দম ফেলার সময় নেই টাঙ্গাইলের তাঁতীদের

বাঙালি নারীর প্রথম পছন্দ শাড়ি। আর সে শাড়ি যদি হয় তাঁতের! তাহলে তো কোন কথাই নেই। বাঙালি নারীর ঐতিহ্য ও পছন্দকে ধরে রাখতে এবার ঈদেও বাহারি ডিজাইন আর নতুনত্ব নিয়ে এসেছে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি। ঈদকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে দম ফেলার সময় নেই তাঁতীদের। দিনে-রাতে সমানতালে চলছে শাড়ি তৈরির কাজ। তাঁতের খট খট শব্দে মুখরিত তাঁতপল্লী। টাঙ্গাইল শাড়ির মূল কেন্দ্রস্থল দেলদুয়ারের পাথরাইল, চণ্ডি, পুটিয়াজানি, বেলতা, বাজিতপুরসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে তাঁত শ্রমিকরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। কেউ চরকায় সুতা কাটছেন, কেউ সুতা টানা দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ তাঁতে শাড়ি বুনছেন। সব মিলিয়ে আনন্দঘন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস সূত্র জানায়, দেলদুয়ারে ৪ হাজার ৪৪০টি তাঁতে শাড়ি তৈরি হয়। ইতিমধ্যে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে অনেক তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে তাঁত শ্রমিক, মালিক ও ব্যবসায়ীদের যৌথ প্রচেষ্টায় সেই প্রতিকূলতা আর নেই। যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তাঁতের শাড়িতে এসেছে আধুনিক বৈচিত্র্য। তাঁতের শাড়ি এখন শুধু নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তের পছন্দ নয়। শহরের উচ্চবিত্ত ও ফ্যাশন সচেতন নারীদের পছন্দ টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি। তাঁতের শাড়ি দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভারত, লন্ডন, আমেরিকা, দুবাই, সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশেও রপ্তানি হচ্ছে। চলতি বছর প্রায় ১০ লাখ পিস তাঁতের শাড়ি ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। আগে টাঙ্গাইলের তাঁতে শুধু সাধারণ মানের শাড়ি তৈরি হতো। কিন্তু যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাহারি রঙ ও ডিজাইনের শাড়ি তৈরি হচ্ছে। এবার ঈদে মার্কেটে সফট সিল্ক, জামদানি, সুতি, ধানসিঁড়ি, আনারকলি, গ্যাস সিল্ক, একতারি, দোতারি, রেশম, মটকা, তন্দুজ ও বালুচড়ি শাড়ির চাহিদা বেশি। পাথরাইলে দুই শতাধিক শো-রুমে থরে থরে সাজানো রয়েছে তাঁতের শাড়ি। সর্বনিম্ন ৪শ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে এসব তাঁতের শাড়ি। রাজধানী ঢাকা থেকে গাড়ি নিয়ে শাড়ি কিনতে আসা ব্যবসায়ী দম্পতি আবুল কালাম ও তার স্ত্রী জান্নাতআরা বলেন, এখানে হাজার হাজার শাড়ি থেকে নিজেদের পছন্দ মতো শাড়ি কেনা যায়। তাছাড়া দামও স্বাভাবিক। তাই এখানে শাড়ি কিনতে আসি। শাড়ি ব্যবসায়ী রাধেশ্যাম বসাক বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি বেশ ভাল। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আমি ও আমার ভাই নীলকমল বসাক নতুন নতুন ডিজাইন তৈরি করে দিচ্ছি। সে অনুযায়ী তাঁতের শাড়ি তৈরি হচ্ছে। এদিকে গ্যাস না থাকায় এবং বিদ্যুত্ সংকটের কারণে শাড়ি তৈরিতে খরচ কিছুটা বেড়েছে বলে তিনি জানান।