অসাংবিধানিক সরকার আসলে ১০ বছরেও নির্বাচন হবে না

অসাংবিধানিক সরকার আনার চেষ্টা করলে দুই বছর কেন, ১০ বছরেও নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগের সেনা সমর্থিত সরকার এসে দুই বছরে নির্বাচন দিয়েছিল। এবার সে ধরনের কোন সংবিধানবিরোধী সরকার এলে তারা ১০ বছরেও নির্বাচন দেবে না। তাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু রাখতে বিরোধী দলকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা এবং বিএফইউজে’র সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রেস ইন্সটিটিউটের চেয়ারম্যান ও দৈনিক ইত্তেফাকের উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন, প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম মুসা, দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট সম্পাদক মাহবুবুল আলম, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বিএফইউজে’র মহাসচিব আবদুল জলিল ভুঁইয়া, ডিইউজে’র সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ প্রমুখ। শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হলে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশে গণমাধ্যমকে স্বাধীন করার পাশাপাশি মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস হয়, এমন সমালোচনা থেকে বিরত থাকুন। সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে দেশের গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলবেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ সরকার নতুন নতুন চ্যানেল, সংবাদপত্র অনুমোদন দিয়েছে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল অনুমোদন দিয়েছিল। সাংবাদিকদের জন্য নতুন ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। সম্ভব হলে ঈদের আগে বা ঈদের পরেই এ ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করা হবে। এছাড়া সাংবাদিক কল্যাণ তহবিল গঠনেও এ সরকার ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সরকারের উন্নয়নের কারণে এখন ধর্ম নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে। এক এক সময় তারা এক এক কথা বলছে। প্রথমে বিএনপি আর হেফাজতে ইসলাম বলল, মতিঝিলে আড়াই হাজার মানুষ হত্যা করা হয়েছে। কিছুদিন পরে খালেদা জিয়া বললেন, ৬৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সংসদে এই ৬৬ জনের তালিকা চেয়েছিলাম, কিন্তু এখনো পর্যন্ত তা তারা দিতে পারেননি। কিছু কিছু সংবাদপত্র এইসব মিথ্যা কথা রটিয়ে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক সংবাদপত্র এ সরকারের নামে মিথ্যা কুত্সা ছড়াচ্ছে। পবিত্র কাবা শরীফে গিলাফ পরানোর ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন বলে চালানোর মত অপসাংবাদিকতা থেকে সরে এসে সত্ সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানান তিনি। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, অপরাজনীতি দেশকে এক অদ্ভুত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। ধর্ম ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এ অবস্থায় তথাকথিত নিরপেক্ষতার নামে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কোন সুযোগ নেই। হয় গণতন্ত্রের পক্ষে, ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের পক্ষে তা নাহলে সাম্প্রদায়িক, পাকিস্তানপন্থী ‘তেঁতুল’ তত্ত্বের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। এ ইফতার মাহফিলে যোগ দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলু, সুনীল শুভরায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আআমস আরেফিন সিদ্দিক, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হেদায়েত উল্লাহ আল মামুন, তথ্য সচিব মর্তুজা আহমেদ, শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল, সাইফুজ্জামান শেখর, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বিএফইউজে অপর অংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ডিইউজে সভাপতি আবদুস শহীদ ও সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসেইনসহ নেতৃবৃন্দ। সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি জানান, পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরেছে। জনগণ ভোট না দিলে জোর করে ভোট নিয়ে ক্ষমতায় যাব, তেমন কোন আকাঙ্ক্ষা নেই। আমরা দেশের জন্য কাজ করছি, করে যাব। আমি এ জাতির প্রতি আমার পিতা বঙ্গবন্ধুর দায় শোধ করছি। সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য খেটে যাচ্ছি। কথাগুলো বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার রাতে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএফইউজে ও ডিইউজে আয়োজিত ইফতার পার্টি শেষে সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন। রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা ও পারিবারিক কর্মসূচি সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ঘণ্টারও বেশি সময় কথা বলেন। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন ছিল গতকাল শনিবার। এ উপলক্ষে মা ঘরোয়াভাবে নিজের হাতে বিশেষ খাবার রান্না করেন। ইফতার পার্টি শেষে ছেলে জয়সহ পরিবারের সদস্যদের আপ্যায়িত করবেন। এত ব্যস্ততা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময় করেন। এসময় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট সম্পাদক মাহবুবুল আলম, ইত্তেফাকের উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন, বিএফইউজে সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মহাসচিব আব্দুল জলিল ভুঁইয়া, ডিইউজে সভাপতি ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, বাসস-এর প্রধান সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র সাংবাদিক শাহজাহান মিয়া, আলতাফ মাহমুদ, মঞ্জুরুল ইসলাম, জাকারিয়া কাজল, বৈশাখি টিভির প্রধান সম্পাদক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, বিএফইউজের সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. উত্পল সরকার, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শামসুদ্দীন আহমেদ চারু ও মাঈনুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের কাছে সন্তান জয়ের জন্য দোয়া চেয়ে বলেন, আমরা দুই বোন আমাদের সন্তানদের মানুষ করিয়েছি। সবাই বিশ্বের নাম করা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। এটাই বড় প্রাপ্তি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখনই ক্ষমতায় থাকি, দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে। অনেক কর্মসংস্থান হয়েছে। অতিরিক্ত ছয় হাজার ৬৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে। বিদ্যুতে ভর্তুকি নয়, বিনিয়োগ হয়েছে। কোথাও কোন হাহাকার নেই। যত বেশি কাজ করি এখন তত বেশি সমালোচনা হচ্ছে। নানা ধরনের অপপ্রচার ও মিথ্যাচার হচ্ছে। বিরোধী দল বলেছে, ১ লাখ ৫৫ হাজার গুলি হয়েছে ৫ মে মতিঝিলে। আড়াই হাজার লোক মারা গেছে। পরে বলেছে ৬১ জন। অথচ কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। এভাবে অপপ্রচার চলিয়েছে এক শ্রেণীর মিডিয়া ও বিরোধী দল। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা করেছি। ৬৩ হাজার নির্বাচন হয়েছে কোন কথা হয়নি। শেখ হাসিনা বলেন, গণমাধ্যমের উচিত সত্য তুলে অপপ্রচার রোধ করা। তা না হলে জনগণ বিভ্রান্ত হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ধর্মান্ধ গোষ্ঠী লাভবান হবে। সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।