উইলটি জাল, মহারাজার দুই কন্যাই এই বিপুল সম্পদের মালিক

ভারতের একটি আদালত ৩২ বছরের পুরানো একটি উইলকে ‘জাল’ ও ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে ফরিদকোটের সাবেক মহারাজা হরিন্দর সিং ব্রারের দুই কন্যাকে ২০ হাজার কোটি রুপি মূল্যের সম্পত্তির উত্তরাধিকার অর্পণ করেছে। রবিবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, এই বিশাল সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে নয়াদিল্ল¬ীর কোপার্নিকাস মার্গে অবস্থিত প্রাসাদোপম ফরিদকোট হাউস, ফরিদকোটে একটি প্রাসাদ কমপ্লেক্স ও একটি কেল¬্লা, চণ্ডিগড়ের মনি মাজরা এলাকায় একটি কেল¬্লা, একটি রোলস রয়েসসহ কয়েকটি ভিন্টেজ কার, ফরিদকোটে ২শ’ একর জমির উপর একটি এয়ারড্রোম বা বিমানশালা, হায়দরাবাদ ও দিল্ল¬ীতে ভূ-সম্পত্তি, এক হাজার কোটি রুপি মূল্যের স্বর্ণ ও অন্যান্য অলংকার এবং আরো অনেক কিছু। রিয়াল এস্টেট বিশেষজ্ঞ ও হিসেববিদরা বলছেন, ফিরে পাওয়া সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়াবে ২০ হাজার কোটি রুপির বেশি। মনি মাজরা ফোর্টটি ৩৫০ বছরের বেশি পুরানো, এটি খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভের পর সাবেক মহারাজাকে এই সম্পত্তি রাখার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। ১৯৯২ সালে সাবেক মহারাজার মেয়ে অমৃত কাউর আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়। ২২ বছর পর মুখ্য বিচারিক হাকিম রজনিশ কুমার বৃহস্পতিবার আদেশ দেন যে, ১৯৮১ সালে কৃত উইলটি ‘জাল ও বানোয়াট’। এই রায়ের ফলে অমৃত কাউর ও তার কলকাতাবাসী বোন দিপিন্দর কাউর সাবেক মহারাজার বিপুল সম্পত্তির মালিক হবেন। মহারাজার তৃতীয় কন্যা মাহিপিন্দর কাউর ২০০১ সালে রহস্যজনকভাবে মারা যান। তিনি চিরকুমারী ছিলেন। ব্রারের এক পুত্র সন্তানও ছিল। তার নাম হরমহিন্দর সিং। তিনি ১৯৮১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এ ঘটনায় সাবেক মহারাজা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। অমৃত কাউর বলেন, এ সময় সাবেক মহারাজার কর্মচারীরা উইলটি জাল করেন। এই জাল উইল অনুযায়ী মহারাজার যাবতীয় সম্পত্তি মেহারওয়াল খেওয়াজি ট্রাস্টকে দান করা হয়েছে। এই ট্রাস্টটি ১৯৮২ সালে নিবন্ধিত হয়। সাবেক মহারাজার কয়েকজন কর্মচারী এই ট্রাস্টের বোর্ড সদস্য। মহারাজার দুই মেয়েকে মাসে মাত্র ১২শ’ ও এক হাজার রুপি বেতনে ট্রাস্টের চেয়ারপার্সন ও ভাইস চেয়ারপার্সন করা হয়েছে।