫) জানান, ৫ হাজার টাকায় এক কানি জমি বর্গা নিয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, জমি চাষ করাতো দূরের কথা, জমিতে লাঙ্গল পর্যন্ত চালাতে পারিনি। হরিণমারা গ্রামের বর্গাচাষী সালামত উল্লাহ (৫৫), মিয়া হোছনসহ (৪৮) একাধিক বর্গাচাষি জানান, তারা পরের জমি বর্গা চাষ করে সংসার চালান। চলতি মৌসুমেও গত বছরের তুলনায় জমি বর্গা নিয়ে অতিরিক্ত মূল্যের শ্রমিক দিয়ে জমির পরিচর্যা করছেন। কিন্তু পানির অভাবে বীজতলা থেকে চারা নিয়ে জমিতে লাগাতে পারছেন না। টাইপালং গ্রামের প্রান্তিক চাষি বদিউজ্জামান (৪০) বলেন, সেচ পাম্পের সাহায্যে জমিতে পানি নিতে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করা হলেও শেষ পর্যন্ত জমি চাষ করা কঠিন হয়ে যাবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৫ ইউনিয়নে ৮ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২শ হেক্টর জমি চাষ শেষ হওয়ার কথা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, উপজেলার অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার জলা-ডোবা ছাড়া বাকি জমিগুলো বৃষ্টির কারণে এখনো পর্যন্ত অনাবাদী অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অনাবৃষ্টির ফলে আমন ধান চাষে ক্ষতি কেমন হতে পারে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইউছুফ ভূঞা বলেন, আবহাওয়াবিদদের তথ্যমতে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টি হতে পারে। তাহলে আমন চাষে কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। তবে কৃষিবিদ জামাল উদ্দিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বিরূপ প্রভাবের কারণে বৃষ্টি হচ্ছে না।