মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ইট ভাটার আগুনের তাপে ঝলসে গেছে কৃষকের বোরো ধান। পাকা ধানের বদলে দেখা দিয়েছে চিটা ধান। আবার কোনো কোনো ক্ষেতে ধানের ছড়া আসার আগেই আগুনের ধোঁয়ায় দেখা দিয়েছে বিবর্ণ রং। জ্বলে পুড়ে ছাড়খার হয়েছে কাঁচা পাকা ধান ক্ষেত। পাকা ধান ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে এমনটা হওয়ায় কৃষক সর্বশান্ত হয়ে পড়ছে। অনেকে ধার দেনা করে কামলা নিয়ে হাল, সার, বীজ দিয়ে ধান বপন করেছেন। কিন্তু সেই ধান ঘরে তুলতে না পাড়ায় কৃষকের এখন মাথায় হাত। শতাধিক কৃষক ফসলি জমিতে এ সমস্ত ইট ভাটা বন্ধের দাবিও তুলছে প্রশাসনের কাছে। কিন্তু কোথাও কোনো সারা মিলছে না বলে তারা জানিয়েছেন। তাদের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের হাতনী হুটইর মৌজায় অবস্থিত দক্ষিণ চকে ৪ টি ইট ভাটা রয়েছে। এসব ভাটার ঠিক উত্তর পাশে রয়েছে ৪ টি ইরি স্কিম।
ইট ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাসের কারণে কষ্টের ফসল সম্পূর্ণভাবে ঝলসে গেছে দুই শতাধিক একর জমির ধান। শওকত হোসেন নামে এক কৃষক জানান, তিনি একটি প্রজেক্টের মালিক। ৩০ বিঘা জমিতে তিনি পানি দেন। এতে করে ৪ আনা শেয়ারে সাড়ে ৭ বিঘা জমির ধান পাবেন। কিন্তু ভাটার কারণে সব ধান নষ্ট হয়ে চিটা হয়ে গেছে। ফলে তিনি এবার ধান ঘরে নিতে পারছেন না। অথচ ঋণের টাকায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। আরেক কৃষক ইউনুচ ভূইয়া জানান, ৫ হাজার টাকায় এক বছরের জন্য জমি নিয়েছেন। তিনিও টাকা ঋণ করে ক্ষেতে পানি, হাল, বীজ ও সারসহ যাবতীয় খরচ করেছেন। কিন্তু সবই বিফলে গেছে তার।
জামির্ত্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম রাজু বলেন, ইট ভাটার জলন্ত চুলা যখন হঠাত্ করে বন্ধ করে দেওয়া হয় তখন কালো ধোঁয়ার ছাই বাতাশে ছড়িয়ে পড়ে ধানের ক্ষতি হয়। যদি ১৫ দিন পর ভাটার আগুন বন্ধ করা হয় তাহলে কৃষকের এ ক্ষতি হয় না।
তিনি আরো বলেন, কৃষকের বড় ধরনের ক্ষতি হলেও আমাদের এলাকার কোনো কোনো নেতা সেটা আমলে না নিয়ে ভাটার মালিকদের চাপ দিয়ে কিভাবে ফায়দা নেয়া যায় তা নিয়ে এখন ব্যস্ত আছেন। তবে যাতে কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পায় আমি চেষ্টাই করবো।