বিদেশে পাটের নতুন বাজার
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৩, ২১:৫৫
খুলনা-যশোর অঞ্চলের পাটকলগুলিতে উত্পাদিত পাটজাত পণ্যের চাহিদা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতদিন প্রায় কুড়িটি দেশে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হতো। এখন আরো ৫টি দেশে পাটের নতুন বাজার সৃষ্টি হয়েছে। দেশগুলি হচ্ছে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সৌদি আরব, চেকস্লোভাকিয়া ও ইরান। প্রায় প্রতি মাসেই বিদেশ নতুন নতুন ক্রেতারা বাংলাদেশের সাথে পাট ও পাটজাত পণ্য ক্রয়ের ব্যাপারে যোগাযোগ করছেন। বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি) সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক দেশেই পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে আসছে। দেশগুলি হচ্ছে ভারত, পাকিস্তান, চীন, ব্রাজিল, এলসালভাদর, নেপাল, ভুটান, রাশিয়া, আইভরিকোস্ট, কিউবা, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, স্পেন, তিউনিসিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ইথিওপিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি। কিন্তু বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা-হরতালের কারণে এই রপ্তানি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। সাম্প্রতিক হরতাল ও নৈরাজ্যের কারণে সিরিয়া, মিসর, ইরান, ইরাক ও লিবিয়া বাংলাদেশের পাট কেনা আগের চেয়ে কমিয়ে দিয়েছে। সুদানে চটের বস্তার বড় বাজার থাকলেও সেখানেও আপাতত রপ্তানি বন্ধ। পাশাপাশি বন্যার কারণে ভারতও পাট ক্রয় খানিকটা কমিয়ে দিয়েছে।
বিজেএমসি সূত্র জানায়, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে আমাদের নতুন বাজার সৃষ্টি হয়েছে। চেকস্লোভাকিয়া ও সৌদিআরবেও শীঘ্রই পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু হবে। গত ২৪ জুলাই চেকস্লোভাকিয়ার বায়ারদের একটি দল খুলনার খালিশপুরস্থ ক্রিসেন্ট জুট মিল ও খালিশপুর জুটমিল পরিদর্শন করে গেছেন।
খালিশপুর জুট মিলের ব্যবস্থাপক জানান, গত অর্থবছর খালিশপুর জুট মিল থেকে ৭০ কোটি টাকা মূল্যের ১৯শ’ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য সুদান, সিরিয়া ও ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে। ভালোমানের কারণে বিশ্বের বহুদেশে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা রয়েছে। অনেক নতুন দেশই ইতিমধ্যে আমাদের পণ্য কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছে। জুট মিলগুলি যদি তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারে তবে প্রতি বছরই রপ্তানির পরিমাণ বাড়বে। ক্রিসেন্ট জুট মিলের রপ্তানি বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ইরান থেকে গত জুন মাসে বায়াররা এসে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে।
বিজেএমসি খুলনা জোনের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা জানান, এ অঞ্চলের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত ৭৮ হাজার ৫৪৩ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উত্পাদন হয়। শুধু মে মাসেই ভিয়েতনামে ১৩ কোটি টাকা মূল্যের ১৮ হাজার বেল পাট রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া ১৩৮টি বেসরকারি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মে মাসে ১ হাজার ৩১২ কোটি টাকা মূল্যের ১৮ লাখ বেল পাট রপ্তানি করে। স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে এবং মংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর দিয়ে জাহাজে করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উত্পাদিত ওই পণ্য রপ্তানি করা হয়। এ অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলি হচ্ছে প্লাটিনাম জুটমিল, ক্রিসেন্ট জুটমিল, খালিশপুর জুটমিল, স্টার জুটমিল, দৌলতপুর জুটমিল, আলিম জুটমিল, ইস্টার্ণ জুটমিল, জেজেআই ও কার্পেটিং জুটমিল।
খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন জুটমিল কর্তৃপক্ষ জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে উত্পাদন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। ক্রিসেন্ট জুট মিলের ডেপুটি ম্যানেজার জানান, বিদ্যুত্ বিভ্রাটের কারণে এ বছরের প্রথম ৬ মাসে অন্তত ২৪৫ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য কম উত্পাদন হয়,যার মূল্য ২ কোটি ১৯ লাখ টাকা।