দেশে দারিদ্র্যের হার ২১.৮০ শতাংশ

পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। ২০১০ সালে এই হার ছিল সাড়ে ৩১ শতাংশ। গতকাল সোমবার আগারগাঁওয়ের বিবিএস কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ সময় ২০১৮ সাল পর্যন্ত দারিদ্র্যের একটি প্রক্ষেপণও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০১৮ সালে দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছে ২১ দশমিক ৮০ শতাংশে। এছাড়া অতিদরিদ্রের হার ২০১৬ সালের ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ থেকে ২০১৮ সালে ১১ দশমিক ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন খানা আয়-ব্যয় জরিপ প্রকল্পের পরিচালক ড. দীপঙ্কর রায়। এ সময় প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বিবিএস মহাপরিচালক ড. কৃষ্ণা গায়েন। জরিপের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশের প্রতিটি খানার মাসে গড় আয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯৮৮ টাকায়। ২০১০ সালে খানাপ্রতি গড় আয় ছিল ১১ হাজার ৪৭৯ টাকা। এ সময়ে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫৫৩ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৪০ টাকায়। আয়ের পাশাপাশি পরিবারপ্রতি ব্যয়ও বেড়েছে। ২০১৬ সালে খানাপ্রতি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭১৫ টাকায়। ২০১০ সালে প্রতিটি খানার আয় ছিল গড়ে ১১ হাজার ২০০ টাকা।

মাথাপিছু আয় ও ব্যয় বাড়লেও খাদ্যগ্রহণের পরিমাণ কমেছে বলে জানিয়েছে বিবিএস। ২০১০ সালে মাথাপিছু ৪১৬ গ্রাম ভাত গ্রহণ করা হলেও ২০১৬ সালে এর পরিমাণ নেমেছে ৩৬৭ গ্রামে। মাথাপিছু ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ ২০১৬ সালে ২ হাজার ২১০ কিলো ক্যালরিতে নেমে এসেছে। ২০১০ সালে মাথাপিছু গড়ে ২ হাজার ৩১৮ কিলো ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করা হতো।  তবে মাছ, সবজি, মাংস ও  ডিম খাওয়ার পরিমাণও বেড়েছে। কমেছে ফল, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যগ্রহণের পরিমাণ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর থেকে অর্থ ব্যয়ের বড় অংশ খাদ্য কিনতে ব্যয় করা হলেও এবার খাদ্যবহির্ভূত খাতে বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। শিক্ষিতের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশে, যা ২০১০ সালে ছিল ৫৭ দশমিক ৯ শতাংশ।