উপকূলীয় রুটে জাহাজ চলাচল অনিয়মিত

জরাজীর্ণ জাহাজ, বাড়তি ভাড়া ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলাচল অনিয়মিত হওয়ায় উপকূলীয় রুটে যাত্রী কমছে অস্বাভাবিকভাবে। বলা চলে নৌ-রুটটি প্রায় বন্ধ হতে বসেছে। ঈদের মধ্যেও যাত্রীদের টিকিট নিয়ে নেই কোন ব্যস্ততা। বিকল্প যাত্রা ব্যয়বহুল হলেও সেটিই বেছে নিচ্ছে উপকূলীয় ও দ্বীপ অঞ্চলের যাত্রীরা। বিআইডব্লিউটিসি জানায়, ঈদে উপকূলীয় যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব করতে রুটে চলাচলকারী তিনটি জাহাজই মেরামত করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি চালু রয়েছে। অপরটি ঈদের চার থেকে পাঁচ দিন আগে চালু করা হবে। তবে সংস্থার অন্যান্য সূত্র থেকে জানা গেছে, এই রুটে চলাচলকারী এমভি মতিন ও এমভি মনিরুলে এখনো ভলবো ইঞ্জিন রয়েছে। আর এমভি বার আউলিয়া চীনের তৈরি ইঞ্জিন লাগানো হয়েছে। সুইডেনের তৈরি ভলবো ইঞ্জিন কম্পিউটারাইজড সিস্টেমে পরিচালিত হয়। ভলবো ইঞ্জিনের কোন যন্ত্রাংশ এখন বাজারে পাওয়া যায় না। যানবাহনে ভলবো ইঞ্জিনের ব্যবহার অনেক আগেই উঠে গেছে। এগুলোর দাম অনেক বেশি। ইঞ্জিন চালু ও বন্ধ সবকিছু কম্পিউটারের মাধ্যমে করা হয়। কিন্তু কম্পিউটারাইজড সিস্টেমে ইঞ্জিন চালানোর মতো দক্ষ জনবল বিআইডব্লিউটিসি চট্টগ্রাম কার্যালয়ে নেই। ত্রুটির কারণে যাত্রার মাঝপথে জাহাজের ইঞ্জিন অচল হয়ে পড়লে পুনরায় চালু করা অনেক সময়ই দুরূহ হয়ে পড়ে। আর এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটার কারণে যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যাপারে সব সময় অনিশ্চয়তায় থাকেন। সূত্র জানায়, প্রত্যেকটি জাহাজের যাত্রী ধারণের ক্ষমতা প্রায় ৩০০ জন। আর পণ্য পরিবহন করতে পারে প্রায় ১৫০ টন। যাত্রী ও পণ্য পরিবহন দু’টিই কমে গেছে। প্রতি যাত্রায় ২০ থেকে ২৫ টনের বেশি পণ্য পাওয়া যায় না। অথচ পর্যাপ্ত জাহাজ দিয়ে এই রুট চালু রাখা গেলে বছরে বিপুল পরিমাণ আয় করা সম্ভব। উপকূলীয় ১৩টি জেলার জনগোষ্ঠী এখনো নৌ-পথের যাত্রার উপর নির্ভরশীল। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় যাত্রীরা নৌ-পথের যাত্রা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। চাপ বাড়ছে সড়ক পথের উপর। এরই মধ্যে গত বছর নৌ-পথে ৪০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। জীবিকার তাগিদে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অসংখ্য মানুষ চট্টগ্রামে বসবাস করেন। নৌ-পথে নানা সংকটের কারণে উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শনি, সোম ও বুধবার চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে জাহাজগুলো সন্দ্বীপ হয়ে হাতিয়া পর্যন্ত যাতায়াত করে। জাহাজ ও যাত্রী সংকটের কারণে বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে সপ্তাহে মাত্র তিনদিন যাত্রী পরিবহন করা হয়। এক সময় চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিসির জাহাজের মাধ্যমে নৌ-পথে যাত্রী পরিবহন করা হতো। সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় বরিশাল পর্যন্ত এখন জাহাজ চলাচল করে না।