ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেহাল অবস্থা কাটেনি
কামরুজ্জামান মানিক, ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৯
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উন্নয়ন কাজে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। মহাসড়কটি ৪ লেন উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ২৫ দশমিক ৫৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে এ সড়কটির উন্নয়ন কাজ যোগাযোগমন্ত্রী কয়েক দফায় পরিদর্শন করেছেন। এদিকে সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করা প্রায় অর্ধলক্ষাধিক যাত্রীর দুর্ভোগ এখন চরম অবস্থায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের দুর্ভোগের আশংকা থাকলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৪ লেন প্রকল্পের উন্নয়নের ‘কারণে’ ভাঙ্গা রাস্তা সংস্কারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। এর ফলে এ মহাসড়কে চলাচল করা যাত্রীদের দুর্ভোগ প্রতিনিয়ত অসহনীয় হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত যাওয়ার ২ ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৫ থেকে ৭ ঘন্টা। বর্তমানে মহাসড়কের ত্রিশালের বৈলর, দরিরামপুর, নওধার লেকেরপাড়, ভালুকার মল্লিকবাড়ি মোড়, পৌরসদরের থানার মোড় থেকে কলেজ পর্যন্ত, সিডষ্টোর বাজার ও জামিরদিয়া মাষ্টাবাড়ি এলাকার পুরাতন সড়কের কার্পেটিং একেবারে উঠে গেছে। কোথাও কোথাও ইটের সলিং পর্যন্ত বিলীন হয়ে গেছে। দেখে বোঝার উপায় নেই যে, সড়কটি এক সময় পাকা ছিল। খানাখন্দের কারণে সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কচ্ছপ গতিতে যানবাহন চলছে। কোথাও কোথাও বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলছে হেলে দুলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ মোড় থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ৯শ’ ২ কোটি ২২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে কাজ শুরু বিলম্বের কারণে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে হয় ৯শ’ ৯২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত ৩৬ মাসের মধ্যে প্রকল্পের অধীনে ভালুকা, বানার, খীরু, সুতিয়া ও পাগারিয়া নদীর উপর ৫টি সেতু, মাওনা বাজারের ৪৫০ মিটারের একটি ফ্লাইওভার, শালনায় একটি রেলওয়ে ওভার পাস, জয়দেবপুর, ভালুকা, ত্রিশাল ও ময়মনসিংহে ৪টি স্টিল ফুট ওভারব্রিজ, ১০৮টি নতুন বক্স কালভার্ট নির্মাণ ও ৩৯টি কালভার্ট বর্ধিতকরণ করার কথা ছিল। কিন্তু মহাসড়কটির উন্নয়ন কাজের ৪টি প্যাকেজের মধ্যে ২টি প্যাকেজ মামলার কারণে ২ বছর আটকে থাকে। এ কারণে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই ২টি প্যাকেজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পেশাল ওয়ার্কস অরগানাইজেশনের (পশ্চিম) নিকট হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৩০ দশমিক ২৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
অপরদিকে প্যাকেজ-৩ শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে ত্রিশালের রায়মনির অধীনে চলতি বছরের ১৩ জুনের মধ্যে ৯৮ দশমিক ৩৪ ভাগ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৮ জুলাই পর্যন্ত ২৩ দশমিক ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আর মাটি ভরাটের কাজে ৬৬ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে। এছাড়া প্যাকেজ-৪-এ ত্রিশালের রায়মনি থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ মোড় পর্যন্ত চলতি বছরের ১৩ জুনের মধ্যে ৯৮ দশমিক ১০ ভাগ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৮ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ২৭ দশমিক ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এ প্যাকেজে মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। এদিকে ৪ লেন প্রকল্পের ৩নং প্যাকেজ ভালুকা অংশের কাজ শেষ করতে আরও দেড় বছর সময় চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড।
জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ৪ লেন উন্নীতকরণ প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. মোকাদ্দেস উল হক বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর রাস্তার অবস্থা অনেকটা ভালো। আমরা নতুন রাস্তার ওপর জোর দিচ্ছি। পাশাপাশি পুরানো রাস্তা সচল রাখার চেষ্টা করছি।