ময়মনসিংহে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ‘রণ প্রস্তুতি’ শুরু এখন থেকেই
মহিউদ্দিন আহাম্মদ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৫
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন থেকেই ‘নির্বাচনী রণ প্রস্তুতি’ শুরু করে দিয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে এবং ভোটারদের মন জয় করতে অনেকেই জোরালোভাবে তত্পর হয়েছেন। তবে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলেই অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিতে শুরু করেছে। দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় তারা অভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, ইফতার মাহফিলসহ আলাদা আলাদা শো-ডাউন করতে শুরু করছেন।
৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার একাংশ মিলে ১২টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭টি ও বিএনপি ৫ আসনে জয়ী হয়েছিল। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ৫টি এবং বিএনপি ৭টি আসন পায়। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে ১১টি আসনের সবগুলোতেই জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। আসন্ন নির্বাচনে জেলায় ১১টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন হবে।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নির্বাচনী প্রচারণায় কিছুটা ব্যতিক্রম রয়েছে। ইতিমধ্যে ডিজিটাল ব্যানার, রঙ্গিন পোস্টার, ফেন্টুন দিয়ে প্রচরণা শুরু করে দিয়েছেন স্ব স্ব দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৮ হাজার। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন, ফারুক আহাম্মেদ খান, অধ্যক্ষ হেলালউদ্দিন, এডভোকেট আব্দুল মান্নান, উপজেলা চেয়ারম্যান ফুরকার উদ্দিন সেলিম মৃধা এবং বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আফজাল এইচ খান, ইমরান সালেহ প্রিন্স, উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আজগর, ব্যারিস্টার তমিজ উদ্দিন মনোনয়ন চাইবেন। অন্য দলের প্রর্থীদের তেমন তত্পরতা নেই। ময়মনসিংহ-২ আসন ফুলপুর ও তারাকন্দা এলাকার ৩ লাখ ৯২ হাজার ভোটার নিয়ে। এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি হায়াতুর রহমান বেলাল, মরহুম শামসুল হকের ছেলে শরীফ আহম্মেদ, ব্যারিস্টার আবুল কালাম আজাদ, আতাউল করিম রাসেল এবং বিএনপির সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার, মোতাহার হোসেন তালুকদার, ছিদ্দিকুর রহমান, জাপার নূর মোহাম্মদ নূরু মনোনয়ন চাইবেন। ময়মনসিংহ-৩ আসন গৌরীপুর উপজেলার ২ লাখ ৪ হাজার ভোটার নিয়ে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) মুজিবুর রহমান ফকির বর্তমান এমপি। আগামী সংসদ নিবার্চনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি ছাড়াও সাবেক ভিসি ড. শামীউল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আহমেদ খান পাঠান সেলভি, এডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহাম্মেদ, শরীফ হাসান অনু, এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন এবং বিএনপির সাবেক এমপি এডভোকেট এএফম নজমুল হুদা, ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন, আলহাজ্ব মকবুল হোসেন, ফয়সাল আমিন খান, শহিদুল আরেফিন খোকন, জাপার ফখরুল ইমাম মনোনয়ন চাইবেন। অন্যদিকে ময়মনসিংহ-৪ আসন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ও পৌরনসভাসহ ৫ লাখ ৪ হাজার ভোটার নিয়ে। এখানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান এমপি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান ফকির, পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু, ডা. এমএ আজিজ এবং বিএনপি’র দক্ষিণ জেলা সভাপতি সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হেসেন, সাবেক এমপি দেলোয়ার হোসেন খান দুলু, আবু ওয়াহাব আকন্দ মনোনয়ন চাইবেন। অন্যদিকে জাপার রওশন এরশাদ, কমিউনিস্ট পার্টির এডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে ২ লাখ ৭০ হাজার ভোটার। বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কে এম খালিদ বাবু, উপজেলা