কো পা লি বা র তা দো রে স
শেষ হাসি রোনালদিনহোর ক্লাবের
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৩, ২২:১৪
আগের দিনই বড় লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন রোনালদিনহো। কোপা লিবারতাদোরেসের শিরোপা লড়াইয়ের প্রথম লেগে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর নিজেদের মাঠে ‘বড় কিছু’ করা ছাড়া বিকল্প ছিল না রোনালদিনহো’র দলের সামনে। শেষ পর্যন্ত তাই করে দেখালো ফিফার দুইবারের বর্ষ সেরা এ খেলোয়াড়টির দল অ্যাতলেটিকো মিনেইরো, প্যারাগুয়ের ক্লাব অলিম্পিয়াকে নির্ধারিত সময়ে দুই গোলে হারানোর পর টাইব্রেকারেও জিতে।
মিনেইরো দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ হিসেবে খ্যাত এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের শিরোপা জিতলো। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকালে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে জয়ের সুবাদে রোনালদিনহো দুটি ভিন্ন মহাদেশের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের বিরল কৃতিত্বের ভাগীদার হলেন। তার আগে অবশ্য এ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন ব্রাজিলের দিদা, কাফু ও রোক জুনিয়র এবং আর্জেন্টিনার কার্লোস তেভেজ, ওয়াল্টার স্যামুয়েল ও হুয়ান পাবলো সোরিন। আবার ব্রাজিল দলে ফিরতে মরিয়া রোনালদিনহো এর আগে ২০০৬ সালে বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলেন।
স্বাগতিকদের পক্ষে ৪৬ মিনিটে গোলের সূচনা করেন জোয়াও অ্যালভেজ জো, যিনি এ টুর্নামেন্টে সাতবার লক্ষ্যভেদের সুবাদে শীর্ষ গোলদাতা। অপরদিকে ৮৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন লিওনার্দো সিলভা। অতিরিক্ত সময়েও কোন গোল না আসায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে শেষ হাসি হাসে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি। টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয়ী হয় মিনেইরো।
ব্রাজিলের ফুটবলে মিনেইরো শক্তিশালী ক্লাব হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের যথেষ্ঠ সাফল্য ছিল না। গেল বছরের ব্রাজিলিয় চ্যাম্পিয়নশিপে ফ্লুমিনেসের কাছে রানার্স আপ হয় তারা। তাদের একমাত্র লিগ সাফল্যটিও দূর ১৯৭১ সালে পাওয়া। মিনেইরোর জয়ে এ নিয়ে টানা নবম বছর ব্রাজিলের কোন না কোন ক্লাব কোপা লিবার্তাদোরেসের ফাইনালে খেলার কৃতিত্ব দেখালো। শুধু তাই নয় এ নিয়ে গত চারটি শিরোপাই এলো ব্রাজিলে। গেলবার চ্যাম্পিয়ন হয় করিন্থিয়ান্স, সান্তোস জেতে ২০১১ সালে। তার আগের বছরেরটি জেতে ইন্টারন্যাচিওনাল।
রোনালদিনহো খেলা শেষে বলেন, ‘এ কারণেই আমি ব্রাজিলে ফিরে এসেছি। কয়েক মাস আগে কেউ কেউ বলেছিল আমি আর জো নাকি ফুরিয়ে গেছি। কিন্তু, আমরা তাদের ভুল প্রমাণ করতে পেরেছি।’ বিপক্ষ দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্সেলোনা ও এসি মিলানের সাবেক এই তারকা বলেন, ‘আমি অলিম্পিয়াকে অভিনন্দন জানাতে চাই, কারণ ফাইনালে পৌঁছানো কোনভাবেই সহজ কোন কাজ নয়। যোগ্যতা দিয়েই তারা এই পর্যায়ে এসেছে।’
চতুর্থবারের মতো টুর্নামেন্টটির শিরোপা জয়ের হাতছানি ছিল অলিম্পিয়ার সামনে। কিন্তু ৮৫ মিনিটের পর তাদের দশজন নিয়ে খেলতে হয়। অবশ্য এ হারের পরও হতাশা লুকিয়ে দলটির কোচ এভার আলমেইদা বলেন, ‘সব কিছুর পরেও আমি দলের খেলোয়াড়দের চেষ্টার জন্য গর্ববোধ করছি। ফাইনালে আমরা গোল করার অনেক সুযোগ নষ্ট করেছি। ফাইনালে এমন হলে জয়ের আর কোন সুযোগ থাকে না। তবে, ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানো অনেক বড় ব্যাপার। তাই সমর্থকরা আশা করি আমাদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টই হবে।’ মহাদেশীয় এই ফুটবল প্রতিযোগিতার শেষটা অবশ্য মোটেও ভাল হয়নি। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চলার সময়ই দুদলের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।