এমপি হোস্টেলে উদ্ধার সেই তরুণীর লাশের পরিচয় মিলল না

জাতীয় সংসদ ভবনের এমপি হোস্টেল থেকে উদ্ধার করা সেই অজ্ঞাত তরুণীর লাশের কোন পরিচয় উদঘাটিত হলো না। পরিচয় অনুদঘাটিত রেখেই এই ঘটনার দায়ের করা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে মামলার তদারকি কর্মকর্তা ডিবির সহকারী কমিশনার বাকী বিল্লাহ ইত্তেফাককে জানান, লাশের পরিচয় উদঘাটনের জন্য সব চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এর কোন কুলকিনারা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ডিবি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়া হবে। ঐ তরুণীর নাম-পরিচয় জানতে জাতীয় সংসদের ১৫ জন সংসদ সদস্যসহ ৫০ জনকে জিজ্ঞাসা করেছে পুলিশ। মামলার তদন্তভার ডিবিতে স্থানান্তর হওয়ার আগে শেরেবাংলা থানা পুলিশ তদন্ত করে। ঐ সময়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আজিম উদ্দিন গতকাল ইত্তেফাককে জানান, মামলাটি তদন্ত করতে ওই ভবনে অফিস বরাদ্দ পাওয়া ১৫ জন এমপি’র সাথে হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সরকার দলীয় এমপি আবদুল জলিল (বর্তমানে মরহুম), নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, কামাল আহমেদ মজুমদার এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, জয়পুরহাট থেকে নির্বাচিত বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মযহারুল ইসলাম। তবে তাদের অফিস বরাদ্দ থাকলেও সেখানে তারা যেতেন না বলে জানিয়েছেন। এর মধ্যে অনেকে নিজেদের নামে অফিস বরাদ্দ থাকার বিষয়টিও জানতেন না। এমপি হোস্টেলে প্রবেশের রেজিস্টার খাতার তালিকা ধরে নিরাপত্তাকর্মী থেকে শুরু করে মালি পর্যন্ত ৩৫ জন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থলের পাশে সংসদ সদস্য নূরন্নবী চৌধুরী শাওনের অফিস। ঐ কারণে ঐ সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী বনি, অফিসের দুই পিয়ন মিজান ও ঝন্টুকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। তারপরও ঐ হত্যা রহস্যের কোনো কুলকিনারা করা যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। গত বছরে ২২ এপ্রিল সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের ৬ নম্বর ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের এমপি হোস্টেলের দ্বিতীয় তলার বাথরুমের চিলেকোঠা থেকে অজ্ঞাত তরুণীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। এ সময় ওই তরুণীর গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল এবং পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার নাড়িভুড়ি বের হয়ে গিয়েছিল এবং মুখমন্ডলও অস্ত্রের আঘাতে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির সহকারী বাকী বিল্লাহ জানান, পরিচয় শনাক্ত করতে লাশ উদ্ধারের পর প্রায় ৩০ দিন পর্যন্ত দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দৈনিকগুলোতে নিখোঁজের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। লাশ সাত দিন পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছিল। মর্গে ৩০/৪০ জন ব্যক্তি লাশ দেখেও তাকে শনাক্ত করতে পারেননি। তরুণীর পরনে থাকা লাল-কালো ছাপার ম্যাক্সিসহ উদ্ধার করা অন্যান্য পোশাক জব্দ করে রাখা হয়েছে। লাশের ছবি চন্দি মা উদ্যান এলাকার ভাসমান যৌনকর্মী এবং ঢাকা ও আশেপাশের কয়েকটি পতিতালয়েও দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় নিহত তরুণীর ছবি সম্বলিত পোস্টার লাগানো হয়েছিল। দেশের প্রত্যেকটি থানায় নিহত তরুণীর ছবিসহ মেসেজ পাঠানো হয়। তারপরও তরুণীর পরিচয় উদ্ধার করা যায়নি।