বেড়িবাঁধসহ ফসলি জমি ও বাড়িঘর বিলীন হচ্ছে

বংশাই নদীতে কয়েকটি স্থানে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। তীব্র ভাঙনের ফলে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার উত্তরাঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ১১ কিমি বেড়ী বাঁধ ও রাস্তা নদী গর্ভে বিলিন হতে চলেছে। মির্জাপুর শহর রক্ষা বাঁধটি ভাঙ্গনের ফলে এ বছর ঐ এলাকায় বাঁধসহ ৫ হাজার একর ফসলি জমি এবং কয়েকশ বাড়ি ঘর বিলিন হবার পথে। গতকাল শনিবার ত্রিমোহন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নদী ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র। এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন অভিযোগ করেন, একটি মহল বংশাই নদীর ত্রিমোহন, গাড়াইল, চাকলেশ্বর, হিলড়া আদাবাড়ি, ফতেপুর, কোদালিয়া ও আজগানাসহ বেশ কিছু এলাকায় ১৫/২০টি বড় বড় ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী পৌর মেয়র, স্থানীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অদ্যাবধি প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জানা গেছে, উপজেলা সদরের সঙ্গে পাহাড়ি উত্তরাঞ্চলের ফতেপুর, তরফপুর, লতিফপুর, আজগানা, বাঁশতৈল ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ জন সাধারণের যোগাযোগের অন্যতম রাস্তা মির্জাপুর-পাথরঘাটা রাস্তা। বংশাই নদীতে দীর্ঘ দিন ধরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এই রাস্তাটি ভেঙ্গে চলাচল বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে। এলাকাবাসী জানান, মির্জাপুর-পাথরঘাটা সড়কের ত্রিমোহন বংশাই নদীর এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বাঁধের প্রায় কয়েক হাজার গজ সড়ক ভেঙে নদীতে পড়েছে। বর্তমানে নদী ভাঙন আরো তীব্রতর হচ্ছে। ঐ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চলবাসীকে ১৫/২০ মাইল ঘুরে পাথরঘাটা বাজারে যেতে হচ্ছে। তাদের দুর্ভোগ এখন চরম আকার ধারণ করছে। জরুরী ভিক্তিতে ভাঙন কবলিত বাঁধের আশপাশে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বাঁধটি পুরোপুরি নদীতে ভেঙে যাবে বলে আশংকা করছে এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর দাবির মুখে ত্রিমোহন, ফতেপুর বাজার ও স্কুল সংলগ্ন ভাঙন প্রতিরোধের জন্য জরুরি ভাবে গাইট বাঁধ ও অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রধান প্রকৌশলী ঘোষনা দিয়ে ছিলেন; কিন্তু তাদের সে প্রতিশ্রুতি আজও আলোর মুখ দেখেনি। এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং মির্জাপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার নাসরিন সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।