[ অ র্থ নী তি ]
কেমন হলো মুদ্রানীতি
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০১৩, ২১:৫১
বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশে মুদ্রানীতির যথেষ্ট মাত্রায় কার্যকারিতা থাকলেও এ ব্যাপারে রাজস্বনীতির তুলনায় মাতামাতি অনেক কম। অথচ অত্র গবেষক কর্তৃক পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মুদ্রানীতি রাজস্বনীতির চেয়েও অনেক বেশি কার্যকর। মুদ্রার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে পণ্য উত্পাদনও বৃদ্ধি পাবে, যদি সুদের হার কমানো যায়। পৃথিবীর অনেক দেশেই যেখানে ঋণের উপর সুদের হার হচ্ছে ৩% থেকে ৫%, অথচ ঘোষিত মুদ্রানীতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে যে, ঋণের উপর সুদের হার এবং আমানতের উপর সুদের হারের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে ৫%-এর কম। এত উচ্চ হারের সুদ প্রায় ২০% হার নিয়ে দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীরা নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত। আর উচ্চ সুদের হার হচ্ছে অন্যতম কারণ, যার জন্য অভ্যন্তরীণ বেসরকারি খাতের ক্রেডিট গ্রোথ কমে গেছে। অবশ্য মুদ্রানীতিতে ঘোষণা করা হয়েছে হরতাল, ধর্মঘটের কারণে বেসরকারি খাতের ঋণের হার হ্রাস পেয়েছে—যদিও এটি যুক্তিসঙ্গত, তথাপি মূল কারণ কিন্তু ঋণের উপর উচ্চ সুদের হার। আশা করা হয়েছিল মুদ্রানীতিতে এ ব্যাপারে আলোকপাত করা হবে। বিদেশি, রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে উচ্চ সুদের হার বিদ্যমান। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকসমূহ বাংলাদেশে সুদ না দিলেও যেভাবে মুনাফা দিচ্ছে তার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। অথচ ইসলামী ব্যাংকসমূহের মুদ্রানীতি সম্পর্কে কোন বক্তব্য নেই। সময় এসেছে ইসলামী ব্যাংকসমূহের কার্যপদ্ধতি পরিচালনা করে এসএলআর বসানোর।
নিট ফরেন এসেটের ব্যবহারে আরো সক্রিয় ব্যবস্থাপনার দরকার ছিল। পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে নিট ফরেন এসেটের একটি অংশ Total Domestic Credit-এর মাধ্যমে ব্যয়ের ঘোষণা থাকলে ভালো হতো। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে অবশ্য রিজার্ভ মানি গ্রোথ এবং নিট ডমেসটিক এসেট অব বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের পূর্বের মুদ্রানীতি অনুসারে হয়েছে বলা হয়েছে। অথচ রিজার্ভ মানি মুদ্রা সরবরাহের ৮০%-এর মতো ব্যয় হয় এবং তা দৈনন্দিন খরচের ক্ষেত্রে বড় অংশ ব্যয়িত হয়। তাহলে মানি মাল্টিপ্লেয়ার যে বেড়ে গেছে এতে অর্থনীতির জন্য একটি বড় সমস্যা হতে পারে। ব্রড মানি গ্রোথও টার্গেট অনুসারে হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর সোজাসাপ্টা অর্থ হচ্ছে, টার্ম ডিপোজিট রাখার পরিমাণ কমেছে। মানুষ তার আয়ের অধিকাংশই এখন ব্যয় করে চলেছে। অথচ সঞ্চয় স্বাভাবিক নিয়মে বৃদ্ধি পেলে ব্যাংকগুলো স্বল্প সুদের হারে সঞ্চয় সংগ্রহ করতে পারতো। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিভিন্ন সময়ে নেক নজরে থাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের দান দেয় এবং এই দানের টাকা কিন্তু আসে সাধারণ আমানতকারী ও ঋণ গ্রহীতাদের ক্ষেত্র থেকে। আসলে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের সুদের হারের উপর কঠোরতা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয় ছিল। নচেত্ গভর্নর মহোদয় যে সমস্ত ভালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সেগুলোর অনেকগুলো বাস্তবায়ন করা যাবে না। এদিকে মুদ্রানীতিতে পুঁজি বাজারকে সহায়তা করার জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ রয়েছে। দেখার বিষয়, এগুলো ঠিকমত বাস্তবায়ন করা যায় কিনা।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত নতুন বিদেশি মুদ্রায় ঋণ গ্রহণ সুবিধা একটি উল্লেখযোগ্য দিক। অবশ্যই খেয়াল রাখা দরকার এই নীতিমালার যেন অপব্যবহার না হয়।
