সাভারে চার বছরের শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার

সাভারে চার বছরের এক শিশু নিখোঁজের একদিন পর গত শুক্রবার রাতে একটি গোয়াল ঘর থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শারমিন আক্তার (৫) নামের এই শিশুকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত শারমিন স্থানীয় একটি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়তো। তার পিতা সোহেল আহম্মেদ জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে শারমিন আর বাসায় ফিরে আসেনি। পুলিশ জানায়, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পৌর এলাকার বাদশা মিয়ার বাড়ির গোয়াল ঘর থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যকে উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা এবং যেকোন উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনায় সংসদ সদস্যের সুপারিশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যা সংবিধান পরিপন্থী। তিনি বলেন, হস্তান্তরি বিভাগ সমূহের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরের কমিটি গঠন ও সুবিধাভোগী বাছাই ক্ষমতা এমপিরাই প্রয়োগ করে থাকেন। মনে হয়, মন্ত্রী এবং এমপিরা দেশের মালিক। আর আমরা নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা তাদের প্রজা। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মকে বিবেচনায় না নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের ইঙ্গিতে অপছন্দের তালিকায় পড়লেই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানকে অনাস্থা জ্ঞাপন করা হয় এবং ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কারণে অপসারণ করা হয়। যে কারণে আতংকে থাকেন উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানরা। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু আলম মো. শহিদ খান বলেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী না করলে দেশের উন্নতি, অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, টিআর, কাবিখা এখন বন্ধ করা উচিত। কারণ, এটা একটা চৌর্যবৃত্তিতে পরিণত হয়েছে। এই টাকাটা অন্যখাতে ব্যয় করা উচিত। তিনি বলেন, আমলা, পুলিশ ও গোয়েন্দা কখনোই কোন দলকে ক্ষমতায় আনতে পারবে না। ক্ষমতায় আনতে পারে শুধু জনগণ। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অতি: অ্যাটর্নি জেনারেল এম, কে, রহমান বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানরা ইউএনও’র দিকে তাকিয়ে থাকেন কখন উনি ফাইল ছাড়বেন। এরফলে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছেন। তাহলে আর উপজেলা পরিষদ করে লাভ কি? সংসদে যখন কোন সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন আসে তখন কিন্তু সব রাজনৈতিক দলের এমপিরা এক। তেমনি উপজেলা পরিষদকে কার্যকর করতে সব চেয়ারম্যানকে এক হতে হবে। তিনি বলেন, অনেক জায়গায় বেআইনিভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষণা করা হচ্ছে। এতে এলাকার জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে। নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর বলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের অধিকার আদায়ে তাদের অন্দোলন করতে হবে। আপনারা হয়ত আপনাদের দলীয় সরকারকে আন্দোলন করে বিব্রত করতে চান না। কিন্তু এতে নিজেরা নিজেদেরই অপমানিত হতে দিয়েছেন। জনপ্রতিনিধিদের বিভক্ত করে রাখার একটা কায়দা সরকার ইচ্ছে করেই করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সচিব এম, হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হবেন একজন এমপি। এ অবস্থা থেকে আমাদের বের হওয়া উচিত। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার পদ্ধতির পরিবর্তন দরকার। স্থানীয় সরকারকে অবজ্ঞা, অবহেলা করে দেশ আগাতে পারে না। আগামীতে হয়তো এখনকার অনেক উপজেলা চেয়ারম্যান এমপি হবেন, তখন কিন্তু সংসদে আপনাদের এ ব্যাপারে কথা বলতে হবে। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, যখন একজনের দায়িত্ব আরেকজন পালনের চেষ্টা করে তখনই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। আর এই কাজটাই করছে সংসদ সদস্যরা। অথচ উপজেলা পরিষদের কাজে সংসদ সদস্যদের কোন ভূমিকাই থাকার কথা নয়। তাদের কাজ আইন প্রণয়ন করা। তিনি বলেন, আমাদের অনেক সংসদ সদস্য এখন এতটাই বিতর্কিত যে, তারা এলাকায় যেতে ভয় পাচ্ছেন।