কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

সৃজনশীল মেধায় প্রথম জেবা

ছোট্ট একটা পড়ার টেবিল। তাতে ক্লাসের বই নেই বললেই চলে। মাসুদ রানা, তিন গোয়েন্দা সিরিজ, আর্ট পেপার আর অন্যান্য সব বইয়ে ভরপুর টেবিলটি। আর এই টেবিলে লেখাপড়া করেই ক্লাসে প্রথম হয়েছে মেয়েটি। বলছিলাম আফিয়া আঞ্জুম জামান জেবার কথা। লেখাপড়ায় কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। আর পরীক্ষায় ১ম হওয়া মেয়েটি এখন ক্লাসের গণ্ডি পেরিয়ে ১ম হলো বাংলাদেশের সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিয়োগিতা ২০১৩ এর ‘ক’ গ্রুপে বাংলাদেশ স্টাডিজে। সমপ্রতি ওর হাতে এই যোগ্যতার সম্মান তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘যখন জানতে পারলাম আমিই প্রথম হয়েছি, কেন যেন নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কেঁদে ফেলেছিলাম। খুব কেঁদেছিলাম। আনন্দে...। তবে নিজের প্রতি একটা বিশ্বাস ছিলো, এতদূর যখন এসেছি তখন এর শেষটাও দেখতে চাই।’ এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেললো মেয়েটি। মা, ছোট কাকু, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বন্ধু-বান্ধবী আর বিশেষ করে বাবা’র একান্ত অনুপ্রেরণা, দিকনির্দেশনা আর প্রচেষ্টায় এই অর্জনের মূল উত্স বলে জানায় জেবা। বাবা ইদ্রিস-উর-জামান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক। মা জেসমিন আরা গৃহিণী। ছোট ভাই ইশরাক জামান রাফি আর ছোট কাকু মকলেছুর রহমানকে নিয়ে ছোট্ট পরিবারের একমাত্র মেয়ে জেবা। তাই কখনো কোন ইচ্ছে অপূর্ণ রাখা হয়নি বলে জানান জেবার বাবা। তবে ওর অন্য ইচ্ছেগুলোর থেকে বই পড়ার ইচ্ছেটাই সব থেকে বেশি। সে যেকোন বই-ই হোক না কেন। আর তাইতো বোধকরি শুধুমাত্র বই কেনার জন্যই এই মেয়ে বাবার হাতে তুলে দিতে পারে ৭ হাজার টাকার বাজেট। তবে শুধু গল্পের বইয়ের প্রতিই যে মেয়েটির লকলকে লোভ তা কিন্তু নয়। যেকোন বৃত্তি পরীক্ষাতেই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া মেয়েটির ছোট থেকেই সমান দখল আছে গান আর আবৃত্তিতে। আর তাইতো মনের আনন্দে গেয়ে উঠতে দ্বিধা হয় না ‘একটুকু ছোঁয়া লাগে, একটুকু কথা শুনি।’ আর এই ছোঁয়া বোধ করি বই ছাড়া অন্য কিছুর না। আর কথা; সেতো বইয়ের ভাষা বৈকি অন্য কিছু হতেই পারে না। কেননা বই ওর রক্তে মিশে আছে।