মুদ্রানীতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে যে, বৈদেশিক মুদ্রার মার্কিন ডলার ১৫ বিলিয়নের অধিক রয়েছে এবং এটি দ্বারা ৪.৯ মাসের আমদানি চলবে। অথচ এই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে নিয়ম মেনে বিনিয়োগবান্ধব প্রবৃদ্ধি সহায়ক কর্মসূচিতে ব্যবহার করা গেলে ভালো হতো। আমদানি কমে যাওয়া একদিকে ভালো হয়েছে, তবে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ কিন্তু আমদানির জন্য সহায়তা ব্যাংক থেকে করার জন্য নির্দেশনা থাকার দরকার ছিল। টাকা-ডলারের মধ্যকার বৈদেশিক বিনিময় হারের ক্ষেত্রে টাকার মুদ্রামান ২.৬% হারে বিগত জানুয়ারি-জুন ২০১৩তে বেড়েছে বলা হয়েছে। এটি আসলে আমাদের জন্য ইতিবাচক হলেও নানা চাপে জর্জরিত রফতানিকারকদের জন্য কতটুকু উদ্বুদ্ধ করতে পারবে সেটির বাস্তবতা বুঝতে হবে। নচেত্ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশসমূহের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পেরে উঠবো না এবং দেশের দ্রব্যের দাম শেষ পর্যন্ত বেড়ে যাবে। অবশ্য মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে যে, তারা নানামুখীভাবে রফতানিকারকদের প্রণোদনা দিচ্ছেন, যেমন: ওয়ার্কিং ক্যাপিট্যাল ঋণ নিচ্ছে বিদেশি উত্স থেকে রফতানিকারকরা, রফতানি উন্নয়ন ফান্ড (EDF)-এর পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে স্বল্পসংখ্যক রফতানিকারক এই সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। ঋণ প্রধান পদ্ধতি যেমন সহজ করা দরকার, তেমনি ঋণ গ্রহণকারীর সততা, যোগ্যতা ও দক্ষতা সম্পর্কে অধিকতর সচেতন হওয়া দরকার। ইতিপূর্বেই মূল্যস্ফীতি ১৯৯৫-৯৬ ভিত্তি বছর অনুসারে ৭% এবং ২০০৫-০৬ ভিত্তি বছর অনুসারে ৬-৬.৫% হবে বলে বলা হয়েছে। মুদ্রানীতিতে যদিও দাবি করা হয়েছে এগ্রিগেট ডিমান্ড বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়বে—এটি আসলে যৌক্তিক নয়। কেননা যখন মূল্যস্ফীতির Forecasting করা হয় তখনই বিবেচনায় আনা হয় কি পরিমাণ এগ্রিগেট ডিমান্ড বাড়তে পারে। আরেকটি কারণ তারা উল্লেখ করেছে ফুড আইটেমের দাম বেড়ে যেতে পারে। এটি আসলে কেবল ফুড আইটেম নয়, বরং নন-ফুড আইটেমের উপর দাম বাড়ার সম্ভাবনা আছে। তবে হ্যাঁ, দীর্ঘমেয়াদি হরতাল, সহিংসতা বজায় থাকলে কেবল মূল্যস্ফীতি বাড়বে তা নয়, বরং সাধারণ মানুষের ভয়ানক ক্ষয়ক্ষতি হবে, জীবনযাত্রা অচলের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের অভাব ও ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হবে। একদিকে যেমন রাষ্ট্রযন্ত্র অচল হয়ে যাবে, তেমনি সামষ্টিক অর্থনীতিতে গত সাড়ে চার বছরের অর্জনেও ধস নামতে পারে। এক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদরা নন, রাজনীতিবিদরা পারেন আমাদের বাঁচাতে। পাশাপাশি নির্বাচনী বছর হওয়ায় অবাধে সাদা ও কালো টাকার ব্যবহার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘটবে। এটি এক ধরনের Transitory income হওয়ায় দেশের অর্থনীতির জন্য এবং ব্যক্তিগত জীবনে তেমন প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু Consumer Durables-এর দাম বাড়বে। এটি দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে রিজার্ভমানির গ্রোথ ১৫.