শুরু হলো নির্বাচনী উত্তেজনা

বিসিবি ও ফোরামের মিটিং আজ

নির্বাচন, বিশ্বকাপ, প্রিমিয়ার লিগ, আকসু রিপোর্ট; অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে রেখে আজ সোমবার মিটিংয়ে বসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এডহক কমিটি। আলোচ্যসূচিতে এরকম গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় থাকলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ সভায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে নির্বাচনের দিনক্ষণের ব্যাপারটি। বিসিবির এ সভায় কোনো প্যানেল নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপির প্যানেল গোছানোর কাজ যে শুরু হয়ে গেছে, সেটা গত শনিবার তার বক্তব্যে অনেকখানি স্পষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও তার পক্ষের অনেকেই বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে তার প্যানেল ঘোষণা হতে পারে বলেও জানা গেছে। আবার এই নির্বাচন নিয়ে বিসিবি এডহক কমিটির মুখোমুখি হয়ে পড়া জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর সংগঠনও আজ বসছে নিজেদের করণীয় ঠিক করতে। ফোরাম নামে পরিচিত এই সংস্থার সভাপতি ইউসুফ জামিল বাবু নিশ্চিত করলেন, তারা আজ মিটিংয়ে বসছেন। যদিও কি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, সে নিয়ে মুখ খুললেন না তিনি। তবে সূত্র মতে, তাদের আজকের আলোচনার সিংহভাগজুড়ে থাকবে নাজমুল হাসান পাপনের ‘উপেক্ষা প্রসঙ্গ’। গত শনিবার বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ফটোসেশনে এসে কথাপ্রসঙ্গে বিসিবির বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, নির্বাচনে ৩২টি ক্লাব তার সঙ্গে থাকবে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রামের আ জ ম নাসিরও তার সাথে আছেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। এরপর আর কেউ নির্বাচনে তার সঙ্গে না থাকলেও এ নিয়ে দুর্ভাবনা নেই বলে দাবি করেন বিসিবির বর্তমান সভাপতি। নাজমুল হাসান পাপনের কথায় জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলো নিজেদের ‘উপেক্ষিত’ বলে মনে করছে; কিন্তু বর্তমান গঠনতন্ত্র বলছে, বিসিবি সভাপতির বক্তব্য সঠিক হলে অনেক বেশি কাউন্সিলরশীপ নিয়েও জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ পক্ষে তাকে টলানো কঠিন হবে। নাজমুল হাসান পাপনের লক্ষ্য সভাপতির পদ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি নির্বাচিত হবেন নির্বাচিত বোর্ড পরিচালকদের ভোটে। বিসিবির নির্বাহী কমিটিতে বিভাগীয় ও জেলা সংস্থাগুলো থেকে আসবেন ১০ জন পরিচালক। বিপরীতে ঢাকা মহানগরীর ক্লাবগুলো থেকে আসবেন ১২ জন পরিচালক। সেই সঙ্গে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে তিনজন এবং অন্যান্য শিরোনামে সরকার মনোনীত এক জন কাউন্সিলর আসবেন বিসিবিতে। পরিচালকরা নির্বাচিত হবেন তাদের নিজ নিজ ক্যাটাগরির কাউন্সিলরদের ভোটে। এর মানে ক্লাবের পক্ষ থেকে আসা পরিচালকদের পক্ষে বা বিপক্ষে জেলার কাউন্সিলরদের ভোট দেয়ার কোনো সুযোগ নেই! এর মধ্যে নতুন সংশোধনীর ফলে জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলরদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরো একটু বাধা তৈরি হয়েছে। আগে জেলা ও বিভাগের ৭১ জন কাউন্সিলর সরাসরি ভোটে তাদের ১০ জন পরিচালক নির্বাচন করতেন। এখন মুশকিল হলো- শুধু যার যার বিভাগের পরিচালক নির্বাচন করতে পারবেন ওই বিভাগের জেলা ও বিভাগীয় সংস্থার কাউন্সিলররা। আবার এই কাউন্সিলদের নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে। এর ফলে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে মনোনীত এই কাউন্সিলরদের সরকারি সমর্থনপুষ্ট প্যানেলের পক্ষে নিয়ন্ত্রণের যে একটা সুযোগ থাকবে; সেটা বলাই বাহুল্য। এমনকি পাপন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে আসা একজন পরিচালকের ভোট না পেয়েও কেবল ক্লাব, এনএসসি ও অন্যান্য কোটার পরিচালকদের ভোটেই সভাপতি হতে পারবেন। প্রশ্ন হলো- এই তিন ক্যাটাগরির সব পরিচালকই পাপনের পক্ষে থাকবেন কি না। ক্লাবগুলোর মধ্যে অন্তত ত্রিমুখী টানাপোড়েন পরিষ্কার। সেই টানাপোড়েনে প্রিমিয়ারের ভোট বেড়ে যাওয়া একটা বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। কারণ নতুন নিয়মে প্রিমিয়ার লিগের সেরা ছয় দল (সুপার লিগের) আসছে নির্বাচনে দুইটি করে ভোটাধিকার পাচ্ছে। তবে ক্লাবগুলোর পরিচালক নির্বাচনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের দোদুল্যমান ভোটারদের শেষ সময়ের অবস্থানই আসলে অনেক কিছু ঠিক করে দেবে। এই সব জটিল পরিসংখ্যান মাথায় রেখে একটা কথাই বলা যায়, জমজমাট নির্বাচন দেখতে পারে ক্রিকেট অঙ্গন। যদি একাধিক প্যানেল নির্বাচনে দাঁড়ায়।