কাহালুতে উত্পাদিত হচ্ছে শিং মাছের রেণু ও পোনা

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় জাতীয় ভাবে স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক পাওয়া মাছ চাষি আলহাজ্ব শফিকুল ইসলামের খামারে এখন দেশীয় জাতের শিং মাছের রেণু ও পোনা উত্পাদন করা করা হচ্ছে। ১৯৯২ সালে কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের লোহাজাল গ্রামের বেকার যুবক শফিকুল ইসলাম স্বল্প পুঁজি নিয়ে পার্শ্ববর্তী বিবির পুকুর বাজার এলাকায় শাহ সুলতান শাহজালাল নামের একটি মত্স্য বীজাগার স্থাপন করেন। মাছ চাষের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি প্রথম দিকে ব্যবসায়িক ভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এরপর তিনি বগুড়ায় যুব উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে মাছ চাষের উপর ট্রেনিং নিয়ে আবার মাছ চাষ ও মাছের রেণু পোনা উত্পাদনের উপর ঝুঁকে পড়েন। পরবর্তীতে তার বীজাগারে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, বিগহেড, পাঙ্গাস, আফ্রিকান মাগুর ও তেলাপিয়াসহ বড় জাতের মাছের রেণু উত্পাদন শুরু করেন। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে তার সততা ও নিষ্ঠার কারণে এক সময়ের অর্থনৈতিক শূন্য অবস্থানের শফিকুল হিরোতে পরিণত হন। ২০০২ সালে মাছ চাষ ও মাছের রেণু ও পোনা উত্পাদনে বিশেষ অবদান রাখায় তিনি দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মত্স্য চাষি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বর্ণ পদক লাভ করেন। একই ভাবে এ বছরও তিনি জাতীয় মত্স্য সপ্তাহে/২০১৩ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক/রৌপ্য পদক লাভ করেছেন। শুধু তাই নয় তিনি জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে সফল মত্স্য চাষি হিসেবেও পুরস্কৃত হয়েছেন। বড় জাতের মাছের রেণু উত্পাদনে সফলতা আসার পর আবারও ঝুঁকে পড়েন ছোট জাতের মাছের রেণু উত্পাদনে। তিনি ২০০৫ সালে ময়মনসিং থেকে ২ হাজার থাই জাতের কৈ মাছ সংগ্রহ করে তার বীজাগারে রেখে এর থেকে রেণু উত্পাদনের লক্ষ্যে দীর্ঘ ১ বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২০০৬ সালের মার্চ মাসে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে তিনিই সর্বপ্রথম উত্তরাঞ্চলে থাই কৈ এর রেণু ও পোনা উত্পাদন করতে সক্ষম হন। থাই কৈ এর পর পাবদা,গুলসা (টেংরা জাতীয়) নামের ছোট জাতের মাছের রেণু উত্পাদন করে বাজারজাত করেন। বর্তমানে তিনি বড় ও ছোট জাতের বিভিন্ন মাছের পাশাপাশি দেশীয় জাতের শিং মাছের রেণু পোনা উত্পাদন করছেন। তার উত্পাদিত রেণু পোনা অত্র এলাকাসহ জেলার বাইরে যাচ্ছে।