শিক্ষা উপকরণের বাড়তি দাম

প্রতিবছরই পেন্সিল, রাবার, শার্পনার, রং পেন্সিল, বল পয়েন্ট কলম ও ড্রইং খাতাসহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়েই চলেছে। প্রতিষ্ঠান ও পণ্যভেদে এসব উপকরণের দাম ১ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বেশিরভাগ কোম্পানিই বাড়িয়েছে দাম। যারা এখনও বাড়ায়নি, তারাও এসব উপকরণের দাম বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে। সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে বোর্ডের বই দিলেও শিক্ষা উপকরণ কিনতে দেশের স্বল্প ও মধ্য আয়ের অভিভাবকরা বাড়তি চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। শিক্ষা উপকরণের দাম এমনিতেই আগে থেকে বেশি, তার ওপর এখন নতুন করে বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে অভিভাবকদের। ভর্তিসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয়ের পর বর্ধিত দামে শিক্ষা উপকরণ কিনতে হচ্ছে তাদের। নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের বিভিন্ন উপজেলার স্টেশনারি দোকানে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ফেভার ক্যাসেলের এক ডজন পেন্সিলের ১৫০ টাকার বক্সের দাম এখন ১৭০ টাকা। ১৬০ টাকার রং পেন্সিলের বক্স হয়েছে ২৪০ টাকা। আর ১২০ টাকারটি হয়েছে ১৭০ টাকা। মেটাডোর ৩৪ টাকার এক ডজন পেন্সিলের বক্স হয়েছে ৪২ টাকা। নটরাজ কোম্পানির ৯০ টাকার ৪০টি রাবারের বক্স হয়েছে ১১৫ আর ৩২ টাকার ১০টি রাবারের এক প্যাকেটের দাম হয়েছে ৩৯ টাকা। এই কোম্পানির ৭৫ টাকার এক প্যাকেট শার্পনারের দাম হয়েছে ৯৫ টাকা। ড্রইংয়ের বাঁধাই করা খাতা যেটি আগে ১২০ টাকা ছিল সেটির দাম ১৫০ টাকা হয়েছে। প্লাস্টিকের পেন্সিল বক্সপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। শিক্ষা উপকরণ তৈরির কাঁচামাল, উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়াই দাম বৃদ্ধির মূল কারণ বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তার ওপর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বাড়ার প্রভাবও পড়েছে বলে দাবি তাদের। তবে আমদানিকারক পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির কথা সেভাবে স্বীকার করা হচ্ছে না। পেন্সিল ও কলম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সেল এন্টারপ্রাইজের সেল ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কোম্পানি থেকে পেন্সিল, কলমের দাম বাড়ানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের দাম বাড়ায় আমাদেরও বাধ্য হয়ে পেন্সিল, কলম, রাবার, শার্পনার ইত্যাদির দাম বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম তিন শতাংশ বাড়লে পেন্সিল ও কলমের দাম পাঁচ শতাংশ বেড়ে যাবে। খুচরা বাজারে স্বাভাবিকভাবেই আরো কিছু বাড়বে। বাংলাদেশে ব্যবহূত পেন্সিল, রাবার, শার্পনার, রং পেন্সিলসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ দেশে তৈরি হয় না, সবই আমদানি করতে হয়। পুরোপুরিই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আর আমদানি করা এসব পণ্যের বেশিরভাগই চীনের। এছাড়া ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে কিছু পণ্য আমদানি করা হয়। দেশের ১০ থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য আমদানি করে দেশ জুড়ে বিপণন করে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার ও ডিজেলের দামের ওঠানামার সঙ্গে এসব পণ্যের দামও ওঠানামা করে বলে জানান আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। বলপয়েন্ট কলমের মধ্যে ইকোনো ও মেটাডোর ছাড়া বাকি প্রায় সবই আমদানি করা হয়। এর বেশিরভাগ আসে ভারত থেকে। বাধাই করা খাতা দেশে উত্পাদিত কাগজ দিয়েই বেশিরভাগ তৈরি করা হয়। এছাড়া বিদেশ থেকে কাগজ আমদানি করেও কিছু প্রতিষ্ঠান এসব খাতা তৈরি করে। কাগজের দাম পাইকারি বাজারে বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও খুচরা বাজারে কিছুটা বেড়েছে। ফেভার ক্যাসেলের বিতরণ ইনচার্জ শাহ পরান বলেন, গত বছর মার্চের দিকে এই কোম্পানির পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এরপর সেভাবে আর বাড়েনি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের কাঁচামালের দাম বেড়ে গেলে অভ্যন্তরীণ বাজারেও বাড়ে। এছাড়া কোম্পানির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে অফিসের খরচ খুব বেশি বেড়ে গেলে তা সমন্বয় করতেও পণ্যের দাম কিছুটা বাড়ানো হয়।