রাজধানীতে গুলি করে সাবেক স্ত্রীকে অপহরণের চেষ্টা

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার সিলেটি পাড়ার (১১০ মনেশ্বর রোড) শেখ ভিলা থেকে গত বুধবার রাতে সাবেক স্ত্রীকে অপহরণের চেষ্টার সময় অস্ত্রসহ এক যুবক ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এলাকাবাসী ওই যুবক ও তার সহযোগীকে ঘেরাও করলে তারা ২ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেও ঘরে আটকা পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি পিস্তল ও ১১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। নাজমুল আনন্দ হাজারী বলেন, ‘আমার বোন সোফরুন সুলতান প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে তিন বছর আগে ফেনী সদরের রায়হানের বিয়ে হয়। ছয় মাস আগে তাদের তালাক হয়ে যায়। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির মালিক আমিনা রহমান দরজায় ধাক্কা দিলে আমার অপর বোন দীনা হাজারী দরজা খুলে দেন। এ সময় রায়হান ও তার সহযোগী লিটন আমার বোনকে অপহরণ করতে পিস্তল নিয়ে বাসার ভেতরে ঢোকে। আমি বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তারা আমার মাথায় আঘাত করে। আমার বোন দীনা ডাকাত বলে চিত্কার শুরু করলে আশপাশের লোকজন বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এসময় লোকজনকে লক্ষ্য করে তারা ২ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। এদিকে, বাসার মধ্যে যখন গোলমাল চলছিল ঠিক সেই সময়ে বাইরে থেকে কেউ একজন দরজা বন্ধ করে দিলে দুই যুবক আটকা পড়ে। বাড়ির মেজো জামাই মেহেদী বলেন, ‘রায়হান ফেনীর চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার জাল টাকা, মাদকদ্রব্য এবং অস্ত্রের ব্যবসা রয়েছে। এসব কারণে ছয় মাস আগে প্রিয়াঙ্কার সাথে তার তালাক হয়ে যায়। তাদের দুই বছরের একটি শিশু কন্যা রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ‘পাশের বাসা থেকে হঠাত্ ডাকাত চিত্কার শুনে আমরা একত্রিত হই। এ সময় দুই রাউন্ড গুলির শব্দও শোনা যায়। ডাকাত চিত্কার শুনে থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ দুইজনকে আটক করে।’ হাজারীবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইকবাল বলেন, ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ গেলে দুই যুবক ভেতর থেকে দরজা আটকে দেয়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের আটক করা হয়। পরে জানা ?যায় পারিবারিক কলহের জের ধরে তারা অপহরণ করার চেষ্টা করে। তবে তদন্ত না করে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। এর মধ্যে মূল অভিযুক্ত রায়হানকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টার পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ওসি। তবে রায়হানের ভাগ্নে আলাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রিয়াঙ্কা দুশ্চরিত্রা মহিলা। তার সঙ্গে অনেক পুরুষের সম্পর্ক রয়েছে। এর আগেও সে একাধিক বিয়ে করেছে। সে নানা ছলনায় ফেলে রায়হানকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তাদের বনিবনা হচ্ছিল না। অন্য পুরুষের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার সম্পর্কের বিষয়টি রায়হান জানতে পারলে মনোমালিন্য তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রিয়াঙ্কা ছয় মাস আগে দেড় বছরের শিশু কন্যাকে ফেলে ফেনী থেকে ঢাকায় বাবার বাড়ি চলে আসে। এরপর আর ফিরে যায়নি। পারিবারিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ওই দিন রাতে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে রায়হান ওই বাড়িতে যায়। এরপরই তারা ডাকাতির নাটক সাজিয়ে রায়হানকে বেদম মারধর করে। রায়হানের শরীরে গুলি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এখন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে।’