দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০১৩, ২১:০৮
বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুটি খুবই গুরুত্ব পেয়ে আসছে। এ নিয়ে সরকারি এবং বিরোধী দলের মধ্যে এক তুমুল তর্ক-বিতর্ক চলছে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। ঈদের পর হয়তো রাজনীতির মাঠ গরম হবে। দাঙ্গা-হাঙ্গামা, হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও শুরু হবে। চোখের সামনে হয়তো পুলিশ মার খাবে, হয়তোবা কোনো মায়ের কোল খালি হবে যা কারো কাম্য নয়। প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশের রাজনীতি হলো ক্ষমতা দখল। এইজন্য রাজনৈতিক দলগুলো ৭ম স্তর পর্যন্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজায়। কিন্তু এগুলো কখনো সফল হয়নি। কারণ বর্তমান মিডিয়া এবং ডিজিটাল ভোটার তালিকা, সর্বোপরি জনগণের সচেতনতা। মানুষ ভোট দিয়ে ভোটের ফলাফলের জন্য কেন্দ্রের চারদিকে বেষ্টনী তৈরি করে রাখে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না ফলাফল তাদের সম্মুখে প্রকাশ করা না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এক পাও নড়বে না এই অদম্য স্পৃহা সত্যি সত্যি একটি লক্ষণীয় দৃশ্য। প্রকৃত অর্থে একে গণসচেতনতা বলা যায়।
সরলভাবে কারো নিজের ব্যর্থতাকে স্বীকার করার মন মানসিকতা তো নেই, আছে বিরোধীদলকে দমন করার জন্য সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে কুত্সা রটানো। আবার বিরোধীদল একই কায়দায় সরকারি দলকে আটকানোর চেষ্টা করে। সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে শুরু হয় পুরোনো ইতিহাস দিয়ে, যার মধ্যে নেই কোনো তথ্য বা শিক্ষণীয় বিষয়। বর্তমানে নতুন কিছু ভাষা চালু হয়েছে যা আগে কেউ শোনেনি। আমাদের দেশের সংসদ সদস্যরা এখনও সেই পুরোনো রেকর্ড বাজিয়ে বড় বড় পদগুলো লাভ করেন, তাই তথ্যমূলক কোনো বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পুরোনো রেকর্ড যিনি যত জোরে বাজাতে পারেন তিনি তত বড় নেতা, বড় পদের অধিকারী।
প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজেদের দেশেপ্রেমিক, জনদরদি, বিশেষ বিশেষ বিশেষণে ভূষিত করেন যা শুনতে খুব ভালোই লাগে। কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে এদের মিল কতটুকু তা হয়তো সকলেরই জানা। আমার কথা হলো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি— আপনারা যদি সত্যি সত্যি দেশেকে ভালোবাসেন, দেশের উন্নতি ও নতুন নেতৃত্বের আশা করেন তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে একটি বিল পাস করুন যেন কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান না হতে পারেন। এতে কেউ ক্ষমতা স্থায়ীকরণের চেষ্টা করবে না। এতে করে তরুণ নেতৃত্বের সৃষ্টি হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সদ্ভাব সৃষ্টি হবে। মানুষ নতুন কিছু দেখতে পারবে। তাই আসুন দেশ ও জাতির কল্যাণে আমরা সুযোগ্য নেতৃত্বের পথ সুগম করি। যাতে ভবিষ্যতে সত্ ও ভালো মানুষগুলো সহজে রাজনীতিতে আসতে পারে। মুক্তভাবে দেশ ও জাতির জন্য চিন্তা ও চেতনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। নতুন প্রজন্মকে দাঙ্গা-হাঙ্গামামুক্ত রাজনীতি উপহার দিন।
কুমিল্লা