৫% এবং ব্রডমানির গ্রোথ ১৭.২% হবে বলে আশা করা হয়েছে। আসলে নির্বাচনী বছর হওয়ায় ব্রডমানির গ্রোথের পরিমাণ কাছাকাছি যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রিজার্ভমানির গ্রোথ অনেক বেশি হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অবশ্য এটি নির্ভর করবে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার ওপর। বেসরকারি খাতে ক্রেডিটের হার ১৫.৫% হবে বলে আশা করা হয়েছে—তবে ব্যাংকসমূহ এক ধরনের Oligopolistic Nature-এর কার্টেলের মাধ্যমে যেভাবে সুদ বা মুনাফা নিচ্ছে, এক কথায় তা বলা যায় বৈধ মহাজনী ব্যবসা। অবশ্য এ ব্যাপারে কি বলার থাকতে পারে—যেদেশে দরিদ্র পীড়িত মানুষদের ঋণের গড় সুদের হার ২৭.৫% থেকে ৪৮% পর্যন্ত এনজিও গ্রামীণ ব্যাংক রেখে থাকে এবং বিদেশি সমর্থনপুষ্ট হয়ে দারিদ্র্যকে মিউজিয়ামে পাঠানোর ঘোষণা দেয় তা সত্যি দুঃখজনক। বুঝি না, আন্তর্জাতিক মহল এই ধরনের মহাজনী ব্যবসাকে কেন সমর্থন করেন? আসলে বাংলাদেশ হচ্ছে বিদেশিদের কাছে গিনিপিগ—এখানে পরীক্ষা করে মানুষের ক্ষতি করে অন্যত্র সংশোধিত আকারে তা প্রয়োগ করা যায়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে যে, ব্যাংকিং খাত থেকে চলতি অর্থ বছরে ঋণের পরিমাণ হবে ২৬০ বিলিয়ন টাকা। যেখানে বাজেটটি তিনটি সরকারের মধ্য দিয়ে যাবে এবং এই সরকার যদি ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে চান তবে অবশ্যই ব্যাংক ঋণের পরিমাণ এত স্বল্প হতে পারে না। এ জন্যই গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি Fiscal Deficit পূরণ করতে সব সময়ই আমরা মুদ্রানীতিকে ব্যবহার করেছি। জিডিপির প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে মুদ্রানীতির অবদান সবচেয়ে বেশি।
রেপো রেইট এবং রিজার্ভ রাখার অনুপাত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আসলে অনেক ব্যাংকে যেমন তারল্য রয়েছে, আবার অনেক ব্যাংক তারল্য সংকটে ভুগছে। এর ফলেই কিন্তু আমানতের সুদের হার বাড়ছে। ফলে উত্পাদিত পণ্যের দাম যেমন বাড়ছে তেমনি সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বর্তমান কৃষিমন্ত্রী যথেষ্ট পারঙ্গমতার সাথে কৃষিক্ষেত্রে বেশকিছু নীতিমালা বাস্তবায়ন করেছেন। অথচ এই নীতিমালার সাথে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার কথা চলে আসে। বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা যাতে যুগোপযোগী হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ও তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে মধ্যম ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আরো সক্রিয় হন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কোন ধরনের দুর্নীতি ও অতিরিক্ত সুদের হার নেয়া এবং অফ ব্যালেন্সশিট কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যাংকের মুনাফা ঠেকানো দরকার। মুদ্রানীতির ট্রান্সমিশনকে আরো বেগবান করার জন্য ক্রেডিট এবং ডেবিট মার্কেটসমূহকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। আশা করেছিলাম সোভেরাইন বন্ড সম্পর্কে বক্তব্য আসবে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোন তাত্পর্যপূর্ণ উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। আশার কথা বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকসমূহের ওপর তদারকি বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু যে জিনিসটি দরকার সেটি তাদের নেই। একজন বিশ বছরের অধিক বাণিজ্যিক ব্যাংকিং-এ দক্ষ, নিষ্কলুষ চাকরি জীবনে বাণিজ্যিক ব্যাংকার যিনি ন্যূনতমপক্ষে পাঁচ বছর এমডি পর্যায়ে কাজ করেছেন এমন কাউকে বাণিজ্যিক ব্যাংকিং-এর তত্ত্বাবধানের জন্য ডেপুটি গভর্নর পদে পদায়ন করা। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেশের সামগ্রিক ব্যাংক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে প্রয়োজন। নচেত্ যেভাবে তফসিলি ব্যাংকসমূহের দুর্বৃত্তায়ন ঘটছে তা ঠেকানো দুষ্কর।
