বরিশালে অপরাধ দমনে পুলিশের আগ্রহ নেই
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:২২
একের পর এক হত্যাকাণ্ড, সংঘর্ষ, চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ অপরাধ দমনে তেমন তত্পরতা দেখাচ্ছে না। ক্ষমতার পালা-বদলের হাওয়ায় গা ভাসাতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ ভোল পাল্টাতে শুরু করছে। বিএনপি দলীয় অপরাধীরা কোন অপরাধ ঘটালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না পুলিশ কর্মকর্তারা। পুলিশের এ নিরব ভূমিকার কারণে ভেঙ্গে পড়ছে এখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। গুরুত্বপূর্ণ মামলা বা অপরাধীদের পাকড়াও করতে পুলিশের শ্লথ গতি দেখা দেয়ায় অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
গত এক মাসে এখানে প্রায় এক ডজন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি ও সংঘর্ষে রক্তপাতের ঘটনায় চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন বেশ কয়েকজন। সর্ববেশ গত ২২ জুলাই সন্ধ্যায় নগরীর সার্কিট হাউজের সামনে মহানগর যুবদলের সদস্য ও বরিশাল ক্লাবের কর্মী মাইনুল ইসলাম হেলালকে কুপিয়ে হাতের কব্জী বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে তার প্রতিপক্ষ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান মিঠু। এ ঘটনায় মিঠুসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও পুলিশ জড়িত কাউকে গ্রেফতার করেনি। এর আগে হেলাল দলবল নিয়ে মিঠুকে আদালত এলাকায় কুপিয়ে জখম করলেও পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করেছে।
গত ২১ জুলাই কাউনিয়া থানার পুরানপাড়া এলাকায় এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করতে দেখে আতিকুর রহমান (১৮) নামের কলেজ ছাত্র হার্ট এ্যাটাক করে মারা যায়। রিক্সা চালক আব্দুল মন্নান (৫৫) ও চা দোকানদার সোহেল হাওলাদারের (২৫) মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ করে রিক্সা চালক মন্নান পার্শ্ববর্তী চায়ের দোকান থেকে একটি চাকু নিয়ে সোহেলকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়েন কলেজ ছাত্র আতিকুর রহমান। এ ঘটনায়ও থানা পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি।
এর পূর্বে গত ৫ জুলাই গভীর রাতে নগরীর জানকিসিংহ রোডের বাসিন্দা শিক্ষিকা আফরোজা সিমু নিজ বাসায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামরুজ্জামান ইত্তেফাককে জানান, এ ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, মূল হত্যাকারীকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।
২১ জুন নগরীর রুপাতলীতে শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খুন হয় চিকিত্সক আরিফুর রহমান। ডাঃ আরিফের হত্যার সাথে ঐ ডায়াগনস্টিক’র মালিক ১৪ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক শাহিন জড়িত থাকায় মামলা হয়েছে ২০ দিন পর। ঐ মামলায় শাহিন ও তার প্রেমিকা এ্যানিসহ ৫ জনকে সন্দেহভাজন আসামি দেখালেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। মামলা তদন্ত চলছে শ্লথ গতিতে। সিটি নির্বাচনের পর যেন ক্ষমতার পালাবদলের হাওয়া লেগেছে এখানকার থানা পুলিশের গায়ে। কোতয়ালী মডেল থানার যে সকল এএসআই ও এসআই সিটি নির্বাচনের পূর্বে নগরী দাবড়িয়ে বেড়াতেন তারা যেন চুপষে গেছেন।
বিএমএ’র সভাপতি ডাঃ ইসতিয়াক আহমেদ ইত্তেফাককে জানান, ডা. আরিফ হত্যাকাণ্ড নিয়ে শুরুতেই কোতয়ালী পুলিশ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করে আসছে। স্বাচিপ ও বিএমএ যৌথ আন্দোলন গড়ে তুললে ২০ দিন পর পুলিশ মামলার উদ্যোগ নিলেও আসামিদের গ্রেফতার বা তদন্তে এখনো রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে বলে এ চিকিত্সক নেতা অভিযোগ করেন। এ ছাড়াও গত ২৩ জুন দুপুরে নগরীর খেয়াঘাট এলাকায় ভাটিখানার সোহরাব হোসেন’র ছেলে শামীম ট্রলার চালক চর-কাউয়া ফকির বাড়ির শামসুল হকের ছেলে শাহিনের হাতে খুন হয়। ২২ জুন নিখোঁজ হওয়ার দু’দিন পর নগরীর কাশিপুর ইছাকাঠী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় রুমানা আক্তার সাথি (২৫) নামে বিসিক’র জুতো কোম্পানির নারী শ্রমিকের লাশ। তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়। নগরীর বাইরের উপজেলাগুলোতে গত এক মাসে জাসদ নেতাসহ বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ হত্যাকারীদের গ্রেফতারে তেমন কোন সাফল্য দেখাতে পারেনি।