এবার ঈদ স্পেশাল সার্ভিস দিচ্ছে না বিআইডব্লিউটিসি!

সরকারি সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি দক্ষিণাঞ্চলে ‘ঈদ স্পেশাল সার্ভিস’ -এ জাহাজ দিতে পারছে না এবার। একের পর এক জাহাজ বিকল হওয়ার কারণে স্পেশাল সার্ভিস তো দূরের কথা, এবার নিয়মিত সার্ভিসেও সরকারি জাহাজে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরে ফেরা হবে না। এই সুযোগে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জিম্মি করে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বেসরকারি লঞ্চ মালিকরা। যাত্রীরা বেসরকারি লঞ্চের টিকেটের জন্য ঘুরছেন; কিন্তু টিকেট যেন সোনার হরিণ। স্পেশাল সার্ভিস ঘোষণার আগেই বেসরকারি সব লঞ্চের টিকেট উধাও হয়ে গেছে। বিআইডব্লিটিসির জাহাজ ‘পিএস মাহসুদ’ ৩ মাস ধরে নারায়ণগঞ্জ ডর্ক ইয়ার্ডে পড়ে আছে। একই ডর্ক ইয়ার্ডে ‘এমভি সোনারগাঁও’ বছরের পর বছর পড়ে আছে সংস্কারের নামে। এর মধ্যে সংস্থার সর্ববৃহত্ জাহাজ হিসাবে পরিচিত ‘এমভি সোনারগাঁও’ কয়েক বছর আগে রেলওয়ে থেকে সোনার দামে কেনা হয়েছিল। কেনার পর থেকেই জাহাজটি সার্ভিসের পরিবর্তে খুলনা ও নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে রেখে সংস্কারের নামে কয়েক গুণ টাকা খরচ করা হয়। এখন নিলামে বিক্রি ছাড়া উপায় নেই বলে সংস্থার কর্মকর্তারা জানান। অপর জাহাজ গুলোর অবস্থাও করুণ। ‘পিএস লেপচা’ ২২ জুলাই পিরোজপুরে ও ‘পিএস অস্ট্রিচ’ পরদিন বরিশালে বিকল হয়ে পড়ে। বিআইডব্লিউটিসি নির্বাহী প্রকৌশলী কমল মিত্র জানান, অস্ট্রিচের একাধিক যন্ত্রাংশ ভেঙে গেছে। যন্ত্রাংশ পেতে দেরি হলে জাহাজটি পুনরায় সার্ভিসে আনা কঠিন হয়ে পড়বে। বাতিলযোগ্য শেলা অনেক আগেই যাত্রীদের আস্থা হারিয়েছে। এখন শুধু ঢাকা থেকে মোড়েলগঞ্জ পর্যন্ত যাতায়াত করছে ‘পিএস টার্ন’। ঈদের বাকী মাত্র ১০ দিন। এখনো ঢাকা-বরিশাল রুটের ৬টি জাহাজের মধ্যে ৪টি জাহাজ বিকল হয়ে পড়ে আছে। বরিশাল-চট্টগ্রাম রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে দুই বছর ধরে। গত ঈদে এ রুটে স্পেশাল সার্ভিস ঘোষণা করা হলেও জাহাজ সংকটের কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ রুটে চলাচলকারী এমভি বার আউলিয়া, এমভি মনিরুল হক, এম ভি রাঙাবালী দীর্ঘ দিন যাবত্ কর্ণফুলী ডর্ক ইয়ার্ডে পড়ে আছে। সংস্থাটি এবার ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে ফেরি সার্ভিস পরিচালনা করেও লোকসান দিয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। যদিও সংস্থার কর্তা ব্যক্তিদের দাবি, ঐ টাকা লোকসান দেয়ার পর তারা যাত্রী পরিবহনে আরিচা-দৌলতদিয়া ও মাওয়া রুটে লোকসান পুষিয়ে লাভের মুখ দেখছে। ঈদ স্পেশাল সার্ভিস নিয়ে সংস্থার এজিএম গোপাল মজুমদার জানান, অচল জাহাজ সচল করে ঈদ স্পেশাল সার্ভিস দেয়ার জন্য তারা এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২২ জুলাই ঢাকায় সভা হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে ঐ সভায় জাহাজ সংকটের কারণে সিডিউল তৈরি করা যায়নি বলে তিনি জানান। এদিকে, বিআইডব্লিউটিসির জাহাজ না থাকায় এবার লঞ্চ মালিকরা ভাড়া আদায় করছেন ইচ্ছা মাফিক। ডেকের ভাড়া কমানোর প্রচার-প্রচারণা চালান হলেও পকেট কাটা হচ্ছে কেবিনের যাত্রীদের। ডাবল কেবিনের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ২২শ টাকা! সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা। নিম্নমানের লঞ্চে ডেকের ভাড়া যাত্রী প্রতি চারগুণ থেকে ৬ গুণ আদায় করা হচ্ছে।