মুদ্রানীতিতে আশা করা হয়েছে বহির্বিশ্বের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখবে। আসলে বহির্বিশ্বের সাথে লেনদেন নির্ভর করে থাকে আমাদের অভ্যন্তরীণ সামষ্টিক চাহিদা ও সরবরাহের ওপর। পাশাপাশি Geo-Political কারণসমূহ এক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। বৈদেশিক মুদ্রা যদি কোন কারণে তার শক্তিমত্তা হারায় সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি তেমন প্রভাব বিস্তারের উপায় নেই। কেবল জোর করে টাকার মূল্যমানকে বৃদ্ধি থেকে আপাততভাবে ঠেকানোর উপায় ছাড়া। আসলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের প্রতিপত্তি বিভিন্ন কারণে কমে যাচ্ছে। আবার বৈশ্বিক মন্দা কাটিয়ে উঠে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয় এবং একই সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলো যেমন চীন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন প্রভৃতি দুর্বল হবে ও ইরাক-আফগানিস্তানের কারণে যে সামগ্রিক ক্ষতি হচ্ছে তা থেকে আমেরিকান অর্থনীতি পরিত্রাণ পাবে তখন মার্কিন ডলার পুনরায় শক্তিশালী হবে। আসলে বৈশ্বিক মন্দার জন্য মার্কিন ডলারের ভেইকেস কারেন্সি হিসেবে আস্থা হারাচ্ছে।
এই আপতকালীন সময় টাকার মূল্যমান ডলারের বিপরীতে বৃদ্ধির হার হ্রাসের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা ইতিবাচক আশা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্ক দৃষ্টিতে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যে উচ্চ স্প্রেড রয়েছে তার ব্যাপারে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহকে সতর্ক করতে হবে এবং কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। ঋণ তদারকিতে এবং সন্দেহভাজন ঋণের ক্ষেত্রে দোষীদের দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ঘোষিত মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করাই বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। কেননা নানামুখী চড়াই-উত্রাইয়ের মধ্য দিয়ে দেশের সামগ্রিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেক নির্দেশই তফসিলি ব্যাংকসমূহ প্রতিপালন করছে না। যথাযথভাবে যদি নিয়ম-নীতি প্রতিপালন করা হতো তবে মুদ্রানীতি কার্যকর করা সহজ হতো। যদি মুদ্রানীতিকে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হয় তবে তফসিলি ব্যাংকসমূহের ব্যাংক ব্যবস্থাপনার মান উন্নত করতে হবে। নচেত্ দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ন্যায় একটি দেশে রাজস্বনীতি, মুদ্রানীতি এবং মুদ্রানীতিরই অংশ বৈদেশিক বিনিময় হারের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই কেবল বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। এজন্য মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা প্রয়োজন।
লেখক :উপাচার্য ও ডিন, ব্যবসা বিভাগ, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়,
ম্যাক্রো-ফিন্যান্সিয়াল ইকনোমিস্ট
ই-মেইল: pipulbd@gmail.com