ঈদে আবারও অনন্ত-শাকিব লড়াই

ঈদের চলচ্চিত্র মুক্তি নিয়ে আলাদা এক উত্সব শুরু হতো একসময়। এক ডজনেরও বেশি ছবি মুক্তি হতো। তবে সেই সুমধুর স্মৃতি ধীর গতিতে হলেও আবার যেন ফিরে আসছে। এবারের ঈদে ছবি মুক্তি পাচ্ছে তিনটি। আর চলচ্চিত্রের ধরন হিসেবে গত ঈদের মতো এবারেও শাকিব খান ও অনন্তের ভেতরেই লড়াই হবে বলে স্পষ্ট। কারণ সাকুল্যে যে তিনটি ছবি মুক্তি পাবে এর ভেতরে শাকিব অভিনীত দুটি এবং অনন্ত অভিনীত একটি চলচ্চিত্র। তাই হিসেবের অংকে অনেকটাই এগিয়ে এমএ জলিল অনন্ত। তার অভিনীত ছবির নাম ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’। এদিকে গেল ঈদে শাকিব খান গড়পরতা ছবি করলেও এ বছর খানিকটা সচেতন হয়েছেন নিজের ছবির ব্যাপারে। একদিকে এমএ জলিল অনন্তের বিগ বাজেটের চলচ্চিত্র ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’য় জুটি হিসেবে থাকছে যথারীতি বর্ষা। অন্যদিকে শাকিব খান তার পরীক্ষিত জুটি অপু বিশ্বাসের সাথে ‘মাই নেম ইজ খান’-এর বাইরে এবারে এক অর্বাচীন অভিনেত্রী মাহির সাথে অভিনয় করেছেন শাকিব খান। প্রথম দিকে শাকিব খান নিজেও মাহির বিপরীতে এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সাথে দ্বন্দ্বের সূত্র ধরেই ছবিটি করতে নারাজ ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আবার নাটকীয়ভাবে তাদের মিলন হলে ছবির কাজ শুরু হয়। প্রথম দিকে গুঞ্জন ওঠে ‘ভালোবাসা আজকাল’ চলচ্চিত্রে অতিথি চরিত্রে কাজ করছেন শাকিব। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় তিনি পুরো ছবির মূল নায়কের চরিত্রে কাজ করছেন। এদিকে অনন্তর ‘মোস্ট ওয়েলকাম’ চলচ্চিত্রটির সাফল্যের পর এবারের ঈদে তার সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বছর। সেই চেষ্টাতেই তিনি এগোচ্ছেন। এ ছাড়া ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রে অনন্ত-বর্ষার বাইরে দেশীয় চলচ্চিত্রে প্রখ্যাত অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কাজ করছেন। এ ছাড়া অনন্ত ও শাকিবের ছবির ভেতরে আরও একটি পার্থক্য হলো অনন্ত এবারে নিজের পরিচালনা ও প্রযোজনায় ছবি নির্মাণ করছেন। অন্যদিকে শাকিব খান করছেন অন্যের পরিচালনায় ও দুটি আলাদা আলাদা প্রযোজনার ছবি। যেমন কমার্শিয়াল ছবির নির্মাতা পিএ কাজলের ‘ভালোবাসা আজকাল’ ছবিটি করলেও এই ছবিটি মূলত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে প্রচারই বেশি হয়। এমনকি এই বিতর্কিত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান তাদের পোষ্টার ও ব্যানারে অসঙ্গত কারণে পরিচালকের নামকে হেয় করে ছোট করে দেখিয়ে থাকে। সেদিক দিয়ে শাকিব খান দুটি আলাদা আলাদা ব্যানারে কাজ করায় মূলত নিজের সাথেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা উঠে আসবে।’ এ ছাড়া দুজনার চলচ্চিত্রের বাজেটের দিক দিয়ে হিসেব করলে শাকিব খানের দুটি ছবির বাজেট এক করলেও অনন্তের চলচ্চিত্রের বাজেটের অর্ধেক পূরণ হয় না। তবে এ ক্ষেত্রে অনন্তেরও একটি ঝুঁকি রয়ে যায়। তা হলো এত লগ্নির ছবি সারাদেশে ব্যাপক হারে প্রজেকশন হলেও তা লাভের খাতায় উঠে আশাটা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। এখন সব সাফল্য বা লাভ-ক্ষতির মূল চাবিকাঠি আছে মূলত দর্শকদের হাতে। তাই তাদের গ্রহণ বর্জনেই দেখা যাবে এবারের ঈদে কে এগিয়ে থাকেন অনন্ত না শাকিব খান!