চেয়ারম্যান বদর আহাম্মেদ, পৌর মেয়র আব্দুল হাই, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ ঘোষ বাপ্পী, সেলিমা সোবাহান খসরু এবং বিএনপি’র জাকির হোসেন বাবলু এই আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। ময়মনসিংহ-৬ আসন ফুলবাড়ীয়া উপজেলা ও একটি পৌরসভার ২ লাখ ৯৪ হাজার ভোটার নিয়ে গঠিত। এ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি এডভোকেট মোসলেমউদ্দিন, এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, এডভোকেট মফিজউদ্দিন চেয়ারম্যান, আব্দুল মালেক সরকার, এমএ কুদ্দুস, গোলাম মোস্তফা তপন এবং বিএনপি থেকে ইঞ্জিনিয়ার শামসুউদ্দিন আহমেদ, আকতারুল আলম ছাড়াও জামায়াতের অধ্যাপক জসিম উদ্দিন মনোনয়ন চাইবেন। ময়মনসিংহ-৭ আসনটি পৌরসভাসহ ত্রিশাল উপজেলার ২ লাখ ৭৩ হাজার ভোটার নিয়ে। আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি এডভোকেট রেজা আলী, সাবেক এমপি হাফেজ মাওলানা রুহুল আমীন মাদানী, সাবেক এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক আবদুল মতিন সরকার, পৌর মেয়র এবিএম আনিসুজ্জামান, ব্রিগেডিয়ার নজীব হাসান এবং বিএনপি’র ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, শাহজাহান চেয়ারম্যান, প্রয়াত খালেক এমপি’র ছেলে মনোয়ার হোসেন ছাড়াও জাপার এমএ হান্নান মনোনয়ন যুদ্ধে নামবেন। ময়মনসিংহ-৮ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভাসহ ২ লাখ ৩৯ হাজার ভোটার নিয়ে গঠিত। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি আবদুস সাত্তার, আবু বক্কর সিদ্দিক দুলাল, শাফায়েত হোসেন ভুঁইয়া, উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট সুমেন্দ্র কিশোর চৌধুরী, মাহমুদুল হাসান সুমন এবং বিএনপি’র সাবেক এমপি শাহ নুরুল কবীর শাহীন, এডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল, লুত্ফুল নাহেদ মাজেদ ওরফে কালা বাবু মনোনয়ন চাইবেন। ময়মনসিংহ-৯ আসনে (নান্দাইল) মোট ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার। আওয়ামী লীগের এমপি মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম, এডভোকেট আব্দুল হাই, আব্দুল মালেক চৌধুরী স্বপন, আনোয়ারুল আবেদীন তুহিন এবং বিএনপির সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরী, একেএম রফিকুল ইসলাম ছাড়াও জাপার আব্দুল হাকিম ভুঁইয়া মনোনয়ন চাইবেন।
ময়মনসিংহ-১০ আসন পৌরসভাসহ গফরগাঁও উপজেলা মিলে ২ লাখ ৯০ হাজার ৭শ ২৩ জন ভোটার নিয়ে গঠিত। আওয়ামী লীগের এমপি ক্যাপ্টেন (্অব.) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, বাকৃবি’র সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল, পৌর মেয়র এডভোকেট কায়সার আহমেদ, এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এবং বিএনপি’র সাবেক এমপি ফজলুর রহমান সুলতান, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শিল্পপতি সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক আবুল কাশেম, জাপার কারী হাবিবুল্লাহ বেলালী মনোনয়ন চাইবেন। অন্যদিকে ময়মনসিংহ-১১ আসনে পৌরসভা ও ভালুকা উপজেলার ২ লাখ ৬৫ হাজার ভোটার নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান এমপি ডা. এম আমানউল্লাহ, ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কাজিমউদ্দিন আহাম্মেদ ধনু, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নেতা ইঞ্জিনিয়ার মো. মহিউদ্দীন, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লব, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ সদস্য শাহ্ মো. আশরাফুল হক জজ এবং বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ভালুকা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ফখরউদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম, জিয়া ব্রিগেডের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য আবুল হোসেন ছাড়াও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোজাম্মেল হক দলীয় মনোনয়ন চাইবেন।
এসব সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন থেকেই দলীয় মনোনয়ন যুদ্ধে নামার জন্য জোরালো প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।