বৃটিশ রাজ পরিবারে নতুন রাজপুত্র ‘জর্জ’

লন্ডনের সেন্ট ম্যারি’স হাসপাতাল। বাইরে অপেক্ষমাণ মানুষের ঢল। টান টান উত্তেজনা, উত্সাহ ও শুভকামনার মাঝে জন্ম নিল বৃটিশ রাজ পরিবারের ভাবী রাজা। শুধু বৃটেনই নয়, সারা বিশ্ব যেন তাকিয়ে আছে রূপকথার সেই রাজপুত্রের মুখ দর্শন করার জন্য। কখন দেখা যাবে সদ্যজাত ‘রাজ’ শিশু জর্জ আলেকজেন্ডার লুইসকে! কেননা সকলেই উদগ্রিব তাদের ভবিষ্যত্ রাজাকে বরণ করে নেবার জন্য। সোমবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ২৪ মিনিটে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন কেট মিডলটন। এদিকে প্রিন্স অব ওয়েলস, ডাচেস অব কর্নওয়াল ও কেটের পিতা-মাতা হাসপাতালে নবজাতককে দেখতে গিয়েছিলেন। প্রিন্স চার্লস বললেন, শিশুটি দেখতে অপরূপ। হাসপাতাল ছাড়ার সময় তারা তাদের নবাগত পুত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে হাজির হন অপেক্ষমাণ জনতার মধ্যে। সেই সুবাদে বহুল আলোচিত বৃটেনের নতুন প্রিন্সকে দেখল বিশ্ববাসী। বৃটেনের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিট রাজশিশুকে নিয়ে হাসপাতালের বাইরে আসেন রাজ দম্পতি। কেট সন্তানকে কোলে নিয়ে বললেন, এটা বিশেষ এক মুহূর্ত। উভয়ই বললেন, তাদের এ অভিজ্ঞতা অত্যন্ত আবেগময়। এক পর্যায়ে কেটের কোল থেকে সন্তানকে নিজের কোলে তুলে নিয়ে উইলিয়াম বলেন, তার ছেলে দেখতে কেটের মতোই। উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে উইলিয়াম বলেন, ‘আপনারা অনেকক্ষণ ধরে এখানে অপেক্ষা করছেন। এখন আপনারা সবাই নিজের বাড়িতে ফিরে যান। আমরাও ঘরে যাই আর ওকে দেখভাল করি।’ এরপর রাজদম্পতি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সন্তানের দায়িত্ব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উইলিয়াম বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি।’ এ সময় পাশে থেকে কেট বলে ওঠেন, ‘হ্যাঁ প্রথম ন্যাপি পরানোর কাজটি ওই করেছে।’ প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটন সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় চলে যান সেন্ট ম্যারি’স হাসপাতালে। এরপর নানা প্রস্তুতি শেষে স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ২৪ মিনিটে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটায় মিডিয়ার সামনে ঘোষণা দেয়া হয় রাজপুত্র এর জন্মের। আর ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে সে খবর প্রথম টুইটারে ছেড়ে দেন উইলিয়াম। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় হুলস্থূল। সাংবাদিকরা একবার বাকিংহাম রাজপ্রাসাদ, একবার হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। অবশেষে ওই দিনই সকাল ৭টা ২৮ মিনিটে রাজপ্রাসাদ নিশ্চিত করে। কেটকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৩১ বছর বয়সী কেট মিডলটন হাসপাতালে যাওয়ার আগের এক সপ্তাহ কাটান তার পিতা-মাতার সঙ্গে বাকলবারিতে। লেবার রুমে থাকার সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রিন্স উইলিয়াম।