যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গার্মেন্টসের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চাই
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৩
সমপ্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্থগিত করে দেয়া অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সেইসাথে এই সুবিধায় গার্মেন্টস খাতকেও অন্তর্ভুক্ত করা অর্থাত্ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বিজিএমইএ নেতাদের সাথে এক বৈঠক করেন। বৈঠকে এ দাবি জানান বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম। দেশটিতে গত বছর ৭৫ কোটি মার্কিন ডলার শুল্ক ও কর দিয়েছে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক খাত।
সমপ্রতি জিএসপি পুনর্বহালের জন্য বাংলাদেশকে ১৫টি শর্ত পূরণ করার কথা বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। মজীনা ওই সব শর্ত পূরণ করার জন্য তাগিদ দিতেই মূলত গতকাল বিজিএমইএতে এসেছিলেন। এছাড়া বৈঠকে সম্প্রতি পাস হওয়া শ্রম আইনের সংশোধনী নিয়েও কথা হয়। নতুন আইনটি মালিকপক্ষের জন্য অনেক কঠিন হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ। তারা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন, কারখানা বন্ধ করার বিষয়ে মালিককে অনেক কঠিন শর্তের মধ্যে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানায় কমপ্লায়েন্সের (কর্মপরিবেশ) অভাব ও শ্রমিকদের অধিকার যথাযথভাবে মানা হয় না , এমন যুক্তিতে সমপ্রতি দেশটির বাজারে বাংলাদেশকে দেয়া জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়। যদিও সেখানে প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক এই সুবিধা পায় না।
বৈঠকশেষে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আমরা জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছি। এছাড়া দেশটিতে বাংলাদেশি গার্মেন্টস পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে ৭৫ কোটি ডলার শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হয়। আমরা এই শুল্ক-কর বাতিল করারও দাবি জানিয়েছি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা তো ভালো কাজ করছি। আমাদের এই সুবিধা দেবে না কেন?
বৈঠকের আলোচনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ড্যান মজীনা বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত বর্তমানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। জিএসপি ফেরত পেতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে তার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে আমরা একসাথে কাজ করব। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে সেরা ব্র্যান্ড হবে। এ জন্য রানা ও তাজরীনের মত ঘটনা যাতে না ঘটে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। গতকাল সকালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধিরাও বিজিএমইএ সভাপতির সাথে বৈঠক করেন।