শাপলা ফোটার দিন

সদস্য নম্বর: ৭৬৯ আষাঢ়-শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল। বর্ষাকাল মানেই শাপলা ফোটার দিন। শুধুই কি শাপলা? কদম, টগর, লিলি, কেয়া, কলাবতী সব বর্ষাকালের ফুল। শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল। বাংলাদেশের অন্যতম ঋতু বর্ষাকাল। যা চোখে পড়ার মতো। চারদিকে পানি আর পানি। বর্ষা, বর্ষার ফুল নিয়ে বড় বড় কবি-লেখকদের অনেক গল্প, কবিতা ও গান রয়েছে। এসব পড়ে আমরা বাংলাদেশের প্রকৃতি, পরিবেশ ও ঋতু বৈচিত্র্য সমন্ধে জানতে পারি। গান গেয়ে আনন্দ পাই। সেবার বর্ষায় আমরা মামা বাড়িতে বেড়াতে যাই। নৌকায় ঘুরতে যাবো বলে সবাই বায়না ধরি। মামা বলেন, এবার তোমাদের এমন স্থান ও জিনিস দেখাবো যা আগে কখনো দেখনি। যেমন ভাবা তেমন কাজ। বড় মামার নেতৃত্বে আমরা পরিবারের সবাই খোলা নৌকায় ওঠে বসলাম। বড় মামী কিছু মজাদার খাবার ও পানি সাথে নিলেন। দুই পাশে ধানক্ষেত, মাঝখান দিয়ে নৌকা চলছিল। ঈদী, বেবী মনের সুখে ছড়া কাটছিল। ‘বর্ষার জল করে টলোমল/বর্ষার জলে হাঁস খেলা করে।’ বেশ কিছুদূর যাওয়ার পর ছোট্ট মোবাশ্বির চিত্কার করে উঠে। বাগান, ফুলের বাগান। পানির উপর এতো ফুল গাছ কে লাগিয়েছে? আমরা সচকিত হয়ে তাকিয়ে দেখি, কখন যে ধানক্ষেত পেরিয়ে অসংখ্য শাপলা ও জলজ লতাগুল্মে ভরা ঝিলে এসে পৌঁছেছি। মোবাশ্বির বলে, মামা কে বানিয়েছে পানির উপর এমন সুন্দর বাগান? মামা বলেন, শাপলা ফুল প্রকৃতির দান। শুকনো মৌসুমে শাপলার মূল মাটির নিচে লুকিয়ে থাকে। বৃষ্টি ও বর্ষার পানি পেয়ে সেই মূল থেকে গাছ জন্মায়, ফুল ফোটে। সবুজ পাতা তার মধ্যে ফুটে থাকা অনেক অনেক ফুল। জ্যোত্স্না রাতে পানির উপর ভেসে থাকা রং-রেবঙের শাপলা ফুলকে আকাশের তারার মতো দেখায়। শাপলা যে শুধু ফুল তাই নয়। সবজি হিসাবেও খাওয়া যায়। বর্ষাকালে শহরের ফুলের দোকানে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে শাপলা, কদমসহ অন্যান্য ফুল বিক্রি করতে দেখা যায়। অনেকেই এই ফুল কিনে নিয়ে ঘরের শোভা বাড়ান। রাজধানীর ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে বিরাট আকৃতির মাপলার প্রতিকৃতি রয়েছে, যা আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য বহন করে। সেদিন আমরা অনেক রাতে বাড়ি ফিরেছিলাম। সবার চোখে-মুখে ছিল আনন্দের ছাপ। আর হাতে ছিল রং- বেরঙের শাপলা ফুল। দ্বিতীয় শ্রেণি সাইথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজ।