পাঞ্জাবি ছাড়া জমে কি ঈদ!

ছেলেদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে বুটিক হাউসের পাঞ্জাবি। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পুরো অবয়ব ফুটে ওঠে পাঞ্জাবিতে। পাঞ্জাবি এমন একটি পোশাক যা ছেলে-বুড়ো-শিশু সবাই পরতে পারে। এই পোশাকটি পরতেও আরামদায়ক; যার কারণে ছোট-বড় সকলে পোশাকটি পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তবে সময়ের পরিক্রমায় পাঞ্জাবির কাট, ডিজাইন, রং ও কাপড়ের বৈচিত্র্যে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। প্রতিবারের মতো এই ঈদেও পাঞ্জাবির ডিজাইনে রয়েছে বৈচিত্র্য। ফ্যাশন হাউসগুলো নতুন ও নিরীক্ষাধর্মী কাজের মাধ্যমে তুলে এনেছে আকর্ষণীয় নানা ডিজাইন। ফেব্রিকের বৈচিত্র্য, রঙের ব্যবহার, কাট ও প্যাটার্নের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অলংকরণ শৈলী পাঞ্জাবিকে করে তুলেছে হাল ফ্যাশনের পোশাক। তবে সঙ্গে রয়েছে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের আমেজ। নানা রঙ, ডিজাইন ও কাপড়ের ভিন্নতায় বাহারি পাঞ্জাবি এনেছে বুটিক হাউসগুলো। এবার ঈদে প্রায় সব ফ্যাশন হাউসই পাঞ্জাবিতে এনেছে সুতি, সিল্ক, হাফসিল্ক, এন্ডি সিল্ক কাপড়ে অ্যামব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্ট ও হাতের কাজের নতুনত্ব। শিশুদের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। তরুণদের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে সর্বনিম্ন ৪৫০ টাকায়। তবে ফ্যাশন সচেতনদের জন্য ১৫ হাজার টাকার পাঞ্জাবিও রয়েছে। খাটো ঝুল, সেমি লং কিংবা লং পাঞ্জবির ফ্যাশন চলছে এ বছর। তবে সেমি লং, গাঢ় রংয়ের পাঞ্জাবির প্রতি আগ্রহ বেশি তরুণদের। শেরওয়ানি কলারের মধ্যে সুতার কাজ ও বুকের সুতার কাজের ভেতরে কাঠের ও স্টোনের বোতাম চলছে বেশি। এপ্লিক, বাটিক, ব্লক, পেইন্ট, এমব্রয়ডারি, সুতার কাজসহ সব ধরনের কাজ করা পাঞ্জাবিই ভালো বিক্রি হচ্ছে। আর তরুণদের আগ্রহের কথা বিবেচনায় রেখে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো তাদের পাঞ্জাবির কালেকশন বাজারে এনেছে। ছেলেদের পাঞ্জাবির বিশাল কালেকশন রয়েছে দেশীয় বুটিক হাউজ বাংলার মেলা, আড়ং, নিপুণ, ড্রেসিডেল, কে-ক্রাফট, অঞ্জনস, বিবিয়ানা, গ্রামীণ চেক, ওজি, রঙ, নাগরদোলা, দেশাল, মেঘ, স্বপ্নবাজ, নিত্য উপহার, প্রবর্তনা ইত্যাদি। শেরওয়ানি গলা পাঞ্জাবির চাহিদা অনেক। স্টোন, সুতা, কাঠ, ধাতুসহ বিভিন্ন উপকরণে তৈরি বোতাম ব্যবহার করা হয়েছে এসব পাঞ্জাবিতে। ছেলেদের সব পোশাকের ডিজাইনেই প্রাধান্য পেয়েছে প্রকৃতি ঘনিষ্ঠ মোটিফ। কিছু পাঞ্জাবিতে রয়েছে মেয়েদের পোশাকের মতো চুমকি, পুতি ও জড়ির সুতার কাজ। এছাড়া স্ট্রাইপ ও চেক তাঁতের