ঈদ উপলক্ষে বরিশালে মার্কেটে বাহারী ডিজাইনের পোশাক
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৬
ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে নগরীর শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। নগরীর চকবাজার, মহসিন মার্কেট, ভেনাস শপিং কমপ্লেক্সসহ বিপণী বিতানগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। এবার ঈদ মার্কেটে এসেছে হরেক রকম বাহারী ডিজাইনের রং-বেরংয়ের পোশাক। বিক্রেতারা জানান, এ বছর বিদেশি পোশাকের চেয়ে দেশি পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি। মেয়েদের কিছু ভারতীয় পোশাক বিক্রি হওয়ার বাইরে বিদেশি পোশাকের প্রতি তেমন কোন আগ্রহ নেই ক্রেতাদের।
নগরীর চকবাজার, ভেনাস মার্কেট, জোহরা মার্কেট, মাহমুদ মার্কেট, বেল ইসলামিয়া মার্কেট, মমতা কমপ্লেক্স, কাটপট্টির তালুকদার কমপ্লেক্স, সদর রোডের পোশাক বাজার ও সুলভ শপিং সেন্টারে গতকাল রবিবার ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। তরুণ-তরুণীরা ব্যস্ত হাল ফ্যাশনের পোশাক কিনতে। তরুণ-তরুণীদের পছন্দের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ভেনাস মার্কেট, জহুরা মার্কেট, মাহমুদ ডিপার্টমেন্টাল স্টোর্স, নেক্সট প্লাস, ইউরো ফ্যাশন, ব্যবিলন ও লাকি গার্মেন্টসে। গীর্জা মহল্লার এসব মার্কেট ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে বিক্রির শীর্ষে রয়েছে মেয়েদের থ্রি-পিস সোনাক্ষী, বাহামনি, অর্চনা, ক্যাটরিনা, জানেমান, আওয়ারা, টুইনওয়ান, ক্লিওপেট্রা, আটশারা। জমকালো এসব পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ২৫শ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে।
এসব দোকান ছাড়াও বগুড়া রোডের সাজরিনী মার্কেট, সোবাহান কমপ্লেক্সসহ নগরীর হাসপাতাল রোড, মল্লিক রোড, ফকিরবাড়ী রোডসহ বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় নতুন নতুন দোকানে পাওয়া যাচ্ছে অত্যাধুনিক গার্মেন্টস আইটেমের পোশাক। ঈদ উপলক্ষে প্রায় ১ কোটি টাকার পোশাক দোকানে তুলতে হয়েছে বলে ছোট দোকানীরা জানান। অন্যদিকে বড় নামি-দামি শো-রুমগুলোতে বিপুল অংকের টাকা বিনিয়োগ করে পোশাক তোলা হয়েছে ঈদকে কেন্দ্র করে। তারা ক্রেতাদের কাছ থেকে ভাল সাড়া পাচ্ছেন বলে ইত্তেফাককে জানান।
রুচিশীল ক্রেতারা একটু দামি পোশাক কিনতে ভিড় করছেন চকবাজার, গীর্জা মহল্লাস্থ ভেনাস মার্কেট, নেক্সট প্লাস, সোবাহান কমপ্লেক্স, পোশাক বাজার, ফকির কমপ্লেক্সসহ প্রতিষ্ঠিত শপিংমলগুলোতে। এ সব মার্কেটে ছেলেদের জন্য এবার এসেছে কাতুয়া, মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা মাহিশুর, কটন, আসাম ইসকান ও পাকিস্তানি কাবলী পাঞ্জাবী। এ সব পোশাক বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়।
তরুণীদের পছন্দ হাল
ফ্যাশনের শাড়ি
ঈদে নতুন শাড়ি বাঙালি নারীর প্রথম পছন্দ। আর শাড়ি কিনতে এখনো ঐতিহ্যবাহী এলাকা হিসাবে পরিচিত চক বাজার। শাড়ি কিনতে চকের কোন বিকল্প মার্কেট এখনো গড়ে ওঠেনি। চক বাজারের শাড়ি ব্যবসায়ীর অন্যতম মৃণাল সাহা। তার চকবাজারে স্বদেশী ও নিউ স্বদেশী নামের দুটি দোকানের পাশাপাশি বাজার রোডে ঢাকাই বস্ত্রালয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কয়েক কোটি টাকার শাড়ি তোলা হয়েছে। মৃণাল সাহা জানান, ঢাকাই বস্ত্রালয় থেকে শুধুমাত্র পাইকারী শাড়ি ও লুঙ্গি বিক্রি করা হয়। খুচরা বিক্রি হচ্ছে চকবাজারের দুটি দোকান থেকে। এবার ঈদে খুচরা দোকান থেকে ৭শ থেকে ৪ হাজার টাকা দামের টাংগাইল শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে। একই সাথে ৪শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা দামের যাকাতের শাড়ি বিক্রি হচ্ছে তার তিনটি দোকান থেকেই।
চকবাজারের স্বদেশী ও নিউ স্বদেশী ছাড়া মানসম্মত নতুন ডিজাইনের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ময়ূরী ও কুন্ডেশ্বরীসহ প্রতিষ্ঠিত দোকানগুলোতে। একই স্থানের চাঁদনী ও পালকীতে শাড়ি লুঙ্গি কেনার জন্য ক্রেতারা ভিড় করছেন। এবার ঈদে চকবাজারে নতুন শাড়ি এসেছে জয়পুরা, ধুপিয়ান, কাঠিয়াল, অপেরা, কাঞ্জীবরণ, গাদোয়াল, চোষা, ঝুট জামদানি, টিসু কাপড়ের শাড়িসহ মসলিনের কাজ করা ও নেটের শাড়ি। এসব শাড়ির বিক্রি বেশি বলে চকবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান।
শাড়িগুলোর দাম প্রকারভেদে ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এদিকে সদর রোডের পারফেক্ট টেক্সটাইলে বিক্রি হচ্ছে চোখ ধাঁধানো কাজ ও রঙের শাড়ি। শো-রুমের ম্যানেজার মেহেদি হাসান বাবু জানান, মসলিন নেট, টিস্যু, হাফসিল্ক, নেককাটিং, কারচুপি, জামদানিসহ ক্রেতারা নতুন কালেকশন বেশি বাছাই করে নিচ্ছেন। তবে প্রায় সব দোকান ও শো-রুম থেকেই জানানো হয়েছে এবার নারীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে দেশি শাড়ি।
দেশি শাড়িগুলোতে নতুন ডিজাইনের নিপুণ কারুকাজ ক্রেতাদের বেশি আকৃষ্ট করায় ভারত থেকে আমদানি করা শাড়ি বিক্রি হচ্ছে না। শাড়ি ব্যবসায়ী ননি সাহা জানান, বোম্বের যে শাড়ি তারা এবার আমদানি করছেন তার দাম ৫ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ভারতীয় শাড়িগুলোর নাম দেয়া হয়েছে হিন্দি সিরিয়ালের নাম অনুসারে। বেহুলা, ঝলমল, ভালবাসা ডটকম, প্রতিজ্ঞা, পায়েলসহ শাড়ি ঈদ বাজারে এলেও চাহিদা নেই।