২০১৩ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি বাংলা
হিমন এডওয়ার্ড গোমেজ সহকারি শিক্ষক সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল, ঢাকা
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৩, ১৯:৫৫
কাঁকনমালা আর কাঞ্চনমালা
প্রিয় শিক্ষার্থীরা আজ কাঁকনমালা আর কাঞ্চনমালা অধ্যায় থেকে আজও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর আলোচনা কর হলো।
গতকালের পর
চ. কাঁকনমালা কাঞ্চনমালার সাথে কেমন আচরণ করে? কেন করে?
উত্তর: কাঁকনমালা আর কাঞ্চনমালা গল্প থেকে আমরা জানতে পারি যে, কাঁকন মালা রানী কাঞ্চন মালার দাসীর নাম। হাতের কাঁকনের বিনিময়ে রাণি তার দাসীকে ক্রয় করেন।
রানি কাঞ্চনমালার হাতের কাঁকনে কেনা দাসী কাঁকনমালা কৌশলে রানি সাজে আর রানি কাঞ্চনমালা হন দাসী। এই সুযোগে কাঁকনমালা ক্ষমতার দম্ভে রানি কাঞ্চনমালার সাথে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করে। তাকে দিয়ে রাজবাড়ির সমস্ত কাজ করায়, আস্তাঁকুড়ে বসিয়ে মাছ কাটায়। এমনকি রাজবাড়ির সমসত্ম কাপড়-চোপড় পরিস্কার করার দায়িত্ব ও তার।
কাঁকনমালা হচ্ছে রানি কাঞ্চনমালার হাতের কাঁকনে কেনা দাসী। রানি কাঞ্চনমালা একদিন নদীতে স্নান করতে নামে। যেইনা কাঞ্চনমালা নদীতে ডুব দেন এমনি দাসী কাঁকনমালা রানির সব গয়নাগাঁটি, নদীর তীরে রাখা রানির শাড়ি পরে রানি সেজে যায়। আর রানি কাঞ্চনমালা হয়ে যান দাসী। কাঁকনমালা নকল রানি হলেও কেউ যেন তা বুঝতে না পারে। সে কারণে কাঁকনমালা কাঞ্চনমালার সাথে এমন খারাপ আচরণ করে।
কাঁকনমারা আসর রানি নয়, তাই সব সময়ই তার মধ্যে ধরা পড়া ও ড়্গমতা হারানোর ভয় থাকে। যে কারণে নিজের অবস্থান সম্বন্ধে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য কাঁকনমালা কাঞ্চমালার সাথে খারাপ আচরণ করে।
ছ. কাঞ্চনমালা কোথায় অচেনা মানুষের দেখা পায়?
উত্তর: নকল রানির দেয়া একরাশ কাপড় ধুতে নদীর ঘাটে যাওয়ার পথে বনের পাশে গাছতলায় কাঞ্চনমালা অচেনা মানুষের দেখা পায়।
জ. অচেনা মানুষ কীভাবে সুচরাজা ও কাঞ্চনমালাকে উদ্ধার করে?
উত্তর: রূপকথার গল্পে অনেক সময় দেখা যায়, প্রজার মাধ্যমে রাজা তার স্তার্থ উদ্ধার করে, আবার সেই প্রজাকেই রাজ দূরে ছুড়ে মারে। কিন্তু রাজা যখন কঠিন বিপদে পড়ে তখন সেই প্রজাই তাকে ঘটনাচক্রে বিপদ থেকে রক্ষা করে । এটা যেন স্রষ্টারই খেলা।
রাজপুত্র রাজা হয়ে গেলেও গরিব রাখালবন্ধুকে দেওয়া প্রতিজ্ঞা তিনি রক্ষা করেন নি। ফলে এক রাতে তার সমস্ত শরীর সুচবেঁধা হয়ে যায়। অন্যদিকে রানি কাঞ্চনমালার হাতের কাঁকনে কেন দাসী কৌশলে হয়ে যায় রানি আর কাঞ্চনমালা হয়ে যান দাসী। তারপর নকল রানি কাঁকনমালা তার ইচ্ছেমতো রাজবাড়ির সমস্ত কাজকর্ম করায় কাঞ্চনমালাকে দিয়ে। এমতাবস্থায় কাঞ্চনমালা কাপড় কেচে আনার জন্য নদীতে যাওয়ার সময় এক অচিন লোকের দেখা পান। কাঞ্চনমাল অচিন মানুষকে রাজপ্রাসাদে নিয়ে আসার পথে তার সকল দু:খের কথা বলেন। সব শুনে অচিন মানুষ রাজাপ্রাসাদে এসে পিটকুডুলির ব্রতের কথা বলে নকল রানি ও কাঞ্চনমালাকে পিঠা বানিয়ে বিলাতে বলে। নকল রানি ও কাঞ্চনমালা দুজনেই পিঠা বানায়। কিন্তু নকল রানি যে পিঠা বানায় তা মুখেই দেওয়া যায় না। আর কাঞ্চানমালা যে পিঠা বানান তা মুখে দেয়া মাএই সকলের মন ভরে যায়। আবর উঠানে আল্পনা দিতে গিয়ে নকল রানি এখানে ওখানে খাবলা রং লেপে আর কাঞ্চনমালা আঁঁকেন পদ্ধলতা ও আরও বিভিন্ন রকম জিনিসের চিএ । তখন লোকেরা বুঝতে পারে কে আসর রানি, আর কে দাসী । এমতাবস্থায় অচেনা মানুষ কাঁকনমালাকে সত্য কথা বলতে বললে সে রেগে যায় এবং জল্লাদকে বলে অচেনা মানুষ ও কাঞ্চনমালার গর্দান নিতে। কিন্তু অচেনা মানুষ তার মন্ত্রের মাধ্যমে জল্লাদকে বেঁধে ফেলে আর সুচরাজার গায়ের সকর সুচ নকল রানির চোখে-মুখে এনে বিঁধায়। জ্বালা যন্ত্রণায় ছটফটিয়ে নকল রানি মারা যায়। এভাবেই অচিন মানুষ সুচরাজা ও কাঞ্চনমালাকে উদ্ধার করে।
অন্যায়কারী যতই প্রভাবশালী কিংবা ক্ষমতাবান হোক না কেন, একদিন না একদিন তাকে শাস্তি পেতেই হয়।