র্যাবের দায়ের করা অস্ত্র মামলা থেকে লিমনকে অব্যাহতি
রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২৩:০৮
র্যাবের দায়ের করা অস্ত্র মামলা থেকে লিমন হোসেনকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক কিরণ শংকর হালদার এ আদেশ দেন। এদিকে বিচারক না থাকায় লিমনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদানের অপর মামলাটির আদেশ দেয়া হয়নি। ওই মামলার আদেশের জন্য ১৮ আগস্ট ধার্য করা হয়।
গতকাল আদালতে লিমন ও তার মা হেনোয়ারা বেগম এবং লিমনের আইনজীবী নাসির উদ্দিন কবির, নাসিমুল হাসান, মানিক আচার্য্য ও আক্কাস সিকদার উপস্থিত ছিলেন। কাউখালীর ভাড়া বাসা থেকে সকালে লিমন তার মায়ের সঙ্গে কৃত্রিম পায়ে ভর করে আদালতে হাজির হন।
পিপি আবদুল মান্নান রসুল জানান, গত ৯ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৬ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত আদেশ ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছায়। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে (পাবলিক প্রসিকিউটরকে) অনুরোধ করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ২১ জুলাই সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করেন তিনি।
অস্ত্র মামলা থেকে লিমন অব্যাহতি পেলেও সন্ত্রাসী মোর্শেদ জমাদ্দারসহ অপর সাত আসামির বিরুদ্ধে যথারীতি মামলা চলবে বলে পিপি জানান। অপরদিকে ছয় র্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে লিমনের মায়ের দায়ের করা লিমন হত্যা প্রচেষ্টা মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তার আইনজীবীরা।
মামলা থেকে অব্যাহতির প্রতিক্রিয়ায় লিমন সাংবাদিকদের বলেন, আমি নিরাপরাধ তাই ন্যায়বিচার পেয়েছি। তবে আমাকে চিরতরে পঙ্গু করা র্যাব সদস্যদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি পুরোপুরি খুশি না। মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লিমন ধন্যবাদ জানান।
২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুরের কলেজ ছাত্র লিমন হোসেন বাড়ির পাশে মাঠে গরু আনতে গেলে র্যাবের কথিত বন্ধুকযুদ্ধে আহত হয়। চিকিত্সকরা তাকে বাঁচাতে তার বা পা কেটে ফেলেন। এ ঘটনায় র্যাব লিমনের বিরুদ্ধে রাজাপুর থানায় দুটি মামলা দায়ের করে। একটি অস্ত্র আইনে, অপরটি সরকারি কাজে বাধাদান অভিযোগে।