মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ফোনে নজরদারী অব্যাহত রাখার পক্ষে

বহুল আলোচিত হ্যাকিং কার্যক্রমের পক্ষে ভোট দিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। দেশে-বিদেশে অনেক আলোচনা-সমালোচনার পরও ফোনে নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পক্ষেই থাকলেন আইনপ্রণেতারা। ফোনে নজরদারি কার্যক্রম সীমিত করার জন্য আনা প্রস্তাবটি সামান্য ভোটের ব্যবধানে নাকচ হয়ে গেছে। খবর বিবিসি ও এএফপির। জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) গোয়েন্দা নজরদারি কর্মসূচির মাধ্যমে লাখ লাখ মার্কিন নাগরিকের টেলিফোন উপাত্ত সংগ্রহের কথা ফাঁস হওয়ার পর টি পার্টি রিপাবলিকানস ও ডেমোক্রেটদের একটি জোট এনএস’র কার্যক্রম হ্রাসের এই প্রস্তাব সমর্থন করে। কিন্তু প্রস্তাবটি বুধবার ২০৫-২১৭ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। মিশিগানের রিপাবলিকান জাস্টিন আমাশ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। হোয়াইট হাউস ও কিছু সিনিয়র কংগ্রেস সদস্য এর বিরোধিতা করেন। বিরোধিতাকারীদের মধ্যে ছিলেন পরিষদের রিপাবলিকান নেতৃত্ব এবং সিনেট ও হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির প্রধানগণ। ভোটাভুটির আগে উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্কে অংশ নিয়ে আমাশ বলেন, সরকার সন্দেহাতীতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ফোন রেকর্ড সংগ্রহ করে থাকে। সরকার নাগরিক ‘অধিকার লংঘন থেকে যুক্তিযুক্ত প্রমাণ করতে ‘আতঙ্ক’কে ব্যবহার করছে। হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান মাইক রজার্স মার্কিন সরকারের তিনটি শাখার জোরালো তদারকির প্রসঙ্গ উল্লে¬খ করে বলেন, গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম বাতিল করা হলে জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন হবে। ২০১১ সালে নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে হামলার ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের স্মৃতি কি এতোই ঝাপসা হয়ে গেছে। আমরা ১১ সেপ্টেম্বর কি হয়েছিল তা ভুলে গেছি? এই সংশোধনী পাস হলে আমরা আবার ১১ সেপ্টেম্বর পূর্ব সময়ে ফিরে যাবো যখন এ ধরনের উপাত্ত সংগ্রহ ছিল সীমিত। রিপাবলিকান জো বার্টন যুক্তি দেখান, চলমান তদন্তের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের অনুমতি দানকারী প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট অপব্যবহার করে প্রতিটি মার্কিন নাগরিকের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জেমস ক্ল্যাপার বলেন, তার অগ্রাধিকার হলো সব সময় আইনের শাসন এবং নাগরিক স্বাধীনতা ও প্রতিটি আমেরিকানের ব্যক্তিগত গোপনিয়তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে অর্থপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ। ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি নিউজ পরিচালিত এক নতুন জরিপে দেখা যাচ্ছে যে, দুই তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক মনে করে, এনএসএ কর্মসূচি কিছু মার্কিন নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করছে। সাবেক এনএসএ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেন গোয়েন্দা নজরদারির নামে মার্কিন নাগরিকদের টেলিফোন ও ইন্টারনেট উপাত্ত সংগ্রহের কথা ফাঁস করে দেয়ার ছয় সপ্তাহ পর এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হল। স্নোডেন হংকং হয়ে মস্কো পালিয়ে যান। সেখানে তিনি এক মাস ধরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আছেন।