ঘুরে দাঁড়িয়েছে শাহজাদপুরের তাঁত শিল্প

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের তাঁতবস্ত্রের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এই তাঁতবস্ত্র এখন দেশের বাইরে যাচ্ছে। শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদর দরগাপাড়া মহল্লার আলহাজ্ব আজমল কবিরের তাঁতের তৈরি মসলিন শাড়ি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা ও জাপানের বিভিন্ন শো-রুমে বিক্রি হচ্ছে। শুধু মসলিন শাড়িই নয় সিল্ক কটন, জুট কাতানসহ প্রায় ৬০ রকমের শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা ও ওড়না রপ্তানি হচ্ছে এসব দেশে। দেশের খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইন হাউজ নগরদোলা, কে-ক্রাফট, রং, অরণ্য ক্রাফট, ইন্ডিগোর সরবরাহকৃত ডিজাইন ও উপকরণে তৈরি এসব কাপড় দেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হওয়ার পর এখন বিদেশের বাজারও দখল করে নিয়েছে। দিন দিন এই বাজার আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে। এসব কাপড়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বিদেশি ক্রেতারা বর্তমানে শাহজাদপুরে আসছেন, এখানকার তাঁত ফ্যাক্টরিগুলো পরিদর্শন করছেন। দেশের খ্যাতনামা তাঁতবস্ত্র কনসালটেন্ট চন্দ্র শেখর সাহার নেতৃত্বে জাপানের ২৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি শাহজাদপুরের আজমল কবিরের তাঁতের ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করে তার তাঁতের তৈরি পণ্য কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আর জাপানে এই অঞ্চলের তাঁতপণ্য রপ্তানি নিয়মিত করা গেলে শাহজাদপুরে তাঁতশিল্পের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। সেই সাথে পুঁজি হারিয়ে পথে বসে যাওয়া প্রায় ৫ শতাধিক তাঁতির কারখানায় নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। আলহাজ্ব আজমল কবির জানান, তিনি ইতিমধ্যেই এ অঞ্চলের প্রায় ৫ শতাধিক পুঁজি হারানো তাঁতিকে সংগঠিত করে তাদের কারিগরি সহায়তাসহ সুতা, রঙ ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া তাঁতগুলো আবার চালু করেছেন। এসব তাঁতির তৈরি তাঁতবস্ত্রই এখন ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা ও জাপানে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে তাঁতিরা ফের স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। এদেরই একজন পুকুরপাড় গ্রামের শেরেকুল ইসলাম জানান, তিনি পুঁজির অভাবে তার তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আলহাজ্ব আজমল কবিরের সহযোগিতায় তার ফ্যাক্টরি পুনরায় চালু করতে সক্ষম হয়েছেন। এখন তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে সচ্ছল জীবনযাপন করছেন। তার এখন ১৫টি তাঁতেই উন্নতমানের তাঁতবস্ত্র শাড়ি ও ওড়না তৈরি হচ্ছে। এছাড়া পাবনা দোগাছী, জালালপুর, ঈশ্বরদী, শাহজাদপুরের কৈজুরী, খুকনী, পুকুরপাড় ও আইগবাড়ী পাড়কোলা গ্রামে শতাধিক তাঁত ফ্যাক্টরিতে আজমল কবিরের তাঁতের শাড়ি কাপড় তৈরি হচ্ছে। দোপাট্টা, স্বর্ণলতা, রংধনু, কৃষ্ণচূড়া, রেডরোজ, নীল পদ্ম, বাংলালিংক, মর্নিং সান, বাংলার শোভা নামের শাড়ি দেশে-বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। উত্পাদিত এসব শাড়ির ৯০ ভাগই বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। মসলিন সুতার সাথে জুট সুতা, গ্যাস সুতা, সিল্ক কটন সুতা মিশ্রিত করে শাহজাদপুরের এই মসলিন শাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত ডিজাইন, রঙের গুণগত মান বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এ কাপড়ের চাহিদা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এক একটি মসলিন শাড়ি ৭ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। শাহজাদপুরের সুতির জামদানি, প্রিন্ট, ব্লক বাটিক, বুটিকসহ বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি ভারতেও ব্যাপকহারে রপ্তানি হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে তাঁত ফ্যাক্টরিগুলো কর্মব্যস্ততায় সরগরম হয়ে উঠেছে। রাত-দিন তাঁতের খট খট শব্দে মুখর তাঁতপল্লীগুলো।