বাস্তবতার নিরিখে পুরান আইন সংস্কার জরুরি
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২১:২৪
এ পর্যন্ত দেশের ৩৯টি জেলায় ১২তলা আদালত ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও অবকাঠামো সমস্যার কারণে মামলা জট থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। ব্রিটিশরা এ দেশ শাসনের উদ্দেশ্যে ১৮৬১ সালে যেসব আইন করেছিলো তা দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। বাস্তবতার নিরিখে পুরনো যেসব আইন রয়েছে তা সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মতামত দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, গত রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনায় এসব বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো.ফজলে রাব্বি মিয়া জানান, বাংলাদেশে প্রচলিত আইনের সংখ্যা এক হাজার ২০০ এর বেশি। দেশের বর্তমান অবস্থায় দণ্ডবিধি, ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যবিধিসহ অনেক আইনেরই সংস্কার করা প্রয়োজন। আইন কমিশন ১৯৯৬ সালে কার্যক্রম শুরু করলেও তারা যথাযথভাবে কাজ করেনি। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটি আইন কমিশনকে প্রচলিত আইনের সংস্কার দ্রুত শুরু করতে বলেছে।
আদালত ভবনের অবকাঠামো সংস্কার, বিচারকদের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি পুরনো আইন সংস্কার করা হলে মামলার জট কমিয়ে আনা সহজ হবে। বৈঠকে কমিটির সদস্যরা এ ধরনের মতামত দিয়েছেন বলে সূত্র জানায়। পুরনো আইন সংস্কারের বিষয়ে কমিটির সুপারিশের সাথে আইন কমিশনের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক একমত পোষণ করেন।
সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে উপস্থিত থেকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, ১৮৬১ সালে ব্রিটিশরা এ দেশ শাসন করার জন্য যেসব আইন করেছিলো তা দিয়ে আজকের বাংলাদেশ চলতে পারে না। পুরনো সকল আইন সংস্কার করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এদিকে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করে নতুন আইন প্রণয়নেও আইন কমিশনকে কার্যকরি ভূমিকা রাখার সুপারিশ করেছেন।
এদিকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, অবকাঠামোর সমস্যার কারণে মামলা জট থেকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকার শুরু থেকে কাজ করছে। ইতিমধ্যে দেশের ৩৯টি জেলায় ১২তলা আদালত ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অপর জেলাগুলোতে কাজ চলছে। তাছাড়া মামলার জট কমানোর জন্য ৩০০ বেশি বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির কার্যপত্রে বলা হয়েছে, আইন কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত ১৯টি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (এ্যামেন্ডমেন্ট) এ্যাক্ট-২০০৯, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন-২০১২, অর্থ ঋণ আদালত আইন-২০০১ ও তথ্য অধিকার আইন-২০০৯। সূত্র জানায়, পুরনো সকল আইন সংস্কার করার কথা বলা হলেও এ কাজটি বর্তমান সরকারের মেয়াদে করা সম্ভব হচ্ছে না।