শেয়ারবাজারের সূচক ও লেনদেন কমেছে
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৩, ২০:৪৮
টানা পাঁচ কর্মদিবস দরপতনের পর একদিন সূচক বাড়লেও গতকাল বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে ফের দরপতন হয়েছে। এদিন উভয় শেয়ারবাজারে সূচক কমার সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ছয় মাসের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ভারসাম্যমূলক বলা হলেও বিনিয়োগকারীরা মুদ্রানীতি নিয়ে খুব একটা আশাবাদী হতে পারেনি। ফলে বাজারে সূচক ও লেনদেন কমে গেছে। তবে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার মতো কোনো কিছু মুদ্রানীতিতে নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৯৭ পয়েন্ট কমে ৩ হাজার ৯৭৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মূল্যসূচক ৯৬ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৩১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৬১ কোটি টাকা কম। লেনদেনকৃত ২৮৫টি কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৭টির, কমেছে ২৩৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১০টি কোম্পানির শেয়ারের।
এদিকে পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত সব ধরনের মিউচুয়াল ফান্ড এখন থেকে রি-ইনভেস্টমেন্টের আওতায় বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে। পাশাপাশি আগের নিয়মে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণারও সুযোগ থাকছে। মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপকরা চাইলে বোনাস ও নগদ উভয় ধরনের লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে। তবে ঘোষিত লভ্যাংশের পরিমাণ ওই ফান্ডের বার্ষিক মুনাফার ন্যূনতম ৭০ শতাংশ হতে হবে। বুধবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ সংক্রান্ত বিধি সংশোধনের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। বিএসইসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রত্যেক মিউচুয়াল ফান্ড বার্ষিক হিসাব সমাপ্ত হওয়ার পর প্রতিটি ফান্ডের বা স্কিমের বিপরীতে ওই ফান্ডের ইউনিটধারীদের মধ্যে বোনাস বা নগদ লভ্যাংশ কিংবা উভয়ের সুবিধা ঘোষণা করতে পারবে। কমিশনের নিবন্ধিত সব মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে। চলতি বছরের মার্চে বিএসইসি মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০০১ সংশোধন করে। তাতে লভ্যাংশ বিতরণ ও এর সীমা সম্পর্কে বলা হয়, ফান্ডের ‘তথ্যকণিকা (প্রসপেক্টাস) বা অফার ডকুমেন্টে উল্লেখিত লভ্যাংশ বিতরণ সংক্রান্ত ঘোষণা’ অনুযায়ী নগদ বা বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে। এ সংশোধনীর পর বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণার বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জটিলতা নিরসনে আইনজ্ঞের মতামত নেয় বিএসইসি। সবশেষে বুধবারের সভায় ‘গবেষণা বিশ্লেষণ বা রিচার্স অ্যানালাইসিস’ বিধি ২০১৩-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছ। এর ফলে শেয়ার কেনাবেচায় সরাসরি মতামত দেয়ার বিষয়টি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পেল।