মোবারক মাহে রমজান

আজ ১৬ রমজান ও পবিত্র রমজানুল মোবারকের তৃতীয় জু’মআ। সকল মসজিদে আজ রমজানের আরকান আহকাম, ই’তেকাফ, ইফতারী, সাহারী, তারাবীহ নামাজ, যাকাত-ফেতরা ও দান-সাদকার ফজিলত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করা হবে। ঈমানদার রোজাদারগণ চোখের পানি ফেলে বিনীতভাবে রাব্বুল আলামীনের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। সারাজীবন সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে অবিচল থাকার জন্য শপথ গ্রহণ করবেন। এই রমজানে যেমনভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, তারাবীহ ও অন্যান্য নফল ইবাদতের প্রতি আমরা যত্নবান রয়েছি তেমনভাবে রোজার পরেও এই আমল ধরে রাখা একান্ত জরুরি। নামাজের প্রশিক্ষণ নেয়ার উত্কৃষ্ট সময় এই রমজান মাস। এ ব্যাপারে তাকিদ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “(মু’মিন তারাই) যারা অদৃশ্য বিষয়ের ওপর বিশ্বাস করে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে এবং তাদেরকে যে রিজিক দেয়া হয়েছে তা থেকে ব্যয় করে”(সূরা বাকারা-৩)। হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সুন্দর পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করবে। খাও, পান করো, তবে অপচয় করো না। অপচয়কারীদেরকে আল্লাহ পছন্দ করেন না (সূরা আ’রাফ-৩১)। যারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে এবং তাদেরকে যে রুজি দেয়া হয়েছে তা থেকে ব্যয় করে তারাই হলো সত্যিকার ঈমানদার। তাদের জন্যে রয়েছে তাদের প্রতিপালকের নিকট মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক রিজিক। (সূরা আনফাল-৩-৪), নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো ও আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণ করো। যাতে তোমরা সফলকাম হও (সূরা জু’মআ-১০)। অতঃপর দুর্ভোগ সেই সমস্ত নামাজ আদায়কারীদের জন্য যারা তাদের নামাজ সম্বন্ধে উদাসীন। যারা তা (নামাজ) আদায় করে লোক দেখানোর জন্য (সূরা মাউন-৪-৬)। রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, হে সাহাবিগণ! যদি তোমাদের কারো দরজার পাশ দিয়ে একটি নদী প্রবাহিত হয়, সেই নদীতে দৈনিক পাঁচবার গোসল করো, তাহলে কি তার শরীরে কোন ময়লা থাকে? তারা জবাব দিলো, না কখনো থাকবে না। রসূলুল্লাহ (স.) বলেন, এরূপই উদাহরণ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের (অর্থাত্ ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে আমলনামায় কোন গুনাহ থাকে না) বিনিময়ে আল্লাহ (নামাজির) অপরাধসমূহ মুছে দেন (বুখারী, মুসলিম)। রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, যে’ এ’শার নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করেছে সে যেনো অর্ধ রাত্রি নামাজ আদায় করেছে, অতঃপর যে ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করেছে সে যেনো পূর্ণ রাত্রি নামাজ আদায় করেছে (বুখারী)। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, জামায়াতের সাথে নামাজ আদায়কারী একাকী নামাজ আদায় থেকে সাতশ’ গুণ বেশী ফজিলতের অধিকারী (বুখারী ও মুসলিম)। রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, তোমরা মহিলাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করো না। তবে তাদের জন্যে ঘরই উত্তম (আবু দাউদ)। সুতরাং সওয়াব হাসিলের জন্য এই সুমহান মাসে আমরা রোজা পালনের সাথে সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও সঠিক সময়ে আদায় করি এবং একে জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে গেঁথে নেই। তাছাড়া কুরআন তেলাওয়াত ও তাসবীহ-তাহলীলের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার রিজামন্দি হাসিলের দিকে এগিয়ে যাই, আল্লাহ আমাদের সেই তাওফীক দান করুন, আমীন। ই-মেইল: mzhazadi@yahoo.com