এমপি রনি কারাগারে

সাংবাদিকদের মারধর ও হত্যা চেষ্টার মামলায় সরকার দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক এসএম আশিকুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার রনির জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিলে দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে গতকাল রাত পৌনে আটটার দিকে তাকে কাশিমপুর-২ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারিনটেনডেন্ট ফরমান আলী জানিয়েছেন, গোলাম মাওলা রনি জনপ্রতিনিধি হিসাবে কারাবিধি অনুযায়ী ভিআইপি মর্যাদায় সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। আমাদের কোর্ট রিপোর্টার জানান, গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দফতর থেকে একটি সাদা রংয়ের গাড়িতে করে এমপি রনিকে নিয়ে যাওয়া হয় আদালতে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কোন রিমান্ড আবেদন না থাকায় তাকে আদালতের হাজতখানায় গাড়িতে রেখেই বেলা পৌনে একটার দিকে তার পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। জামিন আবেদনের শুনানিতে আসামি পক্ষের অ্যাডভোকেট কবির হোসেইন বলেন, ‘সেদিন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। আমরা এজন্য দুঃখিত। গোলাম মাওলা রনি একজন সম্মানিত সংসদ সদস্য ও আইন প্রণেতা।’ তিনি আরও বলেন, আসামির জামিন বাতিলের আবেদন করতে হলে আসামির উপস্থিতিতেই শুনানি হতে হবে বলে আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে। আর ওই শুনানিতে আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিস দিতে হবে। রনিকে আদালত থেকে কোনো নোটিস দেয়া হয়নি। কবির হোসেইন বলেন, এছাড়া জামিনে গিয়ে গোলাম মাওলা রনি বাদীকে হুমকি দিয়েছেন বলে বাদী যে অভিযোগ করেছেন তা অসত্য। একটি ল্যান্ডফোনে বাদীকে হুমকি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ল্যান্ডফোনে কোন্ নম্বর থেকে ফোন দেয়া হয়েছে তা বাদী উল্লেখ করেননি। এমনকি পুলিশি তদন্তেও ফোন নম্বরটির কথা উল্লেখ নেই। কাজেই পুলিশি প্রতিবেদনের বিষয়টিও বিশ্বাসযোগ্য নয়। আসামি পক্ষের আইনজীবী আদালতে আরও বলেন, মামলার এজাহারে দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারার অভিযোগ ছাড়া আর যে কয়টি ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার প্রত্যেকটি জামিনযোগ্য। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউশন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মিরাশ উদ্দিন বলেন, আসামি একজন আইন প্রণেতা হয়ে আইন ভঙ্গ করেছেন। আবার জামিন পেয়ে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। আসামিকে পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জামিন দেয়া হলে তদন্তে এর প্রভাব পড়বে ও বিঘ্ন ঘটবে। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে আটক রাখা হোক। বাদীর আইনজীবী আজিজুর রহমান বলেন, আদালত থেকে জামিন নিয়ে গোলাম মাওলা রনি জামিনের অপব্যবহার করেছেন। তিনি বাদীকে ক্রমাগত মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছেন। পুলিশ তদন্ত করে বাদীর অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন। কাজেই রনির জামিন বাতিল করতে পারেন আদালত। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে রনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। শুনানিকালে মামলার বাদী ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউনুস আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে রনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়ার পর আওয়ামী লীগ থেকে তাকে বহিষ্কারের দাবিতে আদালত এলাকায় তার নির্বাচনী এলাকার কিছু নেতাকর্মী মানববন্ধন করেন। প্রসঙ্গত, গত ২০ জুলাই রাজধানীর তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজার ৯ম তলায় ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক ইমতিয়াজ সনি ও ক্যামেরাম্যান মহসিন মুকুল সংবাদ সংগ্রহের কাজে গেলে এমপি রনির নেতৃত্বে তাদের মারধর করা হয় ও আটকে রাখা হয়। এ ঘটনায় ওইদিন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সহকারী ব্যবস্থাপক ইউনুস আলী বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। পরদিন রবিবার রনি ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। জামিন নিয়ে আসামি ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করে বাদী আসামির জামিন বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করেন। গত বুধবার বেলা দুইটার দিকে মুখ্য মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনান জামিন বাতিল করে রনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওইদিনই বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।