শিশু অধিকার রক্ষায় আইন নয় প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেছেন, শিশু অধিকার রক্ষায় সংবিধানে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ এবং এ বিষয়ে অনেক আইন থাকলেও আজও অধিকাংশ শিশু এসব আইন থেকে বঞ্চিত। তাই শিশু অধিকার রক্ষায় আইন নয় প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। বৃহস্পতিবার নগরীর একটি হোটেলে সেভ দ্য চিলড্রেন আয়োজিত শ্রমজীবী শিশুদের অধিকার শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেভ দ্য চিলড্রেনের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ইকবাল নায়ারের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মিখাইল শিপার, শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপার্সন ড. ইমরান আলী, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সদস্য কাজী রেজাউল হক। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এফিলিয়েট ডিভিশনের বিচারপতি ইমান আলী। সেমিনারে বাংলাদেশের শিশুদের ন্যায়বিচার শিরোনামে ব্যারিস্টার নাজরানা ইমামের লেখা দুই খণ্ডের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন আরও বলেন, দেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম শিশু রক্ষা আইন হয়। ২০১৩ সালে এসে শিশু রক্ষার জন্য অনেক আইন । আইনগুলো বাস্তবায়নে এই প্রকাশনা সাহায্য করবে। এখনই ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম বন্ধে আমাদের কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য আমাদের সচেতনতা ও মনিটরিং জরুরি। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম বলেন, বাংলাদেশে শিশুদের জন্য ৩৫টি আইন আছে এর মধ্যে ২৫টি নিয়ে কথা বলা হয়। আইন করে কিছু করা যাবে না। আমাদের সকলের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। অন্য বক্তারা বলেন, অসংখ্য শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। তার মধ্যে গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুরা অধিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এসব শিশু শিক্ষা লাভের সুযোগসহ সব ধরনের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। দৃষ্টির অন্তরালে এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বসবাস করছে এসব শিশু। এদের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়া সত্ত্বেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন নীতি এখনো গৃহীত হয়নি। ফলে গৃহকর্মে নিয়োজিত লক্ষ লক্ষ শিশুর ভবিষ্যত্ প্রশ্নের সম্মুখীন। তারা বলেন, বছরে ৬শ’ কোটি ব্যয় করে ৪ লাখ শিশু গৃহশ্রমিককে ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব। কারণ ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে যাওয়ার মূল কারণ দারিদ্র্য দূরীকরণে তাদের আর্থিক সাহায্য দিতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, শ্রম আইন ও জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি ২০১০-এ ১৪ বছর বয়সের নিচে কোন শিশুকে নিয়মিত কাজে নিয়োগ ও ১৮ বছরের নিচে কোন শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োগের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অথচ কত বছর বয়সে একজন শিশুকে গৃহকর্মে নিয়োগ দেয়া যাবে সে বিষয়ে আইনে কোন নির্দেশনা নেই। অন্যদিকে সরকার কর্তৃক সম্প্রতি চূড়ান্তকৃত শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় গৃহকর্মকে সম্পৃক্ত করা হয়নি।