দৌলতপুরে পদ্মায় ভাঙন
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০১৩, ২১:১৫
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের আবেদের ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ৬টি গ্রাম। ইতিমধ্যে সেখানকার দু-শতাধিক ঘর-বাড়ি পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে ২/৩ দিনের মধ্যে সেখানকার কয়েক হাজার ঘর-বাড়িসহ ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা পদ্মায় বিলীন হয়ে যাবে। এদিকে পদ্মার করাল গ্রাস থেকে রক্ষার জন্য ব্যানার ফেস্টুন ও শরীরে লিখে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঐ এলাকার আবাল বৃদ্ধ বণিতা নদীপাড়ে অবস্থান নিয়েছে।
ভাঙন কবলিত মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ফিলিপনগর ইউনিয়নের আবেদের ঘাট এলাকার পূর্বদিকে পদ্মা নদীতে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্লক নির্মাণের কাজ শুরু হলে আবেদের ঘাট এলাকা ও এর পশ্চিম দিকে ভাঙন শুরু হয়। ফলে আবেদের ঘাট, ইসলামপুর, হাজীর হাট, বৈরাগী পাড়া, জামাই পাড়া ও চাইপাড়া এলাকার ৩শ‘ একর আবাদি জমি এবং দু-শতাধিক ঘর-বাড়ি গত ১ সপ্তাহে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে ৬টি গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার এবং ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর মাদ্রাসা, ইসলামপুর জামে মসজিদ, পিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ ১৫টি সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম জানান, যেভাবে ভাঙনের গতি বাড়ছে তাতে আগামী ৩/৪ দিনের মধ্যে তার বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবাইদুর রহমান জানান, পদ্মার বর্তমান অবস্থা খুবই বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের সংকট মোকাবিলার জন্য কোন বরাদ্দ না থাকায় আপাতত কিছুু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে, আমরা এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে জরুরি পত্র প্রেরণ করছি।
কাউখালী উপকূলীয় চরাঞ্চলে হাজারো মানুষ পানিবন্দী
কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
জলবায়ু পরিবর্তনে কাউখালীর উপকূলীয় চরাঞ্চল কয়েক দফা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গত কয়েকদিন প্রায় বিশ হাজার মানুষ পানিবন্দী। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পূর্ণিমা ও অমাবশ্যার জোয়ার, একটানা প্রবল বর্ষণ এবং সমুদ্রে নিম্নচাপের কারণে উপজেলার আমরাজুড়ী, আশোয়া, মেঘপাল, সয়না রঘুনাথপুর, হরিণধরা, শির্ষা, কুমিয়ান, সুবিদপুর, নিলতী, চিরাপাড়া, পাঙ্গাসিয়া, সাপলেজাসহ ৪২টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। এসব এলাকার আমন বীজতলা সম্পূর্ণ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বহু মাছের ঘের ভেসে গেছে। পানিবন্দী এলাকায় সাপসহ বিভিন্ন পোকা-মাকড়ের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। তাদের নির্ঘুম রাত কাটে। গত ৪ দিন ধরে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট উচ্চতায় এলাকার দুই শতাধিক ঘরবাড়ি এক থেকে দেড় ফুট পানির নিচে থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। নদীগুলোয় তীব্র স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় সন্ধ্যা, কঁচা, গাবখান ও কালীঙ্গয়া নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
দুমকির মুরাদিয়ার গ্রাম প্লাবিত
দুমকি (পটুয়াখলী) সংবাদদাতা জানান, দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে চরগরবদী গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে ১০০ পরিবার ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছে। মুরাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, কুতুবদিয়া খালের পশ্চিম পাড়ের বেড়িবাঁধ পানির চাপে ভেঙ্গে যাওয়ায় আমন বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকরা পড়েছে বিপাকে। বেড়িবাঁধ মেরামত করার মতো অর্থ বরাদ্দ নাই। তিনি আরো জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অভিহিত করা হয়েছে।
জোয়ারে জিয়ানগরের ঘোষেরহাট বাজার প্লাবিত
জিয়ানগর (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে নিয়মিত প্লাবিত হচ্ছে জিয়ানগরের ঘোষেরহাট বাজার। ফলে ভোগান্তির যেন শেষ নেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের। এ বিষয়ে ঘোষেরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ইকরামুল কবির সিকদার জানান, অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে ঘোষেরহাট বাজারের একাংশ নিয়মিত ২ থেকে ৩ ফুট পানিতে ডুবে যাচ্ছে। আমরা বিভিন্ন মহলে অনেক আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাইনি।