মিসরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত শতাধিক, আহত সহস্রাধিক
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:৩৫
মিসরের রাজধানী কায়রোতে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। মুরসির সমর্থকরা দাবি করছেন, নিহতের সংখ্যা একশ’রও বেশি এবং আহত সহস্রাধিক। তবে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, নিহতের সংখ্যা ৩৮ এবং আহতের সংখ্যা ১৮০। খবর বিবিসির।
কায়রোতে কিভাবে সংঘাত শুরু হয় তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মুসলিম ব্রাদারহুড অভিযোগ করেছে সামরিক বাহিনী হত্যার উদ্দেশ্যে জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থকদের রাস্তা ছাড়ার নির্দেশ দেয়ার কয়েক ঘন্টা পর নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সরিয়ে দিতে অভিযান শুরু করে। কায়রোতে এরকম একটা রক্তাক্ত সংঘাতের আশংকা করা হচ্ছিল গত ক’দিন ধরেই। গত বুধবার সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি দেশবাসীর প্রতি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য রাজপথে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান। এ আহবানে সাড়া দিয়ে শুক্রবার কায়রোর ঐতিহাসিক তাহরির স্কয়ারে অবস্থান নেয় বহু লোক। ব্রাদারহুড এবং মিসরের সেনাবাহিনী উভয়পক্ষই শুক্রবার তাদের হাজার হাজার সমর্থককে মাঠে তাদের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা চালায়। রাস্তায় সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও সংঘাত থামানো যায়নি। মধ্যরাতের পরই ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়।
ব্রাদারহুডের একজন মুখপাত্র জেহাদ আল হাদাদ জানান, কায়রোর পূর্ব অংশে একটি মসজিদকে ঘিরে তাদের সমর্থকরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে হামলা চালায়। তিনি জানান, ভোর রাত তিনটার দিকে পুলিশ প্রথমে টিয়ারগ্যাস এবং এরপর গুলি চালায়। তিনি বলেন, কেবল রাবা আল আদাউইয়া মসজিদ থেকেই ৩৮ টি মৃতদেহ নেয়া হয়েছে। রাবা আল আদাউইয়া মসজিদের পাশে একটি ফিল্ড হাসপাতালে শত শত গুলিবিদ্ধ মানুষের চিকিত্সা করা হয়। গুলিতে বেশিরভাগ মানুষ নিহত হয়েছেন এখানেই। ব্রাদারহুডের সমর্থকরা বলছেন, বিভিন্ন ভবনের ছাদে লুকিয়ে থাকা বন্দুকধারীরা তাদের ওপর সরাসরি গুলি চালায়। ফিল্ড হাসপাতালের একজন ডাক্তার বলেন, আঘাতের চিহ্ন দেখে বোঝা যায়, হত্যা করার জন্যই তাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল। দেশটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর আলেকজান্দি য়ায় সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হয়েছে।
গত ৩ জুলাই মিসরের সেনাবাহিনী মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এটাই এযাবত্কালের সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা। মুরসির সমর্থক রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সেনাপ্রধান জেনারেল সিসিকে দায়ী করেছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী উইলিয়াম হেগ মিসরের এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, মানুষের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচার করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাশটন মিসরের সহিংসতার নিন্দা করে সবাইকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহবান জানিয়েছেন। এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে যে কারাগারে রাখা হয়েছে সেই একই কারাগারে মুরসিকে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামেদ ইব্রাহিম।