সারিয়াকান্দিতে ২৩টি আশ্রয়ণ গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প যমুনায় বিলীন
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:২১
‘কোন সম্ভাব্যতা যাচাই করা ছাড়াই’ জেলার সারিয়াকান্দিতে যমুনার অস্থিশীল চরাঞ্চলে একের পর এক আশ্রয়ণ ও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে নদীগর্ভে ২৩টি প্রকল্প বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে প্রায় দেড় হাজার পুনর্বাসিত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ছে। সবমিলিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় হচ্ছে। এদিকে চলমান ৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মাটি ভরাটের কথা থাকলেও ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সরকারের আমলে ২৩টি যমুনার আশ্রয়ণ-আবাসন ও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প বাস্তবায়নে বালু ভরাট কাজে ব্যয় হয়েছে ৯ হাজার টন চাল। কিন্তু এ প্রকল্পগুলো যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী গর্ভে বিলীন হওয়া আশ্রয়ন প্রকল্পগুলো হলো—শোনপঁচা, উত্তর শোনপঁচা, কাকালীহাতা, পাকুরিয়া, জামথল, টেংড়াকুড়, শিমুলতাইড়, চকরতিনাথ, বেড়াপাঁচবাড়িয়া, শোনপঁচা-২ ও শোনপঁচা ও নান্দিনা। এছাড়া নদীগর্ভে বিলীন হওয়া গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প গুলো হলো—কাজলা, পাকুরিয়া, জামথল, গুচ্ছগ্রাম, বাওইটুনা, বেনিপুর, সরকারপাড়া, জামথল, ধারাবর্ষা, ও শোনপঁচা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের জামথল চর, বোহাইল ইউনিয়নের হাইতিবাড়ি ও পৌতিবাড়ি চরে ৩টি আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ওই প্রকল্প বাস্তবায়নে মাটি ভরাটের জন্য ১১শ টন গমের বরাদ্দ নেয়া হয়েছে। শ্রমিক দিয়ে মাটি ভরাটের কথা থাকলেও ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিন দেখা গেছে, যমুনার একটি শাখা নদী থেকে হাইতিবাড়ি ও পৌতিবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের দূরত্ব ২শ মিটারের মধ্যে। এখানে ব্যারাক নির্মাণ করা হলে ওই ব্যারাক যমুনার বিলীন হওয়ার আশংকা করছে চরবাসী।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এটিএম বেনজির আহমেদ বলেন, আমরা যমুনার চরে প্রকল্প দিতে চাইনি। কিন্তু উচ্চ পর্যায়ে তদবির করে এ বরাদ্দ আনা হয়েছে। ইউএনও জিল্লুর রহমান খান বলেন, আমরা প্রকল্প দিলেও পিডি অফিস থেকে একাধিকবার টিম এসে সরেজমিনে সাইড দেখার পর প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। টেলিফোনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জহিরুল হক বলেন, মাঠ পর্যায়ের অফিসাররা আমাদের প্রকৃত অবস্থা জানায় না। যমুনার চরে প্রকল্প সাসটেইন না হলে সরকারের হবে অর্থ-সম্পদের অপচয়। সরেজমিনে তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।