ব্যক্তিগত কাজে জাবির গাড়ি ব্যবহার ছাত্রলীগ নেতাদের
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৫
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িগুলো ছাত্রলীগ নেতারা প্রায়ই রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। নিয়ম না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তাদের গাড়ি বরাদ্দ দেন। সর্বশেষ গত রবিবার ইফতার পার্টিতে অংশ নিতে এবং দলীয় কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহারের এখতিয়ার আছে কিনা এমনটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো সমস্যা নাই। আমরা গাড়ি ব্যবহার করতেই পারি।’
সর্বশেষ ওই গাড়িটি বিশ্ববিদালয়েরই প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক আফতাব আহমেদ ‘জরুরি ভিত্তিতে’ প্রদানের সুপারিশ করেন বলে জানা গেছে।
গত রবিবার ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তার অনুসারীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা মেট্রো-চ-৫৩-২২৩১ মাইক্রোবাসটি নিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যান। তারা রাজধানীর বেইলি রোডে অফিসার্স ক্লাবে এক ইফতার পার্টিতে অংশ নেন। এরপর পল্টন এলাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চানখারপুল, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরেন বলে জানা যায়। বিধি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি কোনো ছাত্র সংগঠন, ছাত্রনেতা বা ছাত্র ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করতে পারেন না। কিন্তু নিয়ম ভঙ্গ করে প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি, চালক ও তেল ব্যবহার করছেন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনটির নেতারা।
রবিবার ওই গাড়িটির চালক ছিলেন আলাউদ্দিন। তিনি গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রো-ভিসি স্যার বলার পর পরিবহন অফিস থেকে আমাকে পাঠিয়েছে। ওই গাড়িতে করে নেতারা ঢাকায় গিয়েছে। তারা বেইলি রোডে অফিসার্স ক্লাবে ইফতার পার্টিতে অংশ নেয়। এরপর বিভিন্ন জায়গায় যায়। আমি শুধু গাড়ি চালিয়েছি।’
মাইক্রোবাসে কারা কতক্ষণ চড়েছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গাড়িতে ছাত্রলীগের সভাপতি জনি ও তার সাথে কয়েকজন ছিলেন। রবিবার বিকাল ৪টায় গাড়ি বের করি, রাত ১টা ২০ মিনিটে তা জমা দেই।’
পরিবহন শাখার এক কর্মকর্তা জানান, জনিসহ ছাত্রলীগের নেতারা প্রায়ই গাড়ি নিয়ে যান। এর কোনো হিসাব থাকে না। রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি জরুরি ভিত্তিতে একটি গাড়ি একদিনের জন্য রিকুইজিশন চান। ওই গাড়ি নিয়ে জনি ও নেতা-কর্মীরা ঢাকায় যান।
ইত্তেফাকে হস্তগত এক ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, জনির সাথে ওই গাড়ি ব্যবহার করেন ছাত্রলীগের জাবি শাখার সহ-সভাপতি কায়কোবাদ, জুনায়েদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিঠুন কুন্ডু, দপ্তর সম্পাদক সাঈফসহ কয়েকজন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান জনি বলেন, ‘আমাদের হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জের) পরিষদের ইফতার পার্টি ছিল বেইলি রোডে। সেখানে যাওয়ার জন্য আমি গাড়িটি একদিনের জন্য রিকুইজিশন নিয়েছিলাম। এছাড়া কিছু সাংগঠনিক কাজও ছিল। সেইজন্যও গাড়িটি দরকার ছিল।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখার পরিচালক খায়রুল বসর গতকাল বলেন, ‘ছাত্রনেতারা প্রায় সময়ই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে গাড়ি নেয়। রবিবারও নিয়েছিল। কেউ নিয়ম মানে না। এটাই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক আফতাব আহমেদ দাবি করেন, তিনি গাড়ির রিকুইজিশন দেননি। তবে পরিবহন শাখার সংশ্লিষ্টরা এবং গাড়ির চালক বলছেন, প্রো-ভিসি বলার পরই তারা ছাত্রলীগ নেতাদেরকে গাড়ি ব্যবহার করতে দিয়েছেন।
আফতাব আহমেদ বলেন, ছাত্রদের সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠনগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সুপারিশক্রমে জরুরি প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরেই রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলো বিশ্ববিদালয়ের গাড়ি ব্যবহার করছে। নিয়ম না থাকলেও এটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। তবে এটি এখন অনেক কমেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জনগণের অর্থে কেনা তেল পুড়িয়ে ছাত্রনেতারা যেভাবে ঘুরে বেড়ায়, তা মেনে নেয়া যায় না। সভ্য সমাজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি হতে পারে না। শুধু এ সরকারের সময় নয়, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেও ছাত্রদল নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করেছে।