কাপড়ের প্লেইন ও প্রিন্টের পাঞ্জাবিও রয়েছে। শার্ট ও পাঞ্জাবির মাঝামাঝি পোশাকের নাম ‘ফতুয়া’। গরমের পোশাক হিসাবে এই পোশাকটি ব্যাপক জনপ্রিয়। তাই সব বুটিক হাউজে থরে থরে সাজানো রয়েছে ফতুয়া। কাপড়ের ভিন্নতায় কারুকাজ করা ফুলহাতা ও হাফহাতার ফতুয়া এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। প্রবীণ-নবীন কিংবা শিশু সবাই পরতে পারে এই ফতুয়া। তবে ঈদে ক্রেতাদের আগ্রহ ফ্যাশন হাউসগুলোর দেশি কাপড়ের পাঞ্জাবির দিকেই। পাঞ্জাবি, ফতুয়া যাই হোক না কেন সুতি, অ্যান্ডি ও খাদি কাপড়ের তৈরি পোশাকগুলোই বরাবরের মতো জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবারও। অভিনবত্ব আনার চেষ্টা করা হয়েছে পাঞ্জাবির ডিজাইন ও শেপে। ঈদ উপলক্ষে শেরওয়ানি কলার এবং কামিজ শেপের সেমি শর্ট পাঞ্জাবি এসেছে বাজারে। গাঢ় রঙের প্রাধান্য পেয়েছে তরুণদের পাঞ্জাবিতে। এবার ঈদ গরমে হওয়ায় পাঞ্জাবির কাপড় যাতে আরামদায়ক হয় সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা হয়েছে বলে জানান বুটিক হাউসের কর্ণধাররা। তারা জানান, বুটিক হাউসগুলোতে ৬০০ টাকা থেকে ১৮ হাজার টাকায় পাঞ্জবি পাওয়া যাচ্ছে। তরুণদের পছন্দে পাঞ্জাবির পরই রয়েছে শর্ট শার্ট। শর্ট শার্ট ও ক্যাজুয়াল শার্টের চাহিদাও তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব শার্ট পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। সাদা পাঞ্জাবির পাশাপাশি বরাবরের মতো প্রাধান্য পেয়েছে কালো, সবুজ, নীল, বেগুনী, গেরুয়া, লাল, মেরুন, অফ হোয়াইট, পার্পেল রং এর পাঞ্জাবিগুলো। সুতার কাজের হালকা নকশার পাঞ্জাবিও বেশ ভালই চলছে। ডিজাইনে রয়েছে নানা ধরনের সুতার কাজ, এমব্রয়ডারি, হ্যান্ড পেইন্ট, ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট ইত্যাদি। বিপণী বিতানে ভারতীয় সুতি, জুট, মাইসুর, নরমাল, চাঁদনী, ফুল ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সুতি, এন্ডি, সফট ও হাফ সিল্কের পাঞ্জাবিগুলোই বেশ চলছে। বিপণী বিতান, দেশি ফ্যাশন হাউজ সবখানেই রয়েছে সুতি ও খাদি কাপড়ের প্রাধান্য। এরসঙ্গে আছে সফট সিল্ক, সিল্ক, এন্ডি সিল্কের পাঞ্জাবি। ফ্যাশন হাউজে প্রধান্য পেয়েছে তাঁতে বোনা কাপড় ও খাদি কাপড়ের। এসব পাঞ্জাবির সঙ্গে রয়েছে চুড়িদার, নরমাল ও ধুতি পায়জামা। সুতি সাদা পাঞ্জাবিতে অলওভার শেডওয়ার্ক, সাদা সুতায় কাজ করা পাঞ্জাবি, হাতের কাজ ও প্রিন্টের কম্বিনেশনে ট্র্যাডিশনাল পাঞ্জাবি থাকছে নানা রঙের। পার্টিতে পরবার জন্য রয়েছে এক্সক্লুসিভ শেরওয়ানি কাট পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবির বোতাম ও কলারে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করেছে ফ্যাশন হাউজগুলো।