তাসনিমুল হাসান প্রান্ত
শুরুটা হয়েছিল ২০০৮ সালে। রাশেদুল ইসলাম সজলের বয়স যখন ১০ বছর, হঠাত্ কিডনিতে ইনফেকশন ধরা পড়ে। চিকিত্সকরা শারীরিক কসরত করার পরামর্শ দেন। তখন তার বাবা ওস্তাদ হায়দার আলীর অধীনে মণিরামপুরের ইয়াং ড্রাগন মার্শাল আর্ট সেন্টারে ভর্তি করে দেন। সে নিয়মিত প্রাকটিস করতে থাকে। মণিরামপুর জমাশার মার্শাল আর্ট সেন্টারেও সে প্রাকটিস করে। সঙ্গে চালিয়ে যায় লেখাপড়া।’
২০১৪ সালে মণিরামপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন রাশেদুল। বাস শ্রমিক বাবা জাকির হোসেনের আগ্রহে মণিরামপুর কলেজ থেকে ২০১৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ওই কলেজেই অনার্সে অর্তি হন। আর স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দক্ষতার সঙ্গে জয় করেন একের পর এক বিভিন্ন পদক।
হঠাত্ তার সুযোগ আসে কাঠমুন্ডুতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার। কিন্তু তার যেতে হবে নিজের খরচে। যা সজলের পক্ষে যোগাড় করা ছিল বেশ কঠিন। তবে তার বাবা তাকে আশা দেন বলেন, ‘তুমি চেষ্টা করো টাকা জোগাড় হয়ে যাবে।’ ওস্তাদ হায়দার আলী তাকে ঢাকায় আলহাজ মকবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কারাতে ক্লাবে পাঠিয়ে দেন। সেখানে প্রশিক্ষক আল মামুন তার খেলা দেখে বিনা খরচে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেন। সেখানে এক মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে সে কাঠমুন্ডুর উদ্দেশে যাত্রা করে।
‘কাঠমুন্ডুতে ১৯টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করে। সজল কারাতে ও জমাশার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ২০১৭ সালের ১৫ থেকে ১৮ জুন অনুষ্ঠিত সেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সজল দুই বিভাগেই স্বর্ণপদক জয় করে। তারপর থেকেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জয় করে চলছে একের পর এক পদক। আক্ষেপ করে এই স্বর্ণজয়ী কারাতে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ফুটবল, ক্রিকেটের দিকে নজর আছে। কিন্তু মার্শাল আর্টের মতো সেক্টরে যদি সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করে তাহলে বাংলাদেশ অবশ্যই বিশ্ব আসরে চ্যাম্পিয়ন হবে।’