কুমিল্লার মার্কেটে রকমারী পোশাকের সমারোহ
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৫
কুমিল্লায় পনের রোজার পর থেকে বেশ জমে উঠেছে ঈদের বাজার। শপিংমলগুলোয় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বেচা-কেনা। ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে যে যার সাধ্য অনুযায়ী পোশাক আর প্রসাধনী সামগ্রী কিনছেন। ঈদ মার্কেটে শাড়ি-থ্রি-পিসের দোকানগুলোতে তরুণীদের উপচেপড়া ভিড়। তবে দেশি থ্রি-পিসের চেয়ে ভারতীয় বিভিন্ন থ্রি-পিস বাজার দখল করে নিয়েছে। ৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে এসব থ্রি-পিস। রয়েছে বিভিন্ন রকম শাড়ি এবং জুতার সমাহার।
নগরীর মার্কেটগুলো আকর্ষণীয় সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর আলো ঝলমলে হয়ে ওঠে বিপণি বিতানগুলো। ক্রেতা আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন বিপণি বিতান ও অভিজাত মার্কেট কেনাকাটার ওপর লটারি ও পুরস্কার ঘোষণা করেছে। নগরীর ইস্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজা, সাত্তার খান কমপ্লেক্স, খন্দকার হক টাওয়ার, হোসনে আরা ম্যানসন, সাইবার ট্রেড, নূর মার্কেট, ময়নামতি টাওয়ার, কুমিল্লা টাওয়ার, গণি ভূঁইয়া মার্কেট, টাউন হল সুপার মার্কেট, আড়ং, চৌরঙ্গী শপিং সেন্টার এবং রোসা সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, ভারতীয় রকমারী থ্রি-পিস রমণীদের প্রথম পছন্দ। খন্দকার হক টাওয়ারের ‘ফিলিংস’ নামক দোকানের মালিক মিজানুর রহমান আকাশ জানান, অন্যবারের তুলনায় এবার রমণীদের কাছে ভারতীয় থ্রি-পিসের চাহিদা খুব বেশি। তাদের সাফ কথা- দাম বড় কথা নয় পছন্দের পোশাকটি চাই। বিক্রিও হচ্ছে যথেষ্ট। অন্যান্য শপিংমল ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। ইস্টার্ণ প্লাজায় কথা হয় গৃহিণী ফরিদা ইয়াসমীন, পারভীন সুলতানা, কণা, খোরশেদা বেগম, কলেজ ছাত্রী মিশু, অমি, সুমী, স্বর্ণাসহ ক্রেতাদের সাথে। তারা বলেন, এবার বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক অনেকটা সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। শিশু ও মেয়েরা পছন্দের কাপড়টি কিনে হাসি মুখেই বাড়ি ফিরছে। ভারতের তৈরি নামি-দামি ব্র্যান্ডের জর্জেট কাপড়ের থ্রিপিসের মধ্যে বিপুল, বিপাশা, মোনাসিং, কারিশমা, বিবেক, মোগলে আযম, জুবায়েদা, রিভা, আধা, মোহিনী, রৌশনী ও কটনের মধ্যে গঙ্গা, জিনাম, ঋতুরানী, জেরিন, ইয়াসিকি, পাকিস্তানী জামদানী, কাশ্মীরি চুন্ডি কাপড়ের দোকানগুলোতে স্থান পেয়েছে।
ছেলেদের পোশাক: ছেলেদের জন্য শপিং মলগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে বাহারি সব ডিজাইনের শার্ট, পাঞ্জাবি, পাকুয়া পাঞ্জাবি, নবীন পাঞ্জাবি, বডিগার্ড শার্ট, ব্যান কালার শার্ট, বোর্ড শার্ট, ন্যারো শার্ট, ফোল্ডিং শার্ট, ন্যারো টি-শার্ট এবং ওয়াশ কাপড়ের শার্ট। এগুলোর দাম ৫৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্যান্টের মধ্যে রয়েছে- ক্রেপ জিন্স, থাই জিন্স, স্টোন ফেইড জিন্স, ন্যারো গ্যাবার্ডিন, এক্সপোর্ট প্যান্ট, মোবাইল গ্যাবার্ডিন। ছেলেদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে- পাগলু টু, টিস্যু প্যান্ট ও রকি ভাই সেট। এ নতুন মডেলের সেটগুলোর দাম রাখা হচ্ছে ৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা।
মেয়েদের যত পোশাক: মেয়েদের জন্য রয়েছে ফুলকলি, লেহেঙ্গা, ঝিলিক, খুশি, আকসারা, পরী, বেবি স্কার্ট, টু পার্ট স্কার্ট, ফ্রক, ধুতি সেট, শাইনশান, থ্রি-পিস, লং ফ্রক, জিপসি ও রানী ফ্রক। এর মধ্যে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে লেহেঙ্গা, শাইনশান, আকসারা, রানী ফ্রক ও ধুতি সেট। এ সেটগুলোর দাম রাখা হচ্ছে সাড়ে ৭শ’ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। অবশ্য আরও বেশি দামের সেটও রয়েছে কিছু। আছে সালোয়ার-কামিজ। জামদানি, টাঙ্গাইল চিত্রা, খাদি, টাঙ্গাইল সফট সিল্ক, বুটিকস, বালুচুরি, মার্চ স্টাইচ কটন, হাফ সিল্ক, সুতি, এন্ডি সিল্ক, এন্ডি কটন, এন্টিকস, রাজশাহী সিল্ক, টুয়েল কটন, বিভিন্ন ধরনের তাঁতের শাড়িসহ দেশীয় প্রায় সব ধরনের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। লাল, মেজেন্ডা, বেগুনি, কমলা, রয়াল ব্লুর মতো উজ্জ্বল রঙের পাশাপাশি হালকা আকাশি, গোলাপি, লেমন, হালকা হলুদ, সবুজ এবং সাদা রঙের নানা পোশাক শোভা পাচ্ছে শপিং মলগুলোতে। প্রায় সব মার্কেটেই ছেলেমেয়ে, নবীন-প্রবীণ, শিশু-কিশোর সবার জন্যই রয়েছে হরেক রকম পোশাকের সমারোহ।
শিশু-কিশোরদের পোশাক: শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে- বাবা সেট, রকি ভাই, পাগলু টু, ডোরেমন সেট, ডোরেমন অ্যাংকর সেট, কিডসের গেঞ্জি, জিন্স কোয়ার্টার এবং রঙ-বেরঙের শার্ট ও পাঞ্জাবি। শিশুদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে বাবা সেট, রকি ভাই, পাগলু টু, ডোরেমন অ্যাংকর সেট।
জানা গেছে, ভারতের কলকাতা, দিল্লী ও বোম্বে থেকে আমদানি করা হয়েছে এসব কাপড় ও থ্রি-পিস। ঈদ মার্কেটে রকমারি পোশাকের চাহিদা যেভাবে বাড়ছে তাতে শেষ পর্যন্ত সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশংকা করছেন।