পাওয়ারলুমের প্রভাবে হারিয়ে যাচ্ছে হ্যান্ডলুম

এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী হস্তচালিত তাঁতের লুঙ্গির স্থান দখল করে নিয়েছে বৈদ্যুতিক পাওয়ারলুম। নরসিংদীর বাবুরহাটের (শেখেরচর) হস্তচালিত তাঁতের লুঙ্গি এখন আর সচরাচর চোখে পড়ে না। তারপরও নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার চরসুবুদ্দি, হাইরমারা, নিলক্ষা, নলবাটা, কাট্টাখালি, মনিপুরা, নরসিংদী সদরের সাটিরপাড়া, রাঙ্গামাটি, হাজিপুর, ঘোড়াদিয়া, বাবুরহাট (শেখেরচর), মাধবদী, ভগিরতপুর এবং পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল, পাইকশা, সানেরবাড়ী এলাকায় এখনও কিছু হস্তচালিত লুঙ্গি তৈরি করতে দেখা যায়। নরসিংদী সদরের হাজীপুর এলাকায় একটি বিদ্যুত্ চালিত পাওয়ারলুম ফ্যাক্টরিতে গিয়ে দেখা যায় ৬০টি মেশিনে পলিস্টার সুতা দিয়ে লুঙ্গি তৈরি করা হচ্ছে। এর মালিক নারায়ণ সাহা জানান, তার একটি মেশিনে ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৫০ থেকে ৬০ গজ কাপড় তৈরি হয়। প্রতিগজ কাপড় বিক্রি করা হয় ৩০ টাকায়। কিন্তু উত্পাদন খরচ লাগে প্রায় সমান সমান। এতে অনেক পাওয়ারলুম ফ্যাক্টরি লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। তারপরও বর্তমান বাজারদর নিম্নমুখী হওয়ায় লোকসানের মাত্রা আরো বেড়ে গেছে। তবুও ভবিষ্যতে মূল্য বৃদ্ধি ও লাভের আশায় লোকসান দিয়েও পাওয়ারলুম ফ্যাক্টরি চালিয়ে যাচ্ছেন নারায়ণ সাহা। অন্য একটি পাওয়ারলুম ফ্যাক্টরির মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার ফ্যাক্টরিতে আগে লুঙ্গি উত্পাদন করা হতো। কিন্তু পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রুহিতপুরী লুঙ্গি এখানকার বাজারে সয়লাব হয়ে যাবার কারণে প্রতিযোগিতায় আমাদের তৈরি লুঙ্গি মার খেয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে লুঙ্গির পরিবর্তে গ্রে-কাপড় ও পলিস্টার কাপড় তৈরি করে তাতে রং-এর ছাপ বসিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসি। এ কাপড়ের চাহিদা বেশি থাকায় বিদেশেও চোরাইপথে পাচার হয়ে থাকে। বর্তমানে সুতার মূল্য বেড়ে গেলেও কাপড়ের দাম বাড়েনি। একটি সুতি কাপড় তৈরি করতে গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা উত্পাদন খরচ হয়। বিক্রি করতে হয় ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা।