সিরিয়ায় অস্ত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত মার্কিন কংগ্রেসে অনুমোদন
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৩, ২১:০৩
সরকারি কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে সিরিয়ার প্রাচীন শহর হমসের জনগণ। বেসামরিক নাগরিকদের খাদ্য ও চিকিত্সা সামগ্রী অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়লেও ঐ অঞ্চলে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না সরকার। ফলে সম্ভাব্য এক মারাত্মক ‘দুঃখজনক’ পরিণতি এসব মানুষের জন্য অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি)। গত বুধবার এক বিবৃতিতে কমিটি এ তথ্য জানায়। এদিকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়ায় অস্ত্র সরবরাহ করা হবে বলে ইউএসএর কংগ্রেশনাল প্যানেলের দুইজন সদস্য নিশ্চিত করেছেন।
কমিটি জানায়, হমসে যদি শীঘ্রই প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানো না যায় তবে পুরো বিষয়টি একটা হূদয়বিদারক নাটকীয় দিকে মোড় নিবে। হমসে বিমান ও কামান থেকে গোলা ছুঁড়ে বিদ্রোহীদের ওপর ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে আসাদ বাহিনী। এ অবস্থায় সেখানে প্রবেশে মানবিকভাবে কিছু সময়ের জন্য বিরতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বলে গত শুক্রবার সংস্থাটি জানায়। সরকার ও রেডক্রস উভয়পক্ষে দীর্ঘ সময় আলোচনা হলেও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভেতরে প্রবেশে এখনো কোন অনুমতি পাওয়া যায়নি। সিরিয়ার কেন্দ্রীয় শহর এই হমস গত চার দশকে আসাদ পরিবারের শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ফল হিসাবে এখন স্বশস্ত্র বিদ্রোহীদের উপকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সাহায্যকারী সংস্থাটি জানায়, হমস শহরের ২০০০ লোক মনে করে তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ সরকারি বাহিনী অথবা বিরোধী স্বশস্ত্র বিদ্রোহীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ফলে এ অঞ্চলে প্রবেশে যথেষ্ট প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে আইসিআরসিকে।
এদিকে, সিরিয়ান রেড ক্রিসেন্টের মধ্যস্থতায় ‘মুক্তির বিনিময়ে খাদ্য’ সাহায্যের অধীনে আলেপ্পোয় বিরোধী দলের ৮০ জন সদস্যকে জেল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর এ উদ্যোগকে বিরোধী দল ও সরকারের মধ্যকার সম্পর্কে এক ইতিবাচক উন্নতি হিসাবে দেখা হচ্ছে। সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে জাতিসংঘের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তার এমন মন্তব্যের পর সামপ্রতিক সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে এমন দেখা গেল। অন্যদিকে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আসাদ সরকারের সাথে আলোচনা করতে জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ প্রধান এ্যাঞ্জেলা কেন বুধবার দামেস্কে পৌঁছেছেন।