সংকট নিরসনের জন্য ইইউ প্রতিনিধি মিসরে গেলেন
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০১৩, ২৩:০৮
মিসরে আবার জরুরি অবস্থা জারি করা হতে পারে। গত রবিবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেসিডেন্ট আদলি মনসুর প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বেবলাউয়িকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতা দিয়েছেন। ২০১১ সালে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের আমলে প্রায় ৩০ বছর ধরে জরুরি অবস্থা বলবত্ থাকে দেশটিতে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাস্টন সংকট নিরসনে মিসরে গেছেন। তিনি সবপক্ষকে অচল অবস্থা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে গতকাল সোমবার চলতি মাসে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থকরা সেনা গোয়েন্দা দপ্তর অভিমুখে মিছিল করেছে। তবে কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।
মিসরে জরুরি অবস্থা জারির বিরোধিতা করছে মুরসি বিরোধীরা। অনেকেই আবার জরুরি অবস্থায় ফিরে যেতে চায় না। জরুরি অবস্থা জারি হলে নাগরিকরা প্রকাশ্যে সরকার বিরোধী কথা বলতে পারবেন না এবং পুলিশকে নির্বিচারে গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়া হবে। গতকাল রাজধানী কায়রোর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান সেনা গোয়েন্দা দপ্তর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির পথে এবং বিমান বন্দর রাস্তায় মিছিল করেছে মুরসিপন্থীরা। মুরসিকে প্রেসিডেন্ট পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত সমর্থকরা তাদের অবস্থান বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, রাবা আল আদাউইয়া মসজিদের চারপাশ থেকে সরে না গেলে শিগগিরই বিতারণ করা হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাস্টন সংকট নিরসনে মিসরে গেছেন। তিনি বর্তমান সংঘাত নিরসনে সরকার ও বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন।
ব্রাদারহুডের একজন মুখপাত্র জেহাদ আল হাদাদ জানান, গতকাল সেনা দপ্তরে মিছিল নিয়ে গেলেও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হয়নি এবং কোনো ধরনের সংঘাত হয়নি। তিনি বলেন, ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য গোয়েন্দা দপ্তরের ভবন ঘিরে রাখা হয়। তবে ভবনের কাছে পৌঁছানোর আগে অনেক সমর্থক মিছিল থেকে চলে যায়। তারা মঙ্গলবার আরো বড় ধরনের বিক্ষোভ করার পরিকল্পনা করছেন। ফিলিস্তিন জঙ্গি সংগঠন হামাসের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা এবং কারাগার থেকে পলায়নের এক মামলায় মুরসিকে ১৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তবে তাকে কোথায় রাখা হয়েছে সেই বিষয়ে কিছু জানায়নি